হংকংয়ে পোষা কুকুরের দেহেও করোনা ধরা পড়েছে

বিটিবি নিউজ ডেস্ক: হংকংয়ে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত এক নারীর পোষা কুকুরের দেহেও সংক্রমণ ধরা পড়েছে। রোববার (২২ মার্চ) কয়েক দফা পরীক্ষায় কুকুরটির দেহে ভাইরাসটির উপস্থিতি পাওয়া যায় বলে বলে চীননিয়ন্ত্রিত অঞ্চলটির সরকারের বরাত দিয়ে জানিয়েছে সাউথ চায়না মর্নিং পোস্ট।

হংকংয়ে পোষা কুকুরের দেহেও করোনা ধরা পড়েছে

হংকংয়ের কৃষি, মৎস্য ও সংরক্ষণ বিভাগের (এএফসিডি) এক বিবৃতিতে জানায়, পোক ফু লাম এলাকায় বসবাস করা ওই জার্মান শেফার্ড প্রজাতির কুকুরটিকে একই এলাকার অন্য একটি মিশ্র জাতের কুকুরের সঙ্গে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

মিশ্র জাতের কুকুরটির দেহে এখন পর্যন্ত ভাইরাস পাওয়া যায়নি; কোনও কুকুরের মধ্যেই কভিড-১৯ এর উপসর্গ নেই। আমাদের বিভাগ দুটি কুকুরকেই নিবিড় পর্যবেক্ষণ করছে এবং ধারাবাহিক পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে।

এএফসিডি এক সতর্কবার্তায় কুকুর, বিড়ালদের ধরার আগে ও পরে এগুলোর দেখভালকারীদের ভালোমতো হাত ধুয়ে নিতে পরামর্শ দিয়েছে। পোষ্যপ্রাণীদের খাবার ও অন্যান্য কিছু ধরার বেলায়ও একই সতর্কতা মেনে চলতে বলেছে তারা। পোষা কুকুর ও বেড়ালকে চুমু না খেতেও পরামর্শ দিয়েছে তারা।

কৃষি, মৎস্য ও সংরক্ষণ বিভাগ বলছে, কোনও ব্যক্তি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হলে তার স্তন্যপায়ী পোষাপ্রাণীদের কোয়ারেন্টিনে রাখা হবে।

পোষা প্রাণীর দেহ থেকে মানুষের দেহে প্রাণঘাতী এই ভাইরাসের সংক্রমণের কোনও প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলেও আশ্বস্ত করেছে তারা।

হংকংয়ে এর আগে পোমেরানিয়ান একটি কুকুরের মধ্যেও ভাইরাসটির ‘দুর্বল উপস্থিতি’ মিলেছিল। ১৭ বছর বয়সী ওই কুকুরটিকে কয়েক দফা পরীক্ষা করা হয়েছিল। বাড়ি ফেরার তিনদিন পর সোমবার মারা যাওয়া ওই কুকুরটিই ছিল কভিড-১৯ শনাক্ত হওয়া বিশ্বের প্রথম কুকুর।

চিকিৎসকরা বলছেন, কেবল করোনাভাইরাসের কারণেই পোমেরানিয়ান কুকুরটির মৃত্যু হয়েছে বলে মনে করছেন না তারা। তাদের ইঙ্গিত, বয়স এবং প্রাণঘাতী ভাইরাসটির কারণে সৃষ্ট অসুস্থতাই এটির মৃত্যুর কারণ হতে পারে।

সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টকে এএফসিডি জানিয়েছে, দুটো কুকুর ছাড়াও তারা আরও চারটি বেড়ালকে কোয়ারেন্টিনে রেখেছে।