ছোট অভ্যাসেই মিলবে করোনা থেকে মুক্তি

ছোট অভ্যাসেই মিলবে করোনা থেকে মুক্তি

 

মো: আব্দুল বারি খান, সম্পাদক ও প্রকাশক: বিশ্বব্যাপী মহামারি আকার নেওয়া করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়েছে ২০৫টি দেশ ও অঞ্চলে।  করোনার ঠেলায় এখন গোটা দুনিয়া আতংকিত। মরণ এই ভাইরাস থাবা বসিয়েছে বাংলাদেশও। এই অবস্থায় অচেনা এই শত্রুকে প্রতিরোধ করতে বদ্ধপরিকর বাংলাদেশ সরকার। মরণ এই ভাইরাস মোকাবিলায় সাবধানতায় নানা দিকনির্দেশনাসহ সকর্তবার্তা দেয়া হয়েছে সরকারের তরফ থেকে। সারা বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে মহামারি করোনা থেকে রক্ষা পেতে সরকারের নিদের্শনায় সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ সারা দেশের জেলা-উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, তথ্য অফিস, সেনাবাহিনী, র‌্যাব দেশের সর্বস্তরে জনসচেতনতামূলক নানা নিয়মকানুনসহ লিফলেট, পোষ্টার, সাইনবোর্ড টাঙানো এবং যেভাবে মাইকিং করা হচ্ছে সেটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে।  আবার এসকল কার্যক্রমসহ নানা ধরনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে জনস্বার্থে সরকারকে তাৎক্ষণিক অবগত করছে সরকারের গোয়েন্দা বাহিনী ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিএসবিসহ বিভিন্ন সংস্থা ও দপ্তর।  তারা  করোনার করাল গ্রাসের থাবাকে ভয় না পেয়ে বীরের মতো দাঁড়িয়ে আমার, আপনার, আপনার পরিবার, প্রতিবেশি, সমাজ তথা গোটা দেশকে বাঁচাতে ও নিরাপদে রাখতে নিজের জীবন বাজি রেখে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো বর্তমানে কঠোর অবস্থানে থেকে মানুষদের ঘরে থাকার আহ্বান জানাচ্ছেন।  এরপরও আপনার হুশ হচ্ছেনা।  যারা মানছেন না তাদের জন্য ভয়াবহ দিন অপেক্ষা করছে।

করোনাভাইরাস আক্রান্ত ২০৫ দেশের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশও। আক্রান্তের দিক থেকে ওয়ার্ল্ডোমিটারে বাংলাদেশের অবস্থান নিচের দিকে থাকলেও মৃত্যুর হার বিবেচনায় বাংলাদেশের অবস্থান দ্বিতীয়। মৃত্যু হারে প্রথম অবস্থানে রয়েছে ইতালি। আর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে স্পেন।

বাংলাদেশে করোনায় এ পর্যন্ত মৃত্যুবরণ করেছে ৮ জন। আক্রান্ত হয়েছে ৭০ জন। এর মানে দেশে প্রতি ১০০ জন করোনা আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে প্রায় সাড়ে ১১ জন মারা যাচ্ছেন! এই হিসেবে বাংলাদেশে মৃত্যুর হার ১১.৪৩ শতাংশ যেখানে ভাইরাসটির উৎপত্তিস্থল চীনে মৃত্যুর হার ৪.০৪%। মৃত্যুর হারে বাংলাদেশ থেকে এগিয়ে থাকা একমাত্র দেশ ইতালিতে। দেশটিতে এই হার ১২.২৫ শতাংশ। ইতালির পর মৃত্যুপুরি হিসেবে বিবেচিত স্পেনেও এই হার বাংলাদেশের চেয়ে কম। স্পেনে মৃত্যুর হার ৯.৩৯ শতাংশ। আক্রান্তের দিক থেকে প্রথম অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রে মৃত্যুহার মাত্র ২.৬৭ শতাংশ।

করোনা পরিস্থিতিতে বিপদে পড়েছেন নিম্ন আয়ের দিনমজুর শ্রমজীবী মানুষরা। করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায়, দরিদ্র, খেটে খাওয়া মানুষের পাশে রয়েছে সরকারসহ বৃত্তবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। সরকার আপনার ও আপনার পরিবারের জীবন নিরাপদ রাখতে সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক  সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে আপনার বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। তারপরও কি আপনার হুশ হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রসহ রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো আপনার জীবন বাঁচানোর জন্য ওছিলা হিসেবে কতই না আকুতি মিনতি করছে। আপনার জীবন বাঁচাতে ঘরে থেকেই করোনার সাথে যুদ্ধ করুন। আপনার জীবনের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে সরকারি নির্দেশনা মেনে আপনিও জেগে উঠুন। সকলকে সহায়তা করুন, সতর্ক করুন এবং নিজে সতর্ক থাকুন।

এই সংকটময় অবস্থায় এখন নিজে নিজেকে সাহায্য করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি, আমি বা আমাদের পাশের ব্যক্তিটি কেউই আসলে আমরা নিরাপদ নই, তাই সকলের সাথে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি সমস্যা মোকাবিলাকে ভয় না পেয়ে সাহস ও ধৈর্য্যের সাথে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা এবং গুজব, অবৈজ্ঞানিক বা যথোপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া, মিডিয়া-সোশ্যাল মিডিয়ার বানোয়াট নানা খবর বা ভিডিও দেখে আতঙ্কিত না হয়ে আসুন অন্যকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি নিজে নিজেকে সহযোগিতা করি। কোভিড-১৯ এর প্রভাবে বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা সবাই এখন অবগত এবং বাংলাদেশের পরিস্থিতিও বেশ ঝুঁকির মুখে।

সাধু সাবধান। এখনও সময় এবং সুযোগ আছে এখান থেকে বাঁচার। আমরা নিজেরা যত বেশী সচেতন হব ততই রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে উঠবে আমাদের মধ্যে। করোনা মোকাবিলায় সরকারের তরফ থেকে দেশজুড়ে অঘোসিত লকডাউন চলছে। এই অবস্থায় সকলকেই সামাজিক দূরত্ব বজার রাখার নির্দেশ দিচ্ছেন, সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

কিছু মানুষকে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস কিনতে বাড়ির বাইরে পা- রাখতেই হচ্ছে। এই অবস্থায় সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে বাজার করা এবং বাইরে থেকে জিনিসপত্র কিনে আনার পর আপনার এবং প্রিয়জনদের স্বার্থে অবশ্যই কিছু সুরক্ষা বিধি মেনে চলুন। যদি তাতে কিছুটা হলেও সংক্রমণের বিরুদ্ধে জয়লাভ করতে পারি আমরা।

এই বিষয়ে বাজার করার পর কি কি করনীয় সেই বিষয়ে আপনার জন্য রইল কিছু পরামর্শ। ঘরের বাইরে বেড় হওয়ার বিশেষ প্রয়োজন হলে পারসোনাল প্রটেকশনের জিনিসগুলো (মাস্ক, হ্যান্ড স্যানিটাইজার, হ্যান্ড গ্লবস্) সাথে থাকতে পারে।  

১. অনুগ্রহ করে সরকারি নির্দেশনাগুলো অতীবগুরুত্বসহকারে মেনে চলুন।

২. বাজার করুন সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখে। মনে রাখবেন, যখন জিনিসপত্র কিনবেন তখন আপনার এবং বিক্রেতার মধ্যো অন্তত ২ মিটার দূরত্ব বজায় থাকে। এতে সংক্রমণের আশঙ্কা কম থাকে।

৩. বাড়ি এসে নির্দিষ্ট স্থানে রাখুন বাজারের ব্যাগটি। এরপর অন্তত ২০ সেকেন্ড ভালো করে হ্যান্ড স্যানিটাইসার বা জীবাণুনাশক দিয়ে হাত ধুয়ে ফেলুন।

৪.এছাড়াও রান্নার আগে এবং পরে ভালো করে হাত ধুয়ে নিন।

৫. সব থেকে বড় বিষয় হল, বাজারের কিছু সবজি প্রায় সকলেই হাত দিয়ে বেছে দেখে শুনে কেনেন। এতে জীবাণুর সংক্রমণের ভয় থেকে যায়। ফলে বাজার থেকে সবজি কেনার পর তা কাটার আগে ভালো করে নুন ও গরম পানিতে ধুয়ে নিন। এছাড়াও এই সময় খাবার ভালো করে সিদ্ধ এবং ফুটিয়ে খাওয়াটাও খুব-ই জরুরি।

৬. বাজারের ব্যাগ নির্দিষ্ট জায়গায় রাখুন এবং, প্রতিদিনই বাজারের ব্যাগটি ধুয়ে ফেলার অভ্যাস করুন। নচেৎ হিতে বিপরীত কিছু ঘটে যেতে পারে।

৭.বাইরে থেকে ঘরে আসার পর অবশ্যই ভালো করে গোসল করে ফেলুন।  অবশ্যই টাকা পয়সা লেনদেনের পর হাত অ্যালকোহল যুক্ত ভালো জীবাণুনাশক দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।

৮. বাড়ির নির্দিষ্ট এক জনকে দিয়েই বাজার করান। এই সময় বাড়ির বয়স্ক সদস্যদের দিয়ে বাজার করা এড়িয়ে চলুন। কারন, বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে আমাদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে আসে।

৯. আর যাদের বাড়িতে কোন কিছু কেনার লোকের অভাব। তাঁরা প্রশাসন, স্থানীয় ক্লাব, সংগঠন বা পুলিশ স্বেচ্ছাসেবীদের সাহায্য নিতে পারেন। কারন, এই সময় অসহায়দের পাশে দাঁড়াতে সদা প্রস্তুত সরকারের প্রশাসন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো।

সুতরাং সুস্থ্য, ভালো এবং করোনার থাবা থেকে মুক্ত থাকতে এই মুহুর্তে রাষ্ট্রের নির্দেশনাগুলো অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলুন। বিনা প্রয়োজনে বাহিরে যাবেন না। ঘরেই থাকুন। নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে বিশেষ জরুরী প্রয়োজন সেরে নিন। নিজেকে নিরাপদ রাখুন। পরিবারকে নিরাপদ রাখুন। তাহলেই রাষ্ট্র বনাম সরকার নিরাপদ থাকবে ইনশাল্লাহ্।