করোনা মোকাবেলায় ১২টি পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রস্তুত

বিটিবি নিউজ ডেস্ক: করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকার এরই মধ্যে হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা অনেকটা প্রস্তুত করেছে। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে ১২টি হাসপাতালকে পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত হাসপাতাল হিসেবে প্রস্তুত করা হয়েছে। এ ছাড়া উপজেলা, জেলা পর্যায়ে সরকারি হাসপাতাল ও মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে শয্যা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।

করোনা মোকাবেলায় ১২টি পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রস্তুত

এ ছাড়া এখন পর্যন্ত করোনা রোগীদের জন্য সংরক্ষিত নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) প্রস্তুত আছে ১৫০টি। আরো ১৫০টি প্রক্রিয়াধীন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. এম এ ফয়েজ বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতি অনুসারে এখন পর্যন্ত যে গতিপ্রকৃতি আছে তাতে দেখা যাচ্ছে মোট আক্রান্তের ৮০ শতাংশের হাসপাতাল প্রয়োজন নেই। কেবল ২০ শতাংশের জন্য হাসপাতালে যাওয়ার প্রয়োজন হয়। মোট আক্রান্তের মাত্র ৫ শতাংশের জন্য আইসিইউ সাপোর্ট দরকার হচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমাদের এখানে যদি একটি আনুমানিক পূর্বাভাস তৈরি করা যায়, কোনো কোনো দেশের গ্রহণযোগ্য মডেল অনুসরণ করে তবে সুফল পাওয়া যাবে।’

ওই বিশেষজ্ঞ বলেন, হাসপাতালে প্রস্তুতি এখন যা আছে সেটা আনুপাতিক হারে ঠিক আছে। কিন্তু মানুষের মধ্যে উদ্বেগ আছে সামনের পরিস্থিতি নিয়ে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুসারে, দেশে মোট সরকারি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও হাসপাতালের সংখ্যা ৬৫৪। বিশেষায়িত, মেডিক্যাল কলেজ ও জেলা পর্যায়ের হাসপাতাল ১৪০টি; যেখানে মোট শয্যাসংখ্যা ৩১ হাজার ২৬০। উপজেলা পর্যায়ে ৫১৪ হাসপাতালে শয্যাসংখ্যা ২০ হাজার ৫৬। বেসরকারি হাসপাতালের সংখ্যা পাঁচ হাজার ৫৫, যেগুলোতে শয্যা আছে ৯০ হাজার ৫৮৭টি। করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সরকার প্রতি উজেলা হাসপাতালে কমপক্ষে পাঁচটি, জেলা হাসপাতালে কমপক্ষে ১০টি, মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কমপক্ষে ১০০টি করে সংরক্ষিত শয্যা প্রস্তুত রাখতে বলেছে।

এ ছাড়া ঢাকায় পূর্ণাঙ্গ করোনা বিশেষায়িত হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে আটটি। সরকারি পাঁচটি আর বেসরকারি তিনটি; যেখানে শয্যাসংখ্যা এক হাজার ৪০০। ঢাকার বাইরে সিলেট, চট্টগ্রাম, খুলনা ও রাজশাহীতে একটি করে চারটি পূর্ণাঙ্গ বিশেষায়িত করোনা হাসপাতাল প্রস্তুত করা হয়েছে, যেখান ৪০০ শয্যা প্রস্তুত করা হয়েছে। ঢাকার অন্যান্য হাসপাতালের প্রতিটিতেই বিভিন্ন হারে বিশেষ করোনা শয্যা প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে।

ঢাকায় এখন পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ করোনা বিশেষায়িত হাসপাতালের মধ্যে প্রস্তুত আছে ২০০ শয্যার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতাল, ৫০০ শয্যার শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউট হাসপাতাল, ২৫০ শয্যার শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলজি ইনস্টিটিউট হাসপাতাল, ২০০ শয্যার মিরপুর লালকুটি হাসপাতাল ও ১৫০ শয্যার মহানগর হাসপাতাল। বেসরকারি তিনটি প্রতিষ্ঠান তাদের নিজস্ব হাসপাতাল করোনা পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য সরকারকে হস্তান্তর করেছে। এর মধ্যে রিজেন্ট গ্রুপের দুটি (মোট ১০০ শয্যা ও তিনটি আইসিইউ শয্যাসহ) এবং সাজিদা ফাউন্ডেশনের একটি (৫০ শয্যা ও পাঁচটি আইসিইউ শয্যাসহ)।