করোনা থেকে ১০০% মুক্তিতে আপনার কাছেই করোনার ঔষধ!

করোনা থেকে ১০০% মুক্তিতে আপনার কাছেই করোনার ঔষধ!

অচেনা করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে ১০০% মুক্তি পাওয়ার ঔষধ আপনার কাছেই আছে। করোনা ভাইরাসের তান্ডবে সারা দুনিয়া থেকে এতোগুলো প্রাণ এভাবে চলে যাচ্ছে দেখে হৃদয়টা কেঁপে উঠলেও আমরা  অনেকেই এখনও সচেতন হতে পারছিনা।  জীবনের নানা চাহিদার পেছনে দৌড়াতে দৌড়াতে দুনিয়ার মানুষগুলো এখন কেমন যেন বেসামাল হয়ে গেছে। সুদ, ঘুষ, যেনা, ব্যাভিচার, অন্যায়-অত্যাচার, জুলুম আর দখলদারিত্ব করে সম্পদের পাহার বানানো, বিলাসী ও আয়েসী জীবন যাপনে সৃস্টির জগতের শ্রেষ্ঠকুল দুনিয়াবী শান্তি আর ভোগ বিলাসে যেন মনে হয় সৃষ্টির স্বর্গ বা বেহেস্তখানাকেও হার মানায়।  এমন লোভে পড়ে তারা মৃত্যুকে ভুলে যায়। অল্পক্ষনের দুনিয়াই বেশি সময় বাঁচতে চায়। ওই সকল ব্যক্তিদের আচার আচরণ দেখে মনে হয় মৃত্যুর ফেরেস্তকে যদি ঘুষ দেয়ার সুযোগ থাকতো তাহলে ঘুষ দিয়ে হলেও অন্যের চেয়ে একটু বেশি বেঁচে থাকার চেষ্টায় মত্ত্ব থাকতো। হাররে দুনিয়ার মানুষ এমন অশান্ত সমাজে সৃষ্টিকর্তা সময়ে সময়ে আপনাদের দিক্ষা দেয়ার জন্য নানা গজব দিয়ে থাকেন। তবুও আমাদের হুশ হয়না।

মানুষ তার মানবিকতার সীমানা প্রাচীরের শেষ পর্যায় পৌঁছে গেছে। আমরা সৃস্টির সেরা জীব।  আমরাও প্রকৃতির প্রিয় সন্তান। আমাদের নানা লোভ আর হটকারিতার কারণে প্রকৃতি, প্রাণীকুল প্রায় বিপন্ন। প্রকৃতি মাঝে থেকেই প্রকৃতিকে আমরা নানাভাবে কোণঠাসা করে ফেলেছি।

পারমানুবিক বোমা, মারাত্নক মরনাস্ত্রের আগ্রাসী ব্যবহারে প্রকৃতি, কত প্রানী, মানুষ, দেশকে ধ্বংস ও তছনছ করে দিয়েছি। সেই প্রকৃতি ও অসহায়দের বুকফাটা নির্যাতনের হাহাকারের প্রতিশোধ তো আমাদের গায়ে লাগবেই।

অচেনা অজানা করোনা ভাইরাসের তান্ডবের কাছে বিশ্বের ছোট-বড় অনেক দেশের ক্ষমতা ধররা আজ নতি স্বীকার করেছে। থেমে গেছে তাদের জীবনের চাকা। মানুষের মৃত্যুর মিছিলের লাইন দীর্ঘ থেকে দীর্ঘতর হচ্ছে। প্রাধানমন্ত্রী, রাষ্ট্রপতি, ম্যাজিস্ট্রেট, জজ, ব্যারিষ্টার, ধনী-গরিব, কৃষক-শ্রমিক, ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যবসায়ী, জন্তুজানোয়ার কাউকেই চিনছেনা এই অচেনা ভাইরাসটি। মানুষ বাঁচার জন্য এই অনুজীবের বিরুদ্ধে গোটা দুনিয়া অঘোষিত যুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েছে।  কোন প্রতিকার মেলাতে পারছেনা।

দেশের সরকার, প্রধানমন্ত্রী, ম্যাজিস্ট্রেট, পুলিশ, ডাক্তারসহ অনেকেই করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় সন্মুখ যোদ্ধা হিসেবে কাজ করলেও তারাও এই করোনা ভাইরাসের আক্রমণ থেকে রক্ষা পাচ্ছেনা। ঝরে যাচ্ছে লক্ষ লক্ষ প্রাণ।  করোনার বিভষ্য তান্ডবে সারা বিশ্বে প্রতিদিনই বাড়ছে মৃতের সংখ্যা।  বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থাসহ সারা দুনিয়ার গবেষকদের ব্যাপকভাবে ভাবিয়ে তুলছে কোভিড-১৯।  করোনা ভাইরাসের সংক্রমণকে ঠেকানোর জন্য কত কিছুই না আবিষ্কার করার চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে অনেকেই।  বিভিন্ন দেশের যে যেখান থেকে পারছে সেখান থেকেই এর প্রতিকারের জন্য প্রাণপণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

আবার করোনা ভাইরাসের সংক্রমণকে ঠেকাতে ইতিমধ্যে বহু গুজবও উঠেছে। অনেককে আইনের আওতায়ও আনা হয়েছে।  করোনা ভাইরাসের হাত থেকে রক্ষা পেতে কেউ  কোরআনের আয়াত পাঠ করছে। কেউবা আবার স্বপ্নে দেখা পদ্ধতি কাজে লাগাতে মেতে আছে।  কেউবা আবার ঝাড়ফূকসহ কবিরাজিও করছে। যে যেভাবে পারছে এগিয়ে যাচ্ছে।

