বিশ্বের সমুদ্র সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় প্রধানমন্ত্রীর ৩ প্রস্তাব

বিশ্বের সমুদ্র সম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনায় প্রধানমন্ত্রীর ৩ প্রস্তাব

বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের আয়োজনে বুধবার সুইজারল্যান্ডের জেনিভায় মহাসগর বিষয়ক এক সংলাপে ভার্চুয়ালি যোগ দিয়ে এই প্রস্তাব দেন তিনি।

ভাষণে প্রধানমন্ত্রী বলেন, মহাসাগরের এবং অন্যান্য জলজ সম্পদের টেকসই ব্যবহার নিশ্চিতের জন্য, বিশেষ করে সম্পদ এবং পণ্যের বাজারে প্রবেশ এবং প্রযুক্তি সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে হবে।

“ওশান অ্যাকশন ভবিষ্যতের প্রজন্মকে সবল করে গড়ে তোলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। আসুন আমরা হাতে হাত রেখে আমাদের প্রতিশ্রুতি নবায়ন করি।”

সংলাপের ‘শতকোটির পুষ্টি’ শীর্ষক এই অধিবেশনে শেখ হাসিনা তার প্রথম প্রস্তাবে সামুদ্রিক সম্পদের পরিপূর্ণ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রয়োজনীয় সম্পদ, সক্ষমতা ও প্রযুক্তিসহ উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সহায়তা করার আহ্বান জানান।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে তিনি আঞ্চলিক মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি এবং অবৈধ, অননুমোদিত ও অনিয়ন্ত্রিত মাছ নির্মূল বন্ধের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে মৎস্য উন্নয়ন বিষয়ে যৌথ গবেষণার কথা বলেন।

তৃতীয় প্রস্তাবে তিনি উপকূলীয় বাসস্থান ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় মাছের উৎস চিহ্নিতকরণ এবং এর ব্যবস্থাপনার ওপকথা বলেন।

‘ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম’ এবং ফ্রেন্ডস অব ওশান অ্যাকশন’র ব্যবস্থানায় জেনিভায় পাঁচ দিনব্যাপী এই সংলাপ গত ১ জুন শুরু হয়েছে।

সংলাপে করোনাভাইরাস মহামারী প্রসঙ্গ ধরে শেখ হাসিনা বলেন, এই সভাটি এমন একটি সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে যখন সমগ্র বিশ্ব এই ঘাতকভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধরত।

“মহাসাগরের এবং মানুষের স্বাস্থ্যের মধ্যে যে যোগসূত্র রয়েছে, তা নিয়ে এই মহামারী সবাইকে নতুন করে চিন্তা করতে বাধ্য করেছে। কেননা অসুস্থতা মোকাবেলায় সমুদ্র একটি বড় উৎসের জোগানদাতা।”

শেখ হাসিনা বলেন, দারিদ্র্য দূরীকরণ, খাদ্য নিরাপত্তা ও জলবায়ু পরিবর্তন থেকে শক্তি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও উন্নত স্বাস্থ্য খাতে ২০৩০ আলোচ্যসূচির ব্যাপক লক্ষ্যগুলোর ক্ষেত্রে মহাসাগরের অবদান রয়েছে।

একটি স্বাস্থ্যসম্মত মহাসাগর খাদ্য ও পুষ্টির একটি বিশাল উৎস উল্লেখ করে তিনি বলেন, সমুদ্র এখন যা করছে তার চেয়েও ছয় গুণ বেশি খাবার সরবরাহ এবং পুষ্টিপূরণে সহায়তা করতে পারে।

‘গ্লোবাল নিউট্রিশন রিপোর্ট ২০২০’র উদ্ধৃতি দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, অনূর্ধ্ব-৫ বছর বয়সী সব শিশুর প্রায় এক-চতুর্থাংশ অপুষ্টির শিকার।

ভূমি ও সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রে যথেষ্ট চাপ থাকার বিষয়টি তুলে ধরে তিনি বলেন, মাছের মজুদের উপর জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব আরও মারাত্মক উদ্বেগের।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের প্রায় সাড়ে ১৬ কোটি মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতে তার সরকারের সাফল্য তুলে ধরেন।

‘উন্নত পুষ্টি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন আমাদের অগ্রাধিকার,’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “আমাদের জাতীয় পুষ্টি কার্যক্রম-এনপিপি সকল নাগরিকের, বিশেষ করে কিশোরী, গর্ভবতী নারী ও স্তন্যদাত্রী মায়েদের পুষ্টিগত অবস্থা উন্নত করার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে।”

শেখ হাসিনা বলেন, তার সরকারের যথাযথ পদক্ষেপের ফলেই ৫ বছর বয়সের নিচের যেসব শিশুর অপুষ্টি সমস্যা ছিল, তা দূর হয়েছে।

বিশ্বে মিঠা পানির মৎস্য উৎপাদনে বাংলাদেশের চতুর্থ স্থানে থাকার তথ্য তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “এই মৎস্য সম্পদ দেশের জনগণের প্রায় অর্ধেক প্রাণিজ প্রোটিনের উৎস।”

তিনি বলেন, “প্রায় এক কোটি ৭০ লাখ মানুষ, যার মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ নারী রয়েছে, বাংলাদেশে তারা জীবন ধারণের জন্য এই মৎস্য খাতের ওপর নির্ভরশীল। বছর বছর মাছের উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং মৎস্য উৎপাদন বৃদ্ধিতে আমাদের প্রয়াস অব্যাহত রয়েছে।”

‘ব্লু ইকোনমি’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে সামুদ্রিক মৎসজীবীদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।

২০১৭ সালের মহাসাগর সম্মেলনের উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, “সে সময় আমরা কিছু প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম এবং আইন করে প্লাষ্টিক বর্জ্য থেকে শুরু করে যে কোনো প্রকারের দূষণ থেকে সমুদ্র সম্পদ ও পরিবেশের সুরক্ষা নিশ্চিত করেছি।”

অ্যালায়েন্স ফর এ গ্রিন রেভলিউশন ইন আফ্রিকা (এজিআরএ)’র সভাপতি আগ্নিস মাতিলদা কালিবাতা, ফোর এসডি’র পরিচালক ডেভিড নাবারো এবং ওয়ার্ল্ড ফিস’র ভ্যালু চেইন এবং পুষ্টি বিষয়ক রিসার্চ প্রোগ্রাম লিডার শকুন্তলা থিলসটেডও একই অধিবেশনে বক্তৃতা করেন।