আপনার সন্তান কি প্রযুক্তিতে আসক্ত হচ্ছে?

আপনার সন্তান কি প্রযুক্তিতে আসক্ত হচ্ছে?

 বিটিবি নিউজ রিপোর্ট:  গোটা দুনিয়া এখন আপনার হাতের মুঠোই। প্রযুক্তিগত অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে যোগাযোগের মাধ্যমগুলোও ব্যপকভাবে উন্নত হয়ে উঠছে। সারা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের খবরা-খবর এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় পৌঁছে যাচ্ছে মুহুর্তের মধ্যে।  এর জন্য আমাদের জীবন ব্যবস্থা স্বাচ্ছন্দ্যময় হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু, বয়সে তরুণ এবং বাচ্চাদের উপর এই তথ্য প্রযুক্তির প্রভাব এত বেশি পড়ছে যে তারা প্রযুক্তিতে ব্যপকভাবে আসক্ত হয়ে যাচ্ছে।  যেসব শিশু সন্তান যখন কেবল মাত্র পৃথিবীকে চিনতে শিখেছে তারা স্মার্টফোনের উঁকি-ঝুঁকি মারছে হরহামেশে। এই প্রযুক্তির ব্যবহার একদিকে বাচ্চাদের উপকার করছে অন্যদিকে ক্ষতিও করছে। এমন অবস্থায় যদি কোনো বাবা-মা বাচ্চাদের প্রতি বিশেষভাবে খেয়াল না রাখেন, বাধা না দেন তবে ভবিষ্যতে খুব ওই সকল সন্তানদের নিয়ে সমস্যায় পড়তে হবে ওই সকল অভিভাবকদের। সফল পিতা-মাতা হিসেবে আপনার সন্তানদের প্রযুক্তি সম্পর্কে, বিশেষত স্মার্টফোন ব্যবহারের সঠিক উপায় শেখানো একটা দায়িত্ব একটা দায়িত্বও রয়েছে। এটি একেবাবে বন্ধও করা যাবেনা। বন্ধ করলে তারা প্রযুক্তির ব্যবহার থেকে দূরে চলে যাবে। পরবর্তী প্রজন্মের সাথে তারা তাল মিলিয়ে চলতে পারবেনা। তাই আপনার সন্তানকে প্রযুক্তির ব্যবহারের মাঝে থেকেই প্রযুক্তির ব্যাপক ব্যবহারের ক্ষতিকারণ হাত থেকে বাচ্চাদের রক্ষা করতে কিছু পরামর্শ তুলে ধরা হলো:

ক) আপনি আপনার সন্তানের জন্য কিছু নিয়ম এবং নির্দেশিকা নির্ধারণ করুন । আপনার বাচ্চাদের ইন্টারনেট বা অন্যান্য প্রযুক্তি ব্যবহারের ভাল অভ্যাস গড়ে তুলতে অভ্যস্ত করুন।  তাদের জন্য আপনি বেশ কিছু গাইডলাইন বা নিয়ম তৈরি করে দিতে পারেন। যেমন: দিনের কোন সময় আপনার সন্তান প্রযুক্তির ব্যবহার করবে তা ঠিক করে দিন। সফল পিতা-মাতা হিসেবে আপনাকে এটিও বুঝতে হবে যে, প্রযুক্তির যখন সঠিক ব্যবহার না হবে, তখন প্রযুক্তির সেই ব্যবহারগুলো খারাপ দিকে যেতে পারে। আর একারণে বাচ্চাদের অপরনীয় ক্ষতি হতে পারে।

খ) সন্তাদের ইন্টারনেটে নানা ক্রিয়াকলাপ সম্পর্কে জানানোর সুযোগ রয়েছে। আপনি যদি মনে মনে ভাবেন যে, বাচ্চারা স্মার্টফোন বা ভিডিও গেমের মাধ্যমে ব্যস্ত থাকবে।  তখন আপনারা অন্য কাজে মনোনিবেশ করবেন তাহলে এটি ভুল ভাবনা। আপনি জানেন কি? আপনার অনুপস্থিতিতে বাচ্চারা  অনুপযুক্ত ওয়েবসাইটগুলিতে যেতে পারে বা তারা যে গ্যাজেটগুলি ব্যবহার করছে সেগুলি নানাভাবে তাদের ক্ষতি করতে পারে।  তাই আপনাকে শুরুর দিকেই নিশ্চিত করতে হবে, ইন্টারনেটে বাচ্চাদের নানা ধরনের কার্যকলাপ সম্পর্কে। তাহলেই কেবলমাত্র আপনি ভাল এবং উপযুক্ত ব্যবহারের জন্য সুন্দরভাবে গাইড করতে সক্ষম হবেন।

গ) যেকোনো বাচ্চাদের প্রযুক্তিগত হরেক রকমের ব্যবহারের উপর তীক্ষ্ন নজর রাখুন। বাচ্চারা ইন্টারনেটে কী কী করছে তা জানা বা বুঝার পাশাপাশি তারা প্রযুক্তির সাথে খুব বেশি জড়িত কি-না, তাও আপনাকে পুঙ্থানুপুঙ্থানুভাবে নিশ্চিত হওয়া সফল পিতা-মাতা হিসেবে খুবই দরকার। ধরুন, বাচ্চারা সবসময় টেলিভিশন দেখছে, মোবাইল, ল্যাপটপ বা কম্পিউটারে গেম খেলছে, আই-প্যাড বা হেডফোনে গান শুনছে বিরতিহীনভাবে।  খেয়াল রাখুন এবং তাদের ওই সকল প্রযুক্তির ব্যবহার ঘনিষ্ঠভাবে পর্যালোচনা করুন। তাহলেই, আপনি বাচ্চাদের অযথা এটি ব্যবহার করা থেকে বাধা দিতে পারবেন।

ঘ) বাচ্চারা যখন মোবাইল, ল্যাপটপ, টেলিভিশন স্ক্রিনে কিছু দেখবে তখন আপনিও তাতে অংশ নিন।   যখন তারা খারাপ কিছু দেখবে তখন বাচ্চারা হয়তো আপনার মতবিরোধ প্রকাশ করবে। তখন আপনি আপনার সন্তানদের সঠিকভাবে বোঝাবেন যে একসাথে দেখা কতটা ভাল ও সাচ্ছন্দময়। আপনার সহ-নিবিড় পর্যবেক্ষণ একটি সম্পর্ক তৈরিতে এবং নতুন জিনিস শিখতে তাদের অনেক সহায়তা করে।

ঙ) প্রযুক্তির ওই সকল ডিভাইস ব্যবহারের সময় বাচ্চাদের মুখোমুখি যোগাযোগের সাথে জড়িত থাকুন। আপনি তাদের ব্যবহারকৃত বিষয়গুলোর সম্পর্কে কথা বলতে পারেন ও নানা ধরনের পরামর্ দিতে পারেন। অন্যদিকে আপনি বাচ্চাদের সাথে কিছু নতুন বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে পারেন।  এভাবে আপনি কৌশলে প্রযুক্তিতে আসক্ত হওয়ার হাত থেকে বাচ্চাদের বাঁচাতে পারেন।

চ) আপনি যখন  নিজেই প্রযুক্তর ব্যবহারে খুব বেশি আসক্ত হন বা বিভিন্ন প্রযুক্তির উপর নির্ভর করেন তখন আপনার বাচ্চারাও এটি শিখবে। কারণ, বাচ্চারা বেশির ভাগ সময় বাবা-মা-কে অনুকরণ করে।

ছ) বাচ্চাদের সামাজিকীকরণে ব্যপকভাবে উৎসাহিত করুন। আপনার বাচ্চাদের মানুষের সঙ্গে নানা ঢঙে কথা বলা শেখান।  বাইরে নিয়ে যান। ভাল ভাল অভ্যাস তৈরি করুন। বাচ্চাদের সামাজিক কার্যকলাপে জড়িত হতে উৎসাহিত করুন।  প্রযুক্তি যে আমাদের ব্যক্তিগত, পারিবারিক জীবন, সামাজিক এবং রাষ্ট্রীয় জীবনের অনেক উপকারে আসছে। আবার প্রযুক্তির সীমাহীন এবং অপ্রয়োজনীয় ব্যবহারের ফলে আমরা অজান্তে নিজেই নিজের ক্ষতি করছি। কারণ, সময়ের সাথে সাথে এটি কাছের ও প্রিয় মানুষদের থেকে প্রতিনিয়ত আলাদা করে দিচ্ছে।