আগামী মাস থেকেই ব্যাংক হিসাবে জমা হবে `পেনশন`

আগামী মাস থেকেই ব্যাংক হিসাবে জমা হবে `পেনশন`

অবসরপ্রাপ্ত যেসব সরকারি চাকুরেরা ঢাকা মহানগর থেকে পেনশন উত্তোলন করেন, তারা চলতি আগস্ট মাসেই শেষবারের মতো প্রচলিত ব্যবস্থায় পেনশন তুলবেন। এরপর সেপ্টেম্বর থেকে ইএফটির মাধ্যমে ব্যাংক হিসেবে সরাসরি জমা করে দেওয়া হবে পেনশনের টাকা। আর ঢাকা মহানগরের বাইরে অবস্থিত ব্যাংক শাখা থেকে যেসব পেনশন দেওয়া হয়, তাদেরকে আগামী ডিসেম্বর থেকে ইএফটির মাধ্যমে ব্যাংক হিসাবে সরাসরি টাকা জমা দেওয়া হবে।

হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় সূত্রে এসব তথ্য জানা গেছে।

সরকারি চাকরিজীবীদের সারাজীবন চাকরি করে জীবনসায়াহ্নে পেনশনের টাকা তুলতে গিয়ে পদে পদে ভোগান্তিতে পড়তে হতো। তবে পেনশনে যাওয়া সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোগান্তি কমাতে ছুটি নগদায়ন মঞ্জুরির আদেশ বিল দাখিলের তিন কর্মদিবসের মধ্যে পেনশনভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে পেনশনের অর্থ দেওয়া হবে উলেস্নখ করে গত ফেব্রম্নয়ারিতে পেনশন সহজীকরণ আদেশ-২০২০ জারি করে অর্থ মন্ত্রণালয়।

তবে এখনও বাস্তবায়ন করা

\হসম্ভব না হলেও আগামী সেপ্টেম্বর মাস থেকেই এ নতুন আদেশের আওতায় নতুন ব্যবস্থায় হিসাব মহানিয়ন্ত্রকের কার্যালয় (সিজিএ) সরাসরি ব্যাংক একাউন্টে পেনশন দেবে। বাংলাদেশ ব্যাংক ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে পেনশনারের নিজের অ্যাকাউন্টে জমা করে দেওয়া হবে। গত দুই মাস ধরে পরীক্ষামূলকভাবে ঢাকায় এটি চালু হয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের শাখা থেকে পেনশন নেন এমন এক লাখ ৩০ হাজার পেনশনভোগীর ব্যাংক অ্যাকাউন্টে সরাসরি অর্থ পরিশোধের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। তাদের পেনশন বইয়ের যুগ শেষ হচ্ছে আগামী মাস থেকে।

সিজিএ অফিস জানিয়েছে, ঢাকা মহানগর থেকে যারা পেনশন নেন, তাদের আগস্ট মাসের পেনশন হবে প্রচলিত ব্যবস্থার শেষ পেনশন। এরপর সেপ্টেম্বর থেকে ইএফটির মাধ্যমে তার নিজের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি জমা হবে পেনশনের টাকা। ঢাকা মহানগরের ব্যাংক শাখা যাতে পেনশন বাবদ কোনো অর্থ না দেয় বা পুনর্ভরণ না করে সেজন্য ব্যাংকগুলোকে সিজিএ অফিস এক আদেশে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ঢাকা মহানগরের বাইরে অবস্থিত ব্যাংক শাখা থেকে যেসব পেনশন দেওয়া হয়, সেগুলো প্রচলিত ব্যবস্থায় নভেম্বর মাস পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে। ডিসেম্বরের পেনশন ইএফটির মাধ্যমে পেনশন গ্রহীতার নিজের ব্যাংক হিসাবে সরাসরি জমা করে দেওয়া হবে।

জানা গেছে, সিজিএ কার্যালয় থেকে বেসামরিক পেনশন ব্যবস্থাপনা করা হয়। অবসরপ্রাপ্ত সরকারি চাকরিজীবীরা যেখান থেকে অবসরে যান বা যেখান থেকে পেনশন তুলতে চান সেই জেলা বা উপজেলার হিসাবরক্ষণ অফিস থেকে পেনশন বই নেন। ওই এলাকার ব্যাংক শাখাগুলোতে পেনশনারদের তালিকা ও পেনশনের পরিমাণ দিয়ে একটি লিস্ট (যাকে ডি-হাফ বলা হয়) দেয় হিসাবরক্ষণ অফিস।

পেনশনভোগী ব্যক্তি হিসাবরক্ষণ অফিসে হাজির হয়ে পেনশনের মূল বইয়ে স্বাক্ষর করে ব্যাংকে হাজির হন। ব্যাংক নিজস্ব তহবিল থেকে টাকা দিয়ে দেয়। পরে সরকারের কাছ থেকে নির্দিষ্ট হারে কমিশনসহ পুনর্ভরণ নেয়। কিন্তু নতুন পদ্ধতিতে সিজিএ অফিস সরাসরি সরকারের তহবিল থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফারের (ইএফটি) মাধ্যমে পেনশনারের নিজের অ্যাকাউন্টে জমা করে দেবে। এতে করে পেনশন গ্রহীতার আর ব্যাংকেই যেতে হবে না।

বর্তমানে রাষ্ট্র মালিকানাধীন সোনালী, জনতা, অগ্রণী ও রূপালী ব্যাংকের মাধ্যমে সরকারের অবসরপ্রাপ্ত কর্মী ও তাদের উত্তরাধিকারীরা অবসর সুবিধা পেয়ে থাকেন। নতুন ব্যবস্থায় দেশের সরকারি, বেসরকারি যে কোনো ব্যাংকের হিসাবেই অবসর সুবিধা নিতে পারবেন তারা। বর্তমানে সারাদেশে প্রায় ৭ লাখ লোক অবসর সুবিধা গ্রহণ করছেন।