দেশে দেশে চলছে লক ডাউন। বন্ধ হয়েছে মক্কা-মদিনার মসজিদসহ দেশ বিদেশের হাজার হাজার মসজিদ, মন্দির, গীর্জাসহ ধর্মীয় উপাস্যনালয়। বন্ধ হয়েছে দেশে বিদেশের শপিংমলসহ বিভিন্ন মার্কেট, অফিস আদালত ও বিনোদন কেন্দ্রগুলো। আবারও দফায় দফায় খুলে দেয়া হচ্ছে ওই সকল শপিংমল, মার্কেটসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান ও মসজিদগুলো।

তবুও করোনা ভাইরাসের কোন ভয়ই নেই।  কাউকে পরোয়া করছে না। অচেনা করোনা ভাইরাসের দাপটে থেমে গেছে পারমানবিক বোমা বিষ্ফরণ, মারাত্নক মরনাস্ত্রের আগ্রাসী ব্যবহার।

বিশ্বব্যাপী দিনের পর দিন করোনা তুমি কেড়ে নিচ্ছ লাখো মায়ের বুকের ধন। করোনাকে দমন করতে আজ বিশ্বের রাষ্ট্রে রাষ্ট্রে খুলেছে জ্ঞান, বিজ্ঞান, ধ্যান, ধারনা, নানা বৈজ্ঞানিক কলা-কৌশল ও গবেষণার ঝুড়ি।

করোনা তোমার ভয়াল থাবায় ভীত সন্ত্রস্ত গোটা মানব জাতি আজ স্ব-স্ব ধর্মে দিবা-নিশি প্রার্থনা করছে মসজিদ, মন্দির, গীর্জা ও প্যাগোডাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উপাস্যনালয়ে। করোনা তুমি কখন শান্ত ও খ্যান্ত হবে সেই প্রত্যাশায় গোটা মানব জাতি মিডিয়া, চিকিৎসক, রাষ্ট্রনায়কসহ সংশ্লিষ্টদের কাছে বার বার জানতে চাচ্ছে।

করোনা তোমায় সেলুট। কিভাবে মানবতার সেবা করতে হয় তা তুমি রাষ্ট্র যন্ত্রকে শিখিয়েছ। কিভাবে মানুষে মানুষে বিশ্বভাতৃত্ব তৈরি করতে হয় তাও তুমি শিখিয়েছ।

কোভিড-১৯ তুমি যে কি? তুমি স্রাষ্টার শ্রেষ্ঠজীবকে বলছো থামো।শৃঙ্খলা শেখো, আপন স্বত্ত্বাকে পাক পবিত্র রাখ, প্রকৃতিকে ভালবাসতে শেখো, নিজ অন্তর আত্নাকে স্রষ্ঠার সৃষ্টির রহস্যকে সমীহ করো, ভালবাসো, ভুলে যাও অতীতের যত গ্লাণি, প্রতারণা, ঘুষ, দুর্নীতি, জুলুম অত্যাচার, নিন্দা ও যতোসব কুৎসা। আর ডিজিটাল যুগের আধুনিক সভ্যতার মিথ্যা, লোভ লালসা ভোগ বিলাস ছাড়ো। হও তৃণের মতো, সেবা দাও সমুদ্রতলদেশ থেকে মহাকাশ পর্যন্ত।

করোনা তুমি এবার আমাদের করুনা করো। অনেক হয়েছে। তোমার এরূপ জীবন নাশকারী আচরনে (বেহায়পনার কারণে) গোটা মানবজাতিকে বাড়িতে, মসজিদ, মন্দির, গীর্জা, প্যাগোডায় প্রার্থনা করা শিখিয়েছে। শিখিয়েছে মানবতা, বিশ্ব ভতৃত্ব ও শৃঙ্খলা।

করোনা তুমি তোমার স্রস্টার আদেশে এবার থামো। শান্তি ফিরিয়ে দাও গোটা মানবজাতির অন্তরে এবং প্রতিটি রাষ্ট্র যন্ত্রে।

শোন হে করোনা, যুগে যুগে কোন ভয়াল অপশক্তি দমিয়ে রাখতে পারেনি এ ভুমন্ডলের সভ্যতার অগ্রযাত্রাকে, তোমাকে জয় করবেই করবে, ফিরিয়ে আনবে শান্তি ও আনন্দ উল্লাসে মেতে উঠবে গোটা মানবজাতিসহ প্রিয় সোনার বাংলাদেশ।

আপনি কি বিনা প্রয়োজনে করোনা কিনতে বাহিরে যাচ্ছে? অচেনা করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ থেকে ১০০% মুক্তি পেতে এর ঔষধ আপনার কাছেই আছে। বাহিরে না গেলে করোনা আপনাকে কোনো ভাবেই ছোঁতে পারবেনা।  তাই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত ঘরেই থাকুন। সরকার আপনার পাশে আছে। সরকারসহ সংশ্লিষ্ট বিভাগের দেয়া নিয়ম মেনে চলুন। আপনি নিজে নিরাপদ থাকুন। অন্যকে নিরাপদ রাখুন, ঘরেই থাকুন। তাহলেই আপনি, আপনার প্রতিবেশি, সমাজ তথা রাষ্ট্রযন্ত্র নিরাপদ থাকবে ইনশাল্লাহ্। অন্ধকার কেটে আলো আসবেই। আপনার সোনালী রঙিন জীবনের শুভকামনায় আমি মো. আব্দুল বারি খান।