করোনা থেকে জীবন বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে আপনিও জেগে উঠুন

করোনা থেকে জীবন বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে আপনিও জেগে উঠুন

 

মো: আব্দুল বারি খান, সম্পাদক ও প্রকাশক, বিটিবি নিউজ: বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। রাস্তায় বের হতে ভয় পাচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ভয়াবহ অবস্থা চীন, ইরান এবং ইতালিসহ বেশ ক’টি দেশ। এই সমস্ত জায়গায় ক্রমশ বাড়ছে মৃত লাশের লাইন। গোটা বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক গ্রাস করেছে সাধারণ মানুষকে। তবে বিজ্ঞানীরা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা বলছেন, কিছু নিয়ম মেনে চললেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। সারা বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে মহামারি করোনা থেকে রক্ষা পেতে সরকারের নিদের্শনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ সারা দেশের জেলা-উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, তথ্য অফিস, সেনাবাহিনী, র‌্যাব দেশের সর্বস্তরে জনসচেতনতামূলক নানা নিয়মকানুনসহ লিফলেট, পোষ্টার, সাইনবোর্ড টাঙানো এবং যেভাবে মাইকিং করা হচ্ছে সেটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে। আবার এসকল কার্যক্রমসহ নানা ধরনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে জনস্বার্থে সরকারকে তাৎক্ষণিক অবগত করছে সরকারের গোয়েন্দা বাহিনী ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিএসবিসহ বিভিন্ন সংস্থা দপ্তর।

দেশের জেলা-উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সেনাবাহিনী, র‌্যাবের কঠোর ভূমিকার কারণে বেশ পরিবর্তন হয়েছিল। রাজধানীসহ দেশের বিভাগীয় ও  জেলা শহরের মানুষগুলো শুরুর দিকে আতংকিত থেকে সরকারের নিদের্শনা মানার চেষ্টা করলেও  বর্তমানে দেশের বেশ কিছু জেলা ও গ্রামগুলোতে এর প্রভাব পড়েনি। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গলাফাটিয়ে সচেতন করাসহ নানা নির্দেশনার কথা বললেও মনে হচ্ছে অনেকের কানেই ঠুকছে না করোনা থেকে বাঁচার জন্য সরকারের এ সকল নির্দেশনাগুলো। এতো বুঝানোর পরও  শহর ও গ্রামের রাস্তায় হাজারো মানুষ চলাচল করছে ও ছোট খাটো যানবাহনগুলো দেদাছে চালাছে। বুঝানোই যাচ্ছে না কাগজে কলমে পড়া লেখা করা মানুষগুলোসহ গ্রামের সহজ সরল মানুষগুলোকে। মানুষ যদি করোনার ক্ষতিকারক দিকগুলো মন থেকে আমলে নিতে পারতো তাহলে সরকারের নিদের্শ মানা ও জনসচেতনতাকে মহাঔষধ হিসেবে গ্রহন করত। আর এর ভয়ে মানুষ ঘরের জানালা পর্যন্ত খোলা রাখতো না। বাংলাদেশের মানুষের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা আছে বলেই যে সব সময় বিনা প্রয়োজনে অযথা বাহিরে ঘুরাফেরা করছে এটা মোটেই ঠিক হচ্ছে না।

যদি আপনি এভাবে  সরকার তথা প্রশাসনের নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে বেপরোয়াভাবে চলাফেলা করতে থাকেন তাহলে আপনার জন্য আগামীতে ভয়াবহ দিন অপেক্ষা করছে। সাধু সাবধান গায়ের জোরে এতো কিছু না করে সরকারী সকল নির্দেশনা অনুসরণপূর্বক আপনার আগামী প্রজন্মের জন্য জীবনকে নিরাপদ রাখুন। অন্যথায় নিভে ও ধুলিষ্যাত হয়ে যাবে আগামী প্রজন্মের ভবিষ্যত আশা ভরসা। আগের যুগের মানুষ হয়তোবা না খেয়ে মরেছে। কিন্ত বর্তমান যুগের মানুষগুলোকে এখন আর না খেতে মরতে হয়না। এ ব্যাপারে সরকার অনেক দায়িত্বশীল।

করোনা পরিস্থিতিতে বিপদে পড়েছেন নিম্ন আয়ের দিনমজুর শ্রমজীবী মানুষরা। করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায়, দরিদ্র, খেটে খাওয়া মানুষের পাশে রয়েছে সরকারসহ বৃত্তবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। সরকার আপনার ও আপনার পরিবারের জীবন নিরাপদ রাখতে সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক  সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে আপনার বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। তারপরও কি আপনার হুশ হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রসহ রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো আপনার জীবন বাঁচানোর জন্য অছিলা হিসেবে কতই না আকুতি মিনতি করছে। এখনও সময় আছে জীবন বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে আপনিও জেগে উঠুন। আপনার জীবনের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে সরকারি নির্দেশনা মেনে আপনিও জেগে উঠুন। সকলকে সহায়তা করুন, সতর্ক করুন এবং নিজে সতর্ক থাকুন।

এই সংকটময় অবস্থায় এখন নিজে নিজেকে সাহায্য করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি, আমি বা আমাদের পাশের ব্যক্তিটি কেউই আসলে আমরা নিরাপদ নই, তাই সকলের সাথে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি সমস্যা মোকাবিলাকে ভয় না পেয়ে সাহস ধৈর্য্যের সাথে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা এবং গুজব, অবৈজ্ঞানিক বা যথোপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া, মিডিয়া-সোশ্যাল মিডিয়ার বানোয়াট নানা খবর বা ভিডিও দেখে আতঙ্কিত না হয়ে আসুন অন্যকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি নিজে নিজেকে সহযোগিতা করি। কোভিড-১৯ এর প্রভাবে বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা সবাই এখন অবগত এবং বাংলাদেশের পরিস্থিতিও বেশ ক’দিন ঝুঁকির মুখে। স্বাস্থ্য বিভাগের পোশাক পাল্টানো প্রেস ব্রিফিং থেকে বেরিয়ে এসে দেশ জাতির জন্য জীবনমান উন্নয়নে কঠোর ভূমিকা নিতে হবে বলে অনেকের ধারনা।

এই পরিস্থিতিতে আপনি চাইলেই হয়তো আপনার মনের আতঙ্ককে নির্মূল করতে পারবেন না, কারণ প্রতিনিয়তই করোনাভাইরাস সম্পর্কিত খবরা-খবর আপনার কানে আসছে এবং ভেসে বেড়াচ্ছে। আপনি যদি করোনা নিয়ে অতিমাত্রায় ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে থাকেন এবং দিনের বেশিরভাগ সময় যদি এরকম ভাবেন, "আমি যদি করোনায় আক্রান্ত হই? তাহলে আমার কী হবে, কী করব? এরকম চাপে থাকলে শরীরে খুব দ্রুত রোগের সংক্রমণ হতে পারে। যখন বিপদে পড়ে ডাক্তারের পরামর্শ অবলম্বন করতে হয় তখন আমরা নিজেদেরকে পরিবর্তন করতে চাই, আসলে তখন কিন্তু সময় অনেক সংক্ষিপ্ত। পরিবর্তন কিন্তু একদিনে তৈরি হয় না, এটা দীর্ঘদিন অনুশীলনের ফলাফল। তাই পর্যাপ্ত পরিমাণে নিজের যত্ম নেয়া আমাদের জীবনের একটি অংশ। হোম কোয়ারেন্টাইনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে আপনার রোগ সংক্রামনের সম্ভাবনা কমে যাবে। আপনি পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি পান করুন, সময়মতো খাবার গ্রহন, ঘুম এবং ঘরে বসেই শারীরিক ব্যায়াম অনুশীলন করতে পারেন। বুঝতে হবে এই পরিস্থিতিতে কোন কোন বিষয়গুলো নিজের সুস্থতা বজায় রাখার জন্য গুরুত্বপূর্ণ সেই বিষয়গুলো ঘরে বসে অনুশীলন করা। ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য হাত ধোয়া, মাস্ক ব্যবহার করা, সামাজিক দুরত্ব বজায় রেখে চলা, এই বিষয়গুলো আপনার দৈনন্দিন জীবনের অভ্যাসের সাথে যুক্ত হতে পারে, যা শুধু করোনা মোকাবিলায় সহায়ক হবে তা নয়, অন্যান্য রোগ জীবানু থেকেও সুরক্ষিত রাখবে। একটা কথা ভাবুন, কোয়ারেন্টাইনে থাকার ফলে আপনার নিজের পাশাপাশি আপনি অন্যদের সুরক্ষার কাজ করছেন সেটা আপনার জন্য মানসিক রিওয়ার্ড বা প্রশান্তি হিসেবে কাজ করবে। তাছাড়া আপনি অন্যদের চোখে রোল মডেল হিসেবেও কাজ করতে পারেন। ঘরের বাইরে বেড় হওয়ার বিশেষ প্রয়োজন হলে পারসোনাল প্রটেকশনের জিনিসগুলো (মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ড গ্লবস্) সাথে থাকতে পারে। আর চেষ্টা করুন নাকে-মুখে হাত না দেয়ার। তাহলে আপনার স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।

বহি:বিশ্বে দিনে দিনে আক্রান্তের হার বাড়ছে। ভাইরাসটি অত্যন্ত ছোঁয়াচে। সবচেয়ে ভয়ের বিষয় আক্রান্ত ব্যক্তি চিহ্নিত হওয়ার আগেই অনেকের মাঝে জীবাণু ছড়িয়ে দেন। বিদেশে ফেরৎ, রাজধানীসহ বিভাগীয় শহর থেকে যারা গ্রামে গেছেন সেই ব্যক্তিও কোয়ারেন্টাইনের নিয়ম ভেঙেছে। তার মাঝেও জীবাণু থাকতে পারে। এগুলো কতক্ষণ পাহারা দিয়ে রাখা যাবে? যেখানে জরিমানার ভয় দেখিয়েও কোয়ারান্টাইনে সাবাইকে নিশ্চিত করা যাচ্ছেনা। ভাইরাস স্পর্শের মাধ্যমে নিমিষেই ছড়িয়ে পড়ে। তাই সামাজিক বিচ্ছিন্নকরণ ছাড়া শতভাগ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আজকের করোনা ভাইরাসের মহামারির যে বিপদ তা আমাদের জীবদ্দশায় হয়তোবা কেউ দেখেনি। একরাণে এখান থেকে বাঁচার জন্য গুজবে কান না দিয়ে নিরাপদ দূরে থাকুন। রাষ্ট্রের নির্দেশনাগুলো মেনে চলুন। বিনা প্রয়োজনে বাহিবে যাবে না। ঘরেই থাকুন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বিশেষ জরুরী প্রয়োজন সেরে নিন। নিজেকে নিরপদ রাখুন। পরিবারকে নিরাপদ রাখুন। তাহলেই রাষ্ট্র বনাম সরকার নিরাপদ থাকবে ইনশাল্লাহ্।

মনোবল শক্ত রাখুন। এটা একটা যুদ্ধ। ভয়ানক একটা ছোঁয়াচে ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের অঘোষিত যুদ্ধ। আমাদের যুদ্ধ কৌশল হলো আমরা ভাইরাসকে আমাদের শরীর স্পর্শ করতে দিবনা। তার জন্য যত ধরণের নিয়ম আছে তা পালন করে যাব। সাময়িক কষ্ট হলেও তা করব। মনে রাখবেন, অগ্নিকান্ডে শেষ সম্বলটুকু ভস্মীভূত হওয়ার পরও একজন মানুষ আবার ঘুরে দাঁড়ায়। সুতরাং মনোবল হারানো যাবেনা। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, জেলা-উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশ বিভাগ, সেনাবাহিনী, ্যাব এবং জনপ্রতিনিধিগণ নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। সেই সাথে সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিএসবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাদেরকে সহযোগিতা করুন। পরিচ্ছন্নতার নিয়মকানুন মেনে চলুন। অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাঘুরি করবেন না। মনোবল শক্ত মনে সাহস রাখুন আলো আসবেই। অন্ধকার দূরীভূত হয়ে আলো আসবেই। সরকারি নিদের্শনা মেনে চলার সাথে আপনার জীবন নিরাপদ ও সুন্দর হোক সেই প্রত্যাশায়।