৪র্থ শ্রেণির জমজ দুই ভাই বাড়িতেই কোরআনের হাফেজ, ওয়েব ডিজাইনার ও ডেভেলপার

৪র্থ শ্রেণির জমজ দুই ভাই বাড়িতেই কোরআনের হাফেজ, ওয়েব ডিজাইনার ও ডেভেলপার

স্টাফ রিপোর্টার: বাড়িতে বসেই ৪র্থ শ্রেণির জমজ দুই ভাই ঘরোয়া পরিবেশে আল্লাহ্র বিশেষ রহমতে কোরআনের হাফেজ হয়েছে। নবাগত কোরআনের হাফেজ মুসআব বিন আব্দুল বারি এবং মুয়াবিয়া বিন আব্দুল বারি। তারা দুজনেই একই সাথে ৩০ পারা কোরআনের হাফেজ হয়েছে। কোরআনের ওই দুই হাফেজের পিতা মো. আব্দুল বারি খান এবং মাতা মোছা: তানজিনা পারভিন মিতা।  মো. আব্দুল বারি খান বিটিবি নিউজের সম্পাদক ও প্রকাশক। তার মা তানজিনা পারভিন মিতা বিটিবি নিউজের নির্বাহী সম্পাদক। নবাগত কোরআনের হাফেজ শিশু দুটি জন্মের আগে থেকে পিতার স্বপ্ন ছিল বাংলা, ইংরেজি মিডিয়ামে পড়ার আগেই নতুবা পড়া চলা কালীন কোরআনের হাফেজ বানানো। শিশু দুটি জন্মের পর থেকেই কোরআনের হাফেজ বানানোর জন্য তার বাবার ঝোক ও জেদ আরো বেড়ে যায়। শুরুর দিকে জমজ ওই সন্তান ছোট হওয়া সহ নানা কারণে মায়ের ভূমিকায় একটু বাধা থাকলেও বাবার জেদের কাছে তার মা হার মানিয়ে অবশেষে মা ও বাবার উভয়ের ঐক্লান্তি প্রচেষ্টায় তা সম্ভব হয়েছে। শুরুর দিকে ওই সন্তান দুটিকে মাদ্রাসায় ভর্তি করে দিলেও নানা কারণে মাদ্রাসায় বেশি দিন পড়ানো হয়নি। পরবর্তীতে তাদের নিজ বাড়িতে রেখে এবং স্কুলে ভর্তি করে দিয়ে ঘরোয়া পরিবেশে মৌলভী রেখে বাসাতেই পড়ানো শুরু করা হয়। কোরআন শিখাতে গিয়ে বিভিন্ন কারণে মৌলভী পাল্টাতে হয়েছে। বাড়িতে বসেই ১০ পারা কোরআন মুখস্থ করানো কালীন সময়ে মৌলভীদের একেক জনের নানা ভুলের কারণে প্রায় ২০ বার মৌলভী পাল্টাতে হয়েছে। মৌলভীসহ অনেকেই বলতো বাড়িতে বসে কোনভাবেই কোরআনের হাফেজ হওয়া সম্ভব নয়। প্রায় ১০ পারা মুখস্থ করানোর পর বিভিন্ন কারণে মৌলভী রাখা সম্ভব হয়নি। তবুও বাবা-মায়ের সহযোগিতায় নিজ উদ্যোগে ঘরোয়া পরিবেশে আল্লাহ্র বিশেষ রহমতে অবশেষে জমজ ওই দুই সন্তান ৩০ পারা কোরআনের হাফেজ হয়েছে। নানাভাবে তাদের কিছু সময় নষ্ট হলেও প্রায় ৩ বছরেই আল্লাহর অশেষ মেরেবাণীতে মুসআব ও মুয়াবিয়া ৩০ পারা কোরআনের হাফেজ হয়েছে। 
কোরআনের হাফেজ বনানোর ক্ষেত্রে যেসকল মৌলভী ও ব্যক্তিগণ সহযোগিতা করেছে এবং যারা সহযোগিতা করতে পারেননি তাদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা স্বীকার করে সন্তানের জন্য দোয়া চেয়েছেন পিতা-মাতা। 
মুসআব বিন আব্দুল বারি এবং মুয়াবিয়া বিন আব্দুল বারি ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র। বাড়িতে বসে তারা কোরআন শেখার পাশাপাশি স্কুলের পড়া, কম্পিউটার ও গেম প্রাক্টিস করতো। কোরআন শিক্ষা গ্রহণ এবং কম্পিউটার ব্যবহারের কারণে অনিয়মিত তারা স্কুলে যেতো। অনেকেই বলতো একসাথে কোরআন মুখস্ত করা, কম্পিউটার শেখা এবং স্কুলের পড়া কোনটিই একসাথে আয়ত্ব করা সম্ভব নয়। এতে করে সন্তানের মৃধা নষ্ট হয়ে যাবে। ব্রেইন নষ্ট হবে ইত্যাদি ইত্যাদিভাবে আত্নীয়-স্বজনসহ অনেকেই তার বাবা ও মাকে বলে থাকতো। তবুও কাহারো কথায় কর্ণপাত না করে কোন ব্যক্তির এধরনের ভুল পরামর্শের দিকে নজর না দিয়ে সন্তান দুটিকে বেশি প্রেশার ক্রিয়েট না করে স্বল্প সময়ের একটি সহজ সরল রুটিনের ফ্রেমে ফেলে তাদের কোরআনের হাফেজ বানানো সম্ভব হলো। গড়ে প্রতি দিন তারা প্রায় আড়াই ঘন্টা কোরআন শেখার কাজে সময় ব্যয় করতো।
সেই সাথে নবাগত কোরআনের হাফেজ মুসআব ও মুয়াবিয়া জমজ দুই ভা-ই কোন শিক্ষক বা প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই গ্রাফিক্স ডিজাইনার এবং ওয়েব ডিজাইনার, ডেভেলপার ও প্রোগ্রামার হওয়ার সুযোগ অর্জন করেছে। তারা নিজ উদ্যোগে গুগলের সহায়তায় প্রাক্টিক্যাল জীবনে গ্রাফিক্স, ওয়েব ডিজাইন, ডেভেলপারের জ্ঞান অর্জন করে। পরবর্তীতে তারা নিজেরাই ওয়েব ডিজাইন এবং ডেভেলপারের প্রশিক্ষক হয়ে ইউটিউব চ্যানেল বানিয়ে সেখানে বাংলায় এবং ইংরেজিতে ভিডিওগুলো তৈরি করে আপলোড করে যাচ্ছে ধারাবাহিতভাবে। তারা যে সকল ইউটিউব চ্যানেলে ভিডিওগুলো আপলোড করছে সে চ্যানেলগুলো হলো Bengali Tutorial এবং Pure Coding. আবার তারা দুজনেই ওয়েব ভিউ মোবাইল এ্যাপস বানানোর ক্ষেত্রেও বেশ পটু। তারা ক্ষুদে সাংবাদিকও বটে। তারা অনলাইন ওয়েব পোটাল এবং নিউজ প্রিন্ট পত্রিকার ডিজাইন ডেভেলপসহ নিউজ সংক্লান্ত অনেক কাজই করতে পারে। 
নবাগত কোরআনের হাফেজ মুসআব ও মুয়াবিয়ার সঙ্গে কথা হলে তারা বলে, আল্লাহ্ পাকের বিশেষ রহমতে আমরা কোরআনের হাফেজ হতে পেরে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করি। এতে করে আমাদের মনের প্রফুল্লতা বৃদ্ধি পেয়েছে। সকলের স্নেহ-ভালোবাস, দোয়া ও সহযোগিতা নিয়ে আমরা আপনাদের সম্পদ হিসেবে বেঁচে থাকতে চাই। কোরআন শিক্ষায় শয়তানের উৎপাত বেড়ে যায়। বার বার পড়ার মনোযোগি ছুটে যেতে চায়। তবুও আমরা বাবা-মার সহযোগিতায় হার মানিনি। অবশেষে আল্লাহ্তায়ালা আমাদের কবুল করেছেন। যে কোনো কাজ মনোযোগ দিয়ে করলে সফলতা আসবেই। সকলেই লেগে থাকুন। ভাল কাজের সাথে আল্লাহতায়ালার রহমত রয়েছে।
জমজ সন্তানের বাবা বলেন, সন্তানকে আমরা বাংলা বা ইংলিশ মিডিয়ামে পড়ালেখা কিংবা নাচ-গান শেখানোর জন্য যেভাবে হুমড়ি খেয়ে পরি ঠিক সেই অনুযায়ী আমরা অনেকেই আমাদের সন্তানকে নানা কারণে ধর্মীয় শিক্ষায় এগিয়ে নিতে পারি না। আমরা অনেকেই ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠান পালন করি বাবা-দাদারা যেভাবে করেছে সেভাবে। আমরা অনেকেই সঠিক কিছু না জেনে, না বুঝে ও ধর্মীয় অনুশীলন না করে তাদের মতো করে ধর্মীয় নিয়ম-নীতি মেনে চলার চেষ্টা করি। স্ব-স্ব ধর্মীয় জ্ঞান অর্জনে আমরা নিজেরা সচেতন না হয়ে অন্যের উপর ভর করে চলার চেষ্টা করি। তাই ধর্মীয় বিষয় নিয়ে না জেনে অনেক ভুল ও দ্বন্দ্বের মধ্যে ডুবে থাকি। বর্তমান প্রেক্ষাপট অনুযায়ী কোমলমতি শিশুদের নৈতিক শিক্ষার পাশাপাশি স্কুলে যাওয়া বা তার আগেই ধর্মীয় শিক্ষায় হাতে খড়ি এবং পরবর্তীতে শিক্ষিত করা খুবই জরুরী। যেকোনো পরিবারের অভিভাবক ও সদস্যদের ঐক্লান্তিক প্রচেষ্টা আর সততা থাকলে শিশুদের কাঙ্খিতমানের জীবন গড়া সহজতর হবে। শিশুদের স্ব-স্ব ধর্মীয় জ্ঞান ও নৈতিকতাবোধ চর্চা থাকলে সমাজে অপরাধ প্রবনতা অনেক কমে যাবে। এতে করে বড় হয়ে তারা পরবর্তী প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারবে। তাদের মেধা, শ্রম আর ভালোবাসার বিনিময়ে গড়ে উঠবে উন্নয়নের নতুন বাংলাদেশ তথা গোটা বিশ্ব। সেই সাথে সমাজ, সরকার তথা রাষ্ট্র অনন্য উচ্চতায় এগিয়ে যাবে।