ফিরে দেখা ‘‘আব্দুল জলিলের ৭৪ বছর” আপন আলোয় আলোকিত একরাজা প্রয়াত নেতা আব্দুল জলিল এমপি

সম্পাদক ও প্রকাশক মো: আব্দুল বারি খান: জননন্দিত, ত্যাগী বর্ষিয়ান ও আদর্শবান নেতা হিসেবে আব্দুল জলিল কেমন ছিলেন, এ গুণাগুণ বিচারের যোগ্যতা আমার নেই। তবে শৈশব থেকে আজ অবধি তাঁর অনেক কিছু দেখেছি। এসব দেখে তাঁর সম্পর্কে যা বুঝেছি, জেনেছি, কীর্তিমান আব্দুল জলিলকে যেভাবে আবিষ্কার করেছি, সেটা বলার চেষ্টা করতে পারি। এর প্রয়োজন আছে। একজন ত্যাগী, জনদরদী কালজয় করে পৃথিবী থেকে চিরদিনের মতো চলে যাবেন, আর তাঁর গুণমুগ্ধ হিসেবে দু-চার কথা লিখব না, তা কি হয়? 

ফিরে দেখা ‘‘আব্দুল জলিলের ৭৪ বছর” আপন আলোয় আলোকিত একরাজা প্রয়াত নেতা আব্দুল জলিল এমপি

যখন তাঁকে আমার হৃদয়ের আঙ্গিনায় আবিষ্কার করি, তখন দেখেছি, আব্দুল জলিল সব বয়সী, সব মানুষের প্রিয় মুখ। বিশেষ করে নানা উন্নয়ন, জাতীয়, রাষ্ট্রীয়, সামাজিক ও ঘরোয়া জীবনে আব্দুল জলিলের আবেদন ছিল অতুলনীয়। আব্দুল জলিল সর্ব শ্রেণি পেশার মানুষের মন জয় করে চলার চেষ্টায় মগ্ন থাকত। তাঁর কর্মদক্ষতা, দাম্ভিকতা, নেতৃত্ব, সুন্দর চেহারা আর মাঝারি উচ্চতার একহারা গড়ন গড়পড়তা সকলের মনে ভালো লাগার একটা আমেজ তৈরি করে। তাঁর ভাবমূর্তি হয়ে ওঠে এমন, আরে, ও তো আমার পরিচিত সেই ছেলেটি/লোকটি যাকে আমি প্রতিদিনই দেখি।
ছোটবেলা থেকে দেখে আসছি; আমার বয়সে বড়-ছোট কিশোর-যুবারা, অনেক নেতা, বয়োবৃদ্ধরা আব্দুল জলিলের ভাবভঙ্গি ধরার চেষ্টা করত। যা আজ অবদি কেহ হতে পারেনি বা পারবেও না বলে আমার মনে হয়। তবে প্রয়াত বর্ষিয়ান ত্যাগী ও নানা গুণে গুনাম্বীত নেতা ও মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আব্দুল জলিলকে অনুসরণ করা দরকার। অভিনয় না করে নওগাঁর জলিল মনা প্রতিটি প্রাণ জলিল হওয়া দরকার। আব্দুল জলিলের স্মৃতির উপর ভর করে আজ যারা বড় বড় নেতা, গাড়ি বাড়িসহ কোটি কোটি টাকার মালিক হয়ে যেভাবে বেপরোয়া গতিতে চলছেন। প্রয়াত নেতা আব্দুল জলিলের অনুপস্থিতিতে নওগাঁ আওয়ামীলীগের অবস্থান কোথায়? শুধুমাত্র তাঁর জন্মবার্ষিকী, মৃত্যুবার্ষিকী, সামাজিক যোগাযোগে মত্ত্ব না থেকে তাঁর চিন্তা, চেতনা, বিশ্বাস ও দর্শনগুলোকে ধারণ করে তাঁর দেখানো পথেই হেঁটে নওগাঁ আওয়ামীলীগকে বাঁচাতে হবে। দলটিকে আরো গতিশীল করতে হবে। বিপ্লবী মন নিয়ে আব্দুল জলিলের শুন্যতা পূরণ করতে হবে। নওগাঁ আওয়ামীলীগের মোড়ে মোড়ে বাজচ্ছে পাওয়া-নাপাওয়াসহ নানা বেদনার করুন সুর। সকল নেতা-কর্মীদেরকে আব্দুল জলিল হয়ে নিবেদিত প্রাণ হিসেবে কাজ করতে হবে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন কঠিন চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে। সেই চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় প্রয়াত নেতা আব্দুল জলিলের বিশ্বাস, জ্ঞানগরিমা, আদর্শ ইত্যাদি বিষয়কে কাজে লাগিয়ে ত্যাগী, বঞ্চিত, নির্যাতিত নেতাকর্মীদের কাজে লাগাতে হবে বলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারনা। আব্দুল জলিল ছিলেন অপ্রতিদ্বনদ্বী একজন সহজ সরল হাস্যোজ্জ্বল তরতাজা এক মহাপ্রাণ। তাঁর চরিত্রগুলো ছিল বৈচিত্রে ভরপুর। সম্ভাবনাময় নওগাঁ উন্নয়নে সমাজ তথা দেশ উন্নয়নে তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি ছিল দারুন।
বুক ভরা বেদনা নিয়ে জননেতা আব্দুল জলিল চলে গেছেন। নওগাঁর জলিল বলেলই সবাই বুঝে নেই, তিনি আর কেউ নন আওয়ামীলীগ বা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানের আদর্শের পথে আমৃত্যু পথচলা এক রাজনিতীবিদদের নাম। ছাত্রলীগ থেকে আওয়ামীলীগ দীর্ঘ ৭৪ বছর জীবনে ৫৭ বছর একই আদর্শের পথে হেঁটেছেন তিনি। একাত্তরের বীর মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক আব্দুুল জলিল ১৯৩৯ সালের ২১ জানুয়ারী তৎকালিন নওগাঁ মহকুমার চকপ্রান মহল্লায় এক সম্ভান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন। তাঁর পিতার নাম ফয়েজ উদ্দীন আহম্মেদ ও মাতার নাম জরিনা ফয়েজ। তাঁর দুই স্ত্রী, দুই মেয়ে, দুই ছেলে। মেয়েরা ডাক্তার, ছেলেরা ছাত্র ও আইনজীবি।
সর্ব মহলে সজ্জন হিসাবে পরিচিত। আওয়ামীলীগ নেতা আব্দুল জলিল ১৯৫৭ সালে নওগাঁ কেডি হাই স্কুল থেকে মাধ্যমিক পাস করেন। রাজশাহী কলেজে অধ্যায়ন কালেই ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে যুক্ত হন। কলেজে থাকা অবস্থায় ১৯৫৭-৫৮ সালে ছাত্র সংসদ নির্বাচনে সাহিত্য সম্পাদক পদে জয় লাভ করেন তিনি। পরে তিনি ১৯৬০ সাল বগুড়া আযিযুল হক কলেজ থেকে ইনটারমিডিয়েট পাশ করেন। ইনটারমিডিয়েটের পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে  অধ্যায়ন কালে ডাকসুর অতিরিক্ত সেক্রেটারী পদে নির্বাচিত হন। এ সময় তিনি ছাত্রলীগের ক্রীড়া সম্পাদক ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে রাষ্টবিজ্ঞান সমিতির সদস্য র্নিবাচিত হন। এর পর তিনি অর্নাসসহ মাষ্টার্স কোর্স সমাপ্তির পর ব্যারিষ্টারি পড়তে লন্ডন যান। বাঙ্গালি জাতির অভিসংবাদিত নেতা বঙ্গবুন্ধু শেখ মজিবর রহমান আগরতলা মামলা থেকে মুক্ত হয়ে লন্ডন সফরে গেলে জলিলসহ লেখাপড়া করতে যাওয়া ছাত্রনেতারা দেখা করেন। সেই সময় বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন তিনি খবর পাঠালে তারা যেন দেশে চলে আসেন। বঙ্গবন্ধুর কথায় সাড়া দিয়ে ১৯৬৯ সালে দেশে ফিরে নির্বাচনী রাজনিতিতে সক্রিয় হয়ে উঠেন। ’৭০ এর নির্বাচনের পর রাজশাহী বিভাগে সক্রিয় ভাবে বঙ্গবন্ধু আহুত অসহযোগ আন্দোলনে নেতৃত্ব দেন আবদুল জলিল। ’৭১ এর মহান মুক্তিযুদ্ধে ৭ নন্বর সেক্টরে ভারতের কালুর ঘাট ক্যাম্পে কো- অডিনেটর হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ’৭২ সলে নওগাঁ পৌরসভার ভাইস-চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। আব্দুল জলিল ১৯৭৩ এর নির্বাচনে প্রথম বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। ’৭৫ সালে এক বিশেষ পরিস্থিতে কিছু সময়ের জন্য সব দল মিলে জাতীয় দল বাকশাল গঠন করার পর আব্দুল জলিল নওগাঁর গভর্নর পদে নিয়াগ পায় এবং একই সংঙ্গে বাকশালের যুক্তফ্রন্ট জাতীয় যুব লীগের নির্বাহী কমিটির সদস্য হন। তিনি জাতীয় ও আন্তর্জাতিক ষড়যন্ত্রে স্বাধীন বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠাতা ও রাষ্ট্রপতি বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবর রহমান স্বপবিারে নিহত হলে স্বাধীনতার পক্ষে নেতা কর্মীদের উপর নির্যাতনের ষ্টিম রোলার নেমে আসে।
বঙ্গবন্ধুর আদর্শের হাজার হাজার নেতা কর্মীর সঙ্গে গ্রেফতার হন আব্দুল জলিল। ’৭৫ এর ১৫ আগষ্টের পর দীর্ঘ প্রায় চার বছর বিনা বিচারে কারা নির্যাতন ভোগ করে ১৯৭৯ সালে তিনি মুক্তি লাভ করেন। ১৯৮৪ সালে কারা নির্যতিত এই নেতা নওগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। ’৮৬ এর সংসদ নির্বাচনে দ্বিতীয়বারের মত সংসদ নির্বাচিত হন আব্দুল জলিল। এসময় তিনি জাতীয় সংসদের বিরোধী দলের চীপ হুইপের দায়িত্ব পালন করেন।’ ৮৮ সালে জনপ্রিয় এই নেতা জনগনের ভোটে দ্বিতীয় বারের মত এই নেতা নওগাঁ পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। স্বৈরাচার বিরোধী আন্দেলোনের এই দিন গুলোতে আব্দুল জলিল খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন । ১৯৯১ ও ৯৬ সালের সংসদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পেলে নওগাঁ থেকে নির্বাচিত হতে পারেন নি । বঙ্গবন্ধু হত্যার ২১ বছর পর ’৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকার গঠন করলে টেকনোক্র্যাট কোটায় ’৯৯ সালে মাত্র ১৪ মাস বানিজ্যমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেন আব্দুল জলিল এমপি। ২০০১ সালে নওগাঁ-৫ সদর আসন থেকে দ্বিতীয় বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। আওয়ামীলীগের প্রভাবশালী এ নেতা টানা ১৬ বছর নওগাঁ জেলা আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক ছিলেন। ২০০১ সালে জোট সরকার ক্ষমতায় এলে আওয়ামীলীগসহ অঙ্গসংগঠনের হাজার হাজার নেতা কর্মী নির্যাতনের স্বীকার হন। এই কঠিন দূর্যোগের দিনে ২০০২ সালে আব্দুল জলিল কাউন্সিল অধিবেসনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক নির্বাচিত হন। এসময় জঙ্গিবাদের ভয়ংকর উত্থান ঘটলে আওয়ামীলীগের সাধারন সম্পাদক হিসাবে কর্মী দরদী আব্দুল জলিল সারাদেশে চষে বেড়ান। ১৪ দল গঠনসহ আন্দোলন সংগ্রামে শুধু ঐতিহাসিক ভূমিকাই রাখেননি নিরোলস পরিশ্রমও করেছেন তিনি। এমনকি দলের অনেক বির্তকিত সিদ্ধান্তে কলংকের দায় নিজের কাধেঁ নিতে ভুল করেননি। এদিকে জরুরী অবস্থা জারির পর ২০০৭ এর ২৮ মে গ্রেফতার হন আব্দুর জলিল। কারাগারে গিয়ে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়েন। ওয়ান- ইলেভেনের সময় এই অসুস্থ  প্রবীন রাজনীতিবিদের অবর্ননীয় নির্যাতন নেমে এসেছিলেন। এসময় চাপের মুখে আব্দুল জলিলকে দিয়ে দলের বিরুদ্ধে একটি বিবৃতি পাঠ করিয়ে এর অংশ বিশেষ গনমাধ্যমে প্রচার করেছিল সেনা সমর্থিত তত্ত্ববধায়ক সরকার। এই পরিস্থিতিতে জীবন নাশের আশংকায় পরিবার পরিজনের চাপে শুধু জীবন নিয়ে বেঁচে থাকার জন্য মুচলেকা দিয়ে মুক্তির জন্য আবেদন করেছিলেন এই কারা বন্দি জননন্দিত নেতা। এরপরও মুক্তি মেলেনি কারাবন্দি ওই নেতার। জলিলের পরিবার তখন আদালতে যায়। দীর্ঘ ৬/৭ মাসেও আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে কোন মামলা না থাকায় হাইকোট তার ডিটেনশন অবৈধ ঘোষনা করেন। এ আদেশের পর তরিঘড়ি করে আয় বর্হিভূত অবৈধ সম্পদ রাখার অভিযোগ এনে দূনীতি দমন কমিশন তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, জ্ঞাত আয় বর্হিভূত এবং গোপন করে ৬৫ লাখ ২৯ হাজার ২২৯ টাকার দূর্নীতি কেেছন। তত্বাবধায়ক সরকারের আমলে দূনীতির অভিযোগে আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে মামলা হলেও স্বাধীনতা যুদ্ধের সময় সেই তরুণ বয়সে সততার এক উজ্জল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছিলেন তিনি। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় নওগাঁ পৌরসভার ভাইস-চেয়ারম্যান ও মহকুমা সংগ্রাম কমিটির সম্পাদক আব্দুল জলিল তার সহযোগী মুক্তিযোদ্ধাদের সহযোগীতায় নওগাঁ ন্যশনাল ব্যাংক থেকে ৭১ লাখ ৮০ হাজার টাকা উদ্ধার করেন। উদ্ধারের পর ভারতের বালুঘাট ষ্টেট ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ায় সততার সাথে এই টাকা জমা দেয়। এই টাকা থেকে ভারতে ৯টি মুক্তি বাহিনী ট্রেনিং ক্যাম্প পরিচালনা ