ইতিহাসের পাতায় বাংলাদেশ

ইতিহাসের পাতায় বাংলাদেশ

নিউজ ডেক্স: নতুন উচ্চতায় বাংলাদেশ। প্রাণঘাতী করোনাভাইরাস প্রতিরোধে দেশে ব্যাপক উৎসাহের মধ্য দিয়ে টিকাদান কর্মসূচি শুরু হয়ে গেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ব্রাজিল, ইউরোপীয় ইউনিয়ন, ভারতসহ যেসব দেশ আমজনতাকে করোনা টিকা দিয়েছে; তাদের তালিকায় নাম লেখালো বাংলাদেশ। বিশ্বে এখনো টিকার জন্য হাহাকার চলছে। প্রায় শতাধিক দেশ এখনো করোনা টিকা দেয়ার প্রক্রিয়া শুরুই করতে পারেনি। অথচ বাংলাদেশে আমজনতাকে টিকা দেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়ে গেছে।

রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে ১০০৫টি কেন্দ্রে গতকাল টিকা দেয়ার কার্যক্রম শুরু হয়েছে। ঢাকায় ৫০টি হাসপাতালে ২০৪টিম ছাড়াও সারা দেশে ৯৫৫টি হাসপাতালে ২১৯৬টি টিম টিকা কার্যক্রমে অংশ নিয়েছেন। রাজধানী ছাড়াও বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলা সদরের হাসপাতালগুলোতে একযোগে করোনার টিকাদান কর্মসূসিতে মন্ত্রী, এমপি, বিচারপতি, পুলিশ কর্মকর্তা, সেনা কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি এবং সিনিয়র চিকিৎসক, নার্সরা টিকা গ্রহণ করেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদর থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে টিকাদান কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। এর মাধ্যমে শুরু হয় দেশব্যাপী এক হাজার পাঁচটি কেন্দ্রে একযোগে টিকাদান।
দক্ষিণ এশিয়ার অনেক দেশে যখন এখনো টিকা নেয়া অনিশ্চিত; তখন চ্যালেঞ্জ নিয়েই সারাদেশে একযোগে শুরু হলো করোনাভাইরাসের টিকাদান কর্মসূচি।

এর আগে গত ২৮ জানুয়ারি শুরু হয়ে দু’দিনের পরীক্ষামূলক টিকাদান কার্যক্রমের ফলাফল আশানুরূপ হয়েছে। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকা টিকার দু’টি ডোজের প্রথম ডোজ নেয়া ৫৬৭ জনের কারো মধ্যে কোনো বড় ধরনের পার্শ্ব-প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি। সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী দেশের ৫৫ বছরের বেশি বয়সী ও নির্দিষ্ট কিছু পেশার প্রত্যেককেই এই টিকা দেয়া হবে প্রথম পর্যায়ে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়েল তথ্য মতে, গত শনিবার পর্যন্ত সারা দেশে সাড়ে তিন লাখ মানুষ টিকার জন্য অনলাইনে নিবন্ধন করেন। এদের অনেককেই রোববার টিকা দেয়া হয়েছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ও বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রচারণায় ঘাটতি, অনলাইন নিবন্ধনে সমস্যা, ভারতের টিকা সম্পর্কে ভুল তথ্য ও টিকার কার্যকারিতা সম্পর্কে সন্দেহপ্রবণ সংবাদ সাধারণ মানুষকে টিকার প্রতি অনাগ্রহী করে তুলেছিল। প্রথম মাসে প্রায় ৬০ লাখ মানুষকে ভ্যাকসিন দেয়ার পরিকল্পনা করে সরকার। পরবর্তীতে এই সংখ্যা কমিয়ে ৩৫ লাখ ধরা হয়েছে। তবে সময় মতোই দেশে পৌঁছেছে করোনা টিকা। পরিকল্পনামাফিক দ্রুত সময়ের মধ্যেই সেগুলো পৌঁছে দেয়া হয়েছে সারা দেশে। টিকাদান কর্মসূচিতে অংশ নিতে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে ভ্যাকসিনেটর ও স্বেচ্ছাসেবীদের।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, অ্যাপের জটিলতার কারণে টিকা গ্রহীতাদের নিবন্ধন কম হলেও গণটিকাদান কর্মসূচির শুরুতে কমতি ছিল না উৎসাহ-উদ্দীপনার। উৎসব আমেজে টিকা নিয়ে সন্তোষ জানিয়েছেন গ্রহণকারীরা। বললেন, গুজবের কারণে যে শঙ্কা ছিল টিকা নেয়ার পর সেটি কেটে গেছে। রাজধানীতে গণটিকাদানের শুরু হয় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়ে। টিকা গ্রহীতা ভিভিআইপিরা বলেন, মহামারি থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে টিকার বিকল্প নেই। ইউরোপ-অ্যামেরিকার মানুষ এটি চেয়েও পাচ্ছেন না- সেখানে বাংলাদেশে এত দ্রুত ও সহজে টিকা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেন তারা। বিশিষ্টজনেরা সকলকে নির্ভয়ে টিকা নেয়ার আহ্বান জানান।

বিএসএমএমইউ ছাড়াও ঢাকা মেডিক্যাল, সোহরাওয়ার্দী হাসপাতাল, শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউট, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার হাসপাতাল, ঢাকা সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালসহ রাজধানীর অন্য হাসপাতালে টিকা দেয়া হয়।
রাজধানী ঢাকা ছাড়াও বিভাগীয় শহর, জেলা শহরে টিকা নিয়েছেন বেশ কয়েকজন মন্ত্রী ও সচিব। মন্ত্রীদের মধ্যে প্রথমে টিকা নিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী জাহিদ মালেক, কৃষিমন্ত্রী ড. মো. আব্দুর রাজ্জাক, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, রেলপথমন্ত্রী মো. নূরুল ইসলাম সুজন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মো. মাহবুব আলী, শিক্ষা উপমন্ত্রী ব্যারিস্টার মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল, ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ব্যারিস্টার ফজলে নূর তাপস, রাশেদ খান মেননসহ কয়েকশ’ জনপ্রতিনিধি। সচিবদের মধ্যে টিকা নিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম, অর্থ বিভাগের সিনিয়র সচিব আব্দুর রউফ তালুকদার, কৃষি মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মো. মেসবাহুল ইসলাম ও স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ। প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনসহ প্রায় ৫৫ জন বিচারপতি টিকা গ্রহণ করেছেন। এ ছাড়াও জাতীয় কারিগরি উপদেষ্টা কমিটির সভাপতি ডা. মোহাম্মদ শহিদুল্লাহ, ডা. সামন্ত লাল সেন, বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, বিএমএ সাধারণ সম্পাদক ডা. এহতেশামুল হক ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. এম এ আজিজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক আখতারুজ্জামান, উপ-উপাচার্য মুহাম্মদ সামাদ ও এ এস এম মাকসুদ কামাল টিকা নেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, তিনটি ব্যাচের প্রায় ৭০ লাখ ডোজ টিকা রয়েছে সরকারের কাছে। যার মধ্যে দু’টি ব্যাচের মেয়াদ শেষ হবে এ বছরের এপ্রিলে এবং একটির শেষ হবে জুনে। তবে টিকাগুলোর মেয়াদ ঠিক কত তারিখে শেষ হবে তা জানাননি কর্মকর্তারা।