নওগাঁ জেলা জজ আদালতে ভার্চুয়াল কোর্টের পথ চলা শুরু

নওগাঁ জেলা জজ আদালতে ভার্চুয়াল কোর্টের পথ চলা শুরু

স্টাফ রিপোর্টার: আজ থেকে নওগাঁ জেলা জজ আদালতে ভার্চুয়াল কোর্টের পথ চলা শুরু হয়েছে।  গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের ' আদালত কর্তৃক তথ্য - প্রযুক্তি ব্যবহার অধ্যাদেশ, ২০২০ পাসের মাধ্যমে ও মহামান্য  সুপ্রীম কোর্টের নির্দেশনা মোতাবেক নওগাঁ জেলা ও দায়েরা জজ আদালতে কারাগারে আটক ( হাজতী) আসামীদের জামিন শুনানির জন্য  ভার্চুয়াল কোর্ট সৃজন করা হয়েছে। বিজ্ঞ আইনজীবীগণ ইমেইলে বা My Court লিংক ব্যবহার করে জামিনের আবেদন করতে পারবেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। 

জাতির এই ক্রান্তিকালে বিচার বিভাগের এই গুরুত্বপূর্ণ ও যুগান্তকারী উদ্যোগকে বাস্তবায়নের জন্য নওগাঁ বিচার বিভাগ মাননীয় জেলা ও দায়রা জজ এ.কে.এম. শহীদুল ইসলাম এর নেতৃত্বে নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। 

বিটিবি নিউজের অনুসন্ধানের আয়নায় জানা গেছে, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি ব্যবহার এর প্রতি অনিহা থেকে নওগাঁ জেলা আইনজীবী বার প্রথমে ভার্চুয়াল কোর্টে অংশগ্রহণে অপারগতা প্রকাশ করে। পরিস্থিতি মোকাবেলায় পরবর্তীতে দক্ষ ও বিজ্ঞ জেলা জজ এ. কে. এম. শহীদুল ইসলাম এর ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় বিজ্ঞ কৌশলীদের জন্য প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হয়। এতে করে  সহজেই তাদের মাঝে ভার্চুয়াল কোর্ট ভীতি দুর হয়। যার ফলে আজ নওগাঁ জেলা আইনজীবী বার সর্বসম্মতিক্রমে ভার্চুয়াল কোর্টে অংশগ্রহণ এর পুনঃসিদ্ধান্ত গ্রহন করেন বলেও জানা গেছে।

আজ বিকেল পর্যন্ত নওগাঁ জেলা ও দায়রা জজ আদালতে প্রায় অর্ধশত মামলায় জামিন আবেদন অনলাইনে দাখিল হয়েছে। অপরদিকে চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত, নওগাঁয় প্রায় দুইশত মামলায় জামিন আবেদন দাখিল করা হয়।

অধিকাংরাই মনে করছেন, আলাদাভাবে কম্পিউটার, প্রিন্টার, ক্যামেরা ও স্ক্যানার মেশিন ছাড়া ভার্চুয়াল আদালতে অংশগ্রহণ করা সম্ভব নয়। এ ধারনা সম্পূর্ণ ভুল। আপনার ব্যবহৃত একটি স্মার্ট ফোনই ওই সমস্যা সমাধানের জন্য যথেষ্ট হতে পারে।

বৈশ্বিক মহামারি করোনাকালে অভিযুক্ত ব্যক্তি দীর্ঘদিন যাবৎ জেলখানায় করোনা আক্রান্তের উচ্চ ঝুঁকির মধ্যে বন্দী জীবন যাপন করছেন। ভার্চুয়াল কোর্ট চালুর মাধ্যমে এই বিচার প্রার্থী মানুষের বিচার পাবার পথ অনেকটা সুগম হল। নওগাঁর বিচার প্রার্থী জনগন মনে করে এটি নিঃসন্দেহে সরকারের অন্যতম একটা মহতী ও জনআখাংকা পূরণে জনকল্যানমুখী একটি উদ্যোগ। যার মাধ্যমে বিচার প্রার্থী জনগনের কষ্ট লাঘবে সহায়ক ভূমিকা পালনে করবে বলে তাদের বিশ্বাস ।

মুঠোফোন ও কম্পিউটারের যুগে আধুনিক বিজ্ঞ আইনজীবীগণ প্রায় সকলেই ইন্টারনেটের ব্যবহারের উপর বেশ পারদর্শী। জাতীয় স্বার্থে প্রয়োজনে আপনি একে অন্যের সাহায্য নেয়ারও বেশ সুযোগ রয়েছে। দেশে চলমান অচেনা করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের সংকটকালীন সময়ে এর বিরোধিতা না করে জন কল্যাণার্থে এটাকে স্বাগত জানানোও জরুরি। সেই সাথে ডিজিটাল বাংলাদেশের স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে বিচার বিভাগকে সামিল করতে আপনিও এগিয়ে আসুন। সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলুন। নিজে নিরাপদ থাকুন। অন্যকে নিরাপদ রাখুন। তবেই আপনি, সমাজ, সরকার তথা রাষ্ট্রযন্ত্র নিরাপদ থাকবে। অন্ধকার কেটে আলো আসবেই।