প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক মোজামের ভিক্ষার জমানো টাকায় মসজিদের পানির পাম্প

প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক মোজামের ভিক্ষার জমানো টাকায় মসজিদের পানির পাম্প

স্টাফ রিপোর্টার: নওগাঁর মান্দায় এক প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক ভিক্ষার জমানো টাকা দিয়ে স্থানীয় মসজিদের পানি ব্যবহারের জন্য একটি পানির পাম্প ক্রয় করে দিলেন বলে জানা গেছে। ঘটনাটি মান্দা উপজেলার “মান্দা” ইউনিয়নের বাদলঘাটা গ্রামের। ওই গ্রামের অসহায় প্রতিবন্ধী ভিক্ষুক মোঃ মোজাম হোসেন। যার প্রতিদিন ভিক্ষার উপাজনে যে আয় হয় তা দিয়ে তার সংসার চালাতে হয়। সে এতটাই প্রতিবদ্ধি যে স্বাভাবিকভাবে চলাফেরা করতে পারে না। খুব সামান্য ইসারার মাধ্যমে দু একটি কথা বলতে পারে। মহৎ এ মানুষের স্বচ্ছলতা না থাকলেও ভিক্ষায় উপার্জনকৃত টাকা পয়সা দিয়ে তার নিজ গ্রামের মসজিদের ওজু খানায় পানির সু ব্যবস্থার জন্য সাবমার্সেবুল পাম্প স্থাপন করে দেন। 
 আল এমরান মাসুদ রানা তার ফেসবুক ট্যাটাসে বলেন, কয়েকদিন পূর্বে আমি নিজে প্রসাদপুর বাজারের “আইটি কনষ্টট্রাকশন’ নামক দোকানে আমার নিজ বাসার কিছু মালামাল ক্রয় করার জন্য গেলে সেখানে আমি দেখতে পায় যে এই ভিক্ষুক ঐ দোকান হতে সাবমার্সেবুল পানির পাম্পসহ আনুসাঙ্গিক মালামাল নগদ টাকায় ক্রয় করেন বাদলঘাটা মৎস্যজীবিপাড়া মসজিদে স্থাপনের জন্য। সেই সাথে তার কর্মকান্ডে মুগ্ধ হয়ে নির্বাক হয়ে কিছু সময় তার দিকে তাকিয়ে থাকি। আর মনে মনে প্রকাশ করে তিনি তার সৃষ্টিকর্তার নিকট বলেন, আল্লাহ তুমি এতো মহান। কার মনে কোন ইচ্ছা তুমি প্রদান করেছো। যার দুমুঠো ডাল ভাত জোগাড় করার জন্য দুবেলা হাটতে না পেরে হুমড়িয়ে হুমড়িয়ে এ দুয়ার হতে ঐ দুয়ারে হাত পাততে হয়। সেই ভিক্ষুক আল্লাহর ঘর মসজিদে দানের জন্য ভিক্ষায় দু‘চারআনা পয়সা জমিয়ে জমিয়ে বিশুদ্ধ পানির জন্য সাবমার্সেবুল পাম্প স্থাপন করে দিলেন। এমন মহৎ দৃষ্টান্ত আর হয় না। 
ওই ট্যাটাসে মাসুদ রানা আরো উল্লেখ করেন, মোজামের ক্রয়কৃত পাম্প ঐ মসজিদে স্থাপন হয়েছে কিনা তার সত্যতা জানার  জন্য মান্দা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন এর নিকট মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, এমন মহৎ দৃষ্টান্ত আর হয় না।   সে একজন প্রতিবন্ধ মানুষ । আবার ভিক্ষা করে জীবিকা নির্বাহের টাকা মানুষের কল্যানে  দান করলো । তার এ দানের জন্য অসখ্য ধন্যবাদ । ঐ গ্রামে অনেক বৃত্তবান লোক আছে কিন্তু একজন ভিক্ষুকের এ দানের জন্য গ্রামবাসী ও আমি একজন চেয়ারম্যান হয়ে তারকাছে চির কৃতজ্ঞ। যুগ যুগ বেঁচে থাকুক মোঃ মোজাম হোসেন । স্যালুট তোমাই মোজাম হোসেন।