খেলনা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ সভাপতি আব্দুস ছালামের বিরুদ্ধে নানা বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে 

মো. আব্দুল বারি খান: নওগাঁর ধামইরহাট উপজেলার ০৮নং খেলনা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি আব্দুস সালামের বিরুদ্ধে নানা বিষয়ে অভিযোগ তুলে জেলা পুলিশ সুপারের নিকট একটি অভিযোগ দিয়েছেন ওই ইউনিয়নের জনসাধরনের পক্ষে মো. মতিবুল ইসলাম বুলু।

খেলনা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগ সভাপতি আব্দুস ছালামের বিরুদ্ধে নানা বিষয়ে অভিযোগ উঠেছে 

জেলার ধামইরহাট উপজেলার গুনদেশাহার গ্রামের মৃত ময়েজ উদ্দিনের পুত্র মো. মতিবুল ইসলাম তার অভিযোগে উল্লেখ করেছেন, জেলার ধামুইরহাট উপজেলার গুপিরামপুর গ্রামের মৃত জাফর আলীর পুত্র ৮নং খেলনা ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. আব্দুস ছালাম তার সহদর বড় ভাই মো. দেলদার হোসেন (ধামুইরহাট থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান) এর ক্ষমতার প্রভাবে বিবাদী সমাজের বিভিন্ন প্রকার অপকর্ম পরিচালনা করছে। যার মধ্যে মাদক ব্যবসা পরিচালনা ও প্রকাশ্যে মাদক সেবন অন্যতম। তার কাজে সহযোগী হিসাবে নিয়োগকৃত ব্যক্তিরা হলো ১. ধামুইরহাট উপজেলার শিশু (ডাকাহার) গ্রামের ইয়াছিনের পুত্র ডালিম হোসেন, ২. বেলডেংগি গ্রামের আনিছুর রহমানের পুত্র হাসান আলী, ৩. বড়ইকুড়ী গ্রামের পানো মন্ডলের পুত্র আজিজার রহমান, ৪. চকহাড়া গ্রামের সাবু মন্ডলের পুত্র নেদু, মৃত ভোলা মন্ডলের পুত্র আইজুল হোসেন, রিয়াজ উদ্দিনের পুত্র জাহাঙ্গীর আলম, চকভবানী গ্রামের ফরেজ উদ্দিনের পুত্র আব্দুল মালেক, উদয়শ্রী (দিঘিরপাড়) গ্রামের বেলাল হোসেনের পুত্র আব্দুর রাজ্জাক, রশপুর গ্রামের আইজুল হকের পুত্র সেকেন্দার হোসেনের সহযোগীতায় মাদক ব্যবসা পরিচালনা করে মো. আব্দুস ছালাম ইউনিয়নে মাদক স¤্রাট হিসাবে পরিচিত লাভ করছে বলেও ওই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। যার দরুন যুব সমাজ ধ্বংস হচ্ছে।
অভিযোগে আরো বলা হয়েছে, তার ও তার বড় ভাইয়ের ক্ষমতার দাপটে এলাকার নিরীহ মানুষ ভীত সন্ত্রস্ত হয়ে তার অপকর্মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে পারে না। কেউ প্রতিবাদ করলে তাকে মিথ্যা মামলায় জড়িয়ে হয়রানীর স্বীকারসহ আর্থিক ক্ষতি সাধন করেন ও তার অধিনস্থ গ্রাম্য পুলিশ দ্বারা ধৃত করে ইউপি পরিষদে নিয়ে বেআইনীভাবে শারীরিক ও মানষিক নির্যতন করেন। এলাকায় একটি সন্ত্রাসী বাহিনী গঠন করে অভিযোগে উল্লেখিত অপরাধ ছাড়াও বহুবিধ অপকর্ম  ও অপরাধের রাজত্ব গড়ে তুলেছেন বলেও সেই অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। 
এলাকার যুব সমাজকে অন্ধকারের হাত থেকে বাঁচাতে ও নিরীহ মানুষদের রক্ষা করার জন্য বিবাদী ও তার সহযোগী সকলের বিষয়ে প্রকাশ্য ও গোপনীয় তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য জেলা পুলিশ সুপারের বরাবর আবেদন জানিয়েছেন মতিবুল ইসলাম বুলু। 
ইউপি চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি মো. আব্দুস ছালাম এবং তার সহদর বড় ভাই ধামইরহাট থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. দেলদার হোসেনের অল্প সময়ের ব্যবধানে অঢেল সম্পদ, বাড়ি গাড়ী ও অর্থের বিষয় নিয়ে বিগত সময়ে সংবাদ প্রকাশ হয়। সেই সংবাদের জের ধরে ধামইরহাট উপজেলার মৃত জাফের উদ্দিনের পুত্র মো. দেলদার হোসেন বাদি হয়ে মান্দা উপজেলার পরানপুর দক্ষিনপাড়ার রিয়াজ উদ্দিনের পুত্র এম এ রাজ্জাক ও ধামইরহাট উপজেলার রসপুর গ্রামের মৃত নমির উদ্দিনের পুত্র তহিদুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আসামীদের নামে ধামইরহাট থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৫(২)/২৯(১)/৩১(২)/৩৫ ধারায় মামলা করেছেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। প্রকাশিত সংবাদের বিষয় নিয়ে অন্য পর্বে অনুসন্ধানী রিপোর্টে অনেক কিছু বেরিয়ে আসবে ইনশাল্লাহ।
সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানে এর প্রকৃত ঘটনা উঠে আসতে পারে বলেও ধারনা করা হচ্ছে। আর প্রকৃত ঘটনা উঠে আসলেই পরবর্তীতে আরো বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশ করা সহজতর হবে।
ধামুইরহাট উপজেলার ০৮নং খেলনা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি আব্দুস সালামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিটিবি নিউজকে জানান, মতিবুল ইসলাম বুলু আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।
ধামইরহাট থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. দেলদার হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগযোগ করা হলে তিনি বিটিবি নিউজকে জানান, অভিযোগের বিষয়টি আমি জানিও না শুনিওনি। তবে আমার ব্যাপারে যে অভিযোগ করা হয়েছে তা মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সমাজে আমার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। আমার সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য এসব রটানো হচ্ছে।
নওগাঁ ডিবি পুলিশ কার্যালয়ের এসআই মো. তরিকুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিটিবি নিউজকে বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তদন্তের জন্য প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
চলবে ..........................