করোনা মোকাবেলায় সোনালী আলো ফেরানোর চ্যালেঞ্জে মাঠ প্রশাসন

করোনা মোকাবেলায় সোনালী আলো ফেরানোর চ্যালেঞ্জে মাঠ প্রশাসন

মো. আব্দুল বারি খান, সম্পাদক ও প্রকাশক: পরিবার, আত্নীয়-স্বজন ও সন্তানদের মায়ার জাল ত্যাগ করে অচেনা করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ বিস্তার রোধের যুদ্ধে কাজ করে যাচ্ছেন মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তারা। তারা আপনার আমার, সমাজ, দেশ তথা দেশের সরকারকে করোনার ভাইরাসের সংক্রমের হাত থেকে নিরাপদ ও মুক্ত রাখতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন। অচেনা করোনা ভাইরাসের তান্ডব থেকে মুক্ত করতেই সরকারের জেলা-উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী, সেনাবাহিনী, র‌্যাব, সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিএসবি, তথ্য অফিসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহ নিরালসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমের অন্ধকার থেকে আলো ফেরাতে সেই শুরু থেকেই ওই দপ্তরগুলো জনসচেতনতায় নানাভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

শুরু থেকেই শতভাগ সুরক্ষা প্রটেকশন ছাড়াই করোনাভাইরাস বিস্তার রোধ এবং সরকারের ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনায় সামনাসামনি কাজ করতে গিয়ে মাঠ প্রশাসনের অনেক কর্মকর্তা অচেনা করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হচ্ছেন। আবার মারাও গেছেন। করোনা মোকাবেলার চ্যালেঞ্জে ঝুঁকিপূর্ণ দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে ওই সকল মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের পরিজনরাও আক্রান্ত হচ্ছেন। দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন নওগাঁর সাবেক এক সহকারি কমিশনার তানিয়া তাবাসসুম তমা। তিনি বর্তমানে নারায়ণগঞ্জের ই-সেবা কেন্দ্রের সহকারি কমিশনারের দায়িত্ব পালন করছেন। সেই সাথে তার স্বামী ও মা অচেনা করোনা ভাইরাসের সংক্রমণে আক্রান্ত হয়েছেন। এছাড়াও নারায়ণগঞ্জের আরো দুইজন সহকারি কমিশনার করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছে বলেও জানা গেছে। সংক্রমণ ঝুঁকিতে থাকায় জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, জেলা প্রশাসনের ম্যাজিস্ট্রেটসহ অনেক কর্মকর্তাই কোয়ারেন্টিনে আছেন। অনেকে আবার সুস্থও হয়েছেন।

সরকারের নির্দেশনা পালনে নিয়মিত অফিস, মোবাইল কোর্ট, গণসচেতনতা কার্যক্রম, জরুরি ত্রাণকার্য, কন্ট্রোল রুম ডিউটি, প্রতিদিনের রিপোর্টসহ প্রেস ব্রিফিং  তৈরি,  বেসরকারি ত্রাণ সংগ্রহ কার্যক্রমসহ করোনা বিষয়ক যখন যা সামনে আসছে তাই করতে হচ্ছে ওই সকল দপ্তরের দায়িত্বশীলদের।

একেবারে মাঠপর্যায়ে অচেনা করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ রোধ ও চিকিৎসা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে চিকিৎসকদের সঙ্গে সমন্বয়, পুলিশ ও সশস্ত্র বাহিনীর মাধ্যমে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতকরণ এবং গরিব, অসহায়, মধ্যবিত্ত ও সংকটাপন্ন মানুষের বাড়ি বাড়ি ত্রাণ পৌঁছে দেওয়া, নানা ধরনের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বর্তমান বাজারদর নিয়ন্ত্রণসহ সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্বে রয়েছেন ওই সকল মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা কর্মচারীরা। আবার বোরো মৌসুমে কৃষকের ক্ষেতের ফসল ঘরে তোলা নিয়েও নানাভাবে সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে মাঠ প্রশাসন। করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের লক্ষণ নিয়ে যখন কেউ মারা যায় নতুবা শনাক্ত অবস্থায় কোন ব্যক্তি মৃত্যু হলে মৃতদের আত্মীয়স্বজনও যখন মৃত ব্যক্তির দাফনকার্যসহ নানা কাজে দূরে থাকে তখন ওই সকল প্রশাসনের কর্মকর্তারাই তাঁদের লাশ দাফনের যাবতীয় কাজকর্ম করে যাচ্ছেন।

সরকারের জেলা-উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, স্বাস্থ্যকর্মী, সেনাবাহিনী, র‌্যাব, সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিএসবি, তথ্য অফিসসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরসমূহের কর্মঠ, প্রত্যয়ী ও উদ্যোমী কর্মকর্তা কর্মচারীরা করোনা মোকাবেলায় সর্বদা প্রস্তুত থেকে নিরবচ্ছিন্ন সেবা প্রদান করে যাচ্ছেন।  

দেশব্যাপী লকডাউনের মাঝে কাঁচাবাজার ও নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দোকানপাট খোলা রয়েছে। বাজারে ও দোকানপাটে লোকসমাগমের মাধ্যমে ভয়ংকর অচেনা করোনা ভাইরাসের ঝুঁকি কমাতে প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন এলাকায় ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনার হচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চরের বাজারে পণ্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণে বিরতিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরেরর কর্মকর্তা কর্মচারীরা।

বিদেশ থেকে আসা এবং রাজধানীসহ বিভাগীয় শহর থেকে উপজেলা পর্যায়ে আসা ব্যক্তিদের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করার দায়িত্ব পালনও করছে মাঠ প্রশাসন। দেশের বিভিন্ন এলাকায় করোনা ভাইরাসের সংক্রমণের হার বাড়ার সাথে সাথে সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ ও অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহযোগিতায়  দায়িত্বের ক্ষেত্রও ব্যপকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে।

সরকারের নির্দেশনায় মাঠ প্রশাসন দেশের বিভিন্ন জায়গায় উন্মুক্ত স্থানে বাজারের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হয়েছে। তারপরও মানুষ করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সরকারি নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে অনেকেই নিয়ম ভাঙছেন। কিছু অসভ্য মানুষগুলো যেন এই ভয়াবহ পরিস্থিতি আমুলেই নিচ্ছেননা। সাধু সাবধান এখনও সময় আছে আপনি অচেনা করোনার ছোবল থেকে বাঁচুন।

সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা কর্মচারীরা পরিবার-পরিজনের কাছ থেকে দূরে থেকে করোনার নানা ঝুঁকিসহ অনেক চ্যালেঞ্জ সামনে রেখে দৃঢ়চিত্তে কাজ করছেন তারা। করোনার বিরুদ্ধে এ যুদ্ধে জিততেই এবং আপনার পরিবার পরিজন, আত্নীয়-স্বজনদের বাঁচানোর জন্য সরকার ও সংশ্লিষ্ট দপ্তর দিন রাত কাজ করছেন। তাই ঘরেই থাকুন, ঘরে থাকলে করোনা আপনাকে ছুঁতে পরবেনা। নিরাপদে থাকুন। সরকার আপনার পাশেই আছে। আপনি নিজে নিরাপদ থাকলে প্রতিবেশি, সমাজ, সরকার বনাম রাষ্ট্র নিরাপদ থাকবে। করোনা মহামারির এ সময় তাড়াতাড়ি চলে যাবে। অন্ধকার দূর হয়ে আলো আসবেই ইনশাল্লাহ।