মনোবল শক্ত ও মনে সাহস রাখুন আলো আসবেই ইউএনও জয়া মারীয়া ও আব্দুল হালিম

প্রিয় মান্দা ও ‍নিয়ামতপুরউপজেলাবাসী, জেলা শহরের পাশাপাশি মান্দা ও নিয়ামতপুরউপজেলাসহ সব জায়াগায় খাওয়ার হোটেল, রেস্তোরাঁ এবং চায়ের স্টলগুলো বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। এতে খেটে খাওয়া মানুষের ভোগান্তি বাড়বে। অনেকের একমাত্র আয়ের উৎস বন্ধ হয়ে যাবে। কিন্তু তারপরও এ সিদ্ধান্তটি আমাদের কাছে আপনাদের নিরাপত্তার জন্য গুরুত্বপূণ বলে মনে হয়েছে। একটু ভাবুন.. আপনাদের এ কিছুদিনের কষ্টের বিনিময়ে সুস্হভাবে বেঁচে থাকতে চাওয়াটাই কি অধিক কাম্য নয়?

মনোবল শক্ত ও মনে সাহস রাখুন আলো আসবেই ইউএনও জয়া মারীয়া ও আব্দুল হালিম

দিনে দিনে আক্রান্তের হার বাড়ছে। ভাইরাসটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় আক্রান্ত ব্যক্তি চিহ্নিত হওয়ার আগেই অনেকের মাঝে জীবাণু ছড়িয়ে দেন। আমাদের হোটেল রেস্তোরাঁ চায়ের দোকানে হরেক রকম মানুষ আসে। এমনকি বিদেশে ফেরৎ ব্যক্তিও কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম ভেঙে সন্ধ্যায় চা খেতে আসতে পারে। তার মাঝেও জীবাণু থাকতে পারে। যদি এসব খোলা থাকে তাহলে মানুষ একত্রিত হবেই। কতক্ষণ পাহারা দিয়ে রাখা যাবে? যেখানে জরিমানার ভয় দেখিয়েও কোয়ারান্টাইনে রাখা যায়না। আর এরাতো মুক্ত! একই কাপে, গ্লাসে, প্লেটে কত জনে খাচ্ছেন। একই চেয়ারে,বেঞ্চিতে কত জনে পর পর বসছেন। এতে যে কি ভয়ানক ঝুঁকি আছে কল্পনাও করতে পারবেননা! ভাইরাস স্পর্শের মাধ্যমে নিমিষেই ছড়িয়ে পড়ে। তাই সামাজিক বিচ্ছিন্নকরণ ছাড়া শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।

আসুন, মনোবল শক্ত রাখি। এটা একটা যুদ্ধ। ভয়ানক একটা ছোঁয়াচে ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের অঘোষিত যুদ্ধ। আমাদের যুদ্ধ কৌশল হলো আমরা ভাইরাসকে আমাদের শরীর স্পর্শ করতে দিবনা। তার জন্য যত ধরণের নিয়ম আছে তা পালন করে যাব৷ সাময়িক কষ্ট হলেও তা করব।
মনে রাখবেন, অগ্নিকান্ডে শেষ সম্বলটুকু ভস্মীভূত হওয়ার পরও একজন মানুষ আবার ঘুরে দাঁড়ায়।
সুতরাং মনোবল হারানো যাবেনা।

করোনা পরিস্হিতি মোকাবিলায় জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশ বিভাগ এবং জনপ্রতিনিধিগণ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। আমাদের সহযোগিতা করুন। পরিচ্ছন্নতার নিয়মকানুন মেনে চলুন। অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাঘুরি করবেন না। মনে সাহস রাখুন। অন্ধকার দূরীভূত হয়ে আলো আসবেই।
অনুলিখন: জয়া মারীয়া পেরেরা ইউএনও নিয়ামতপুর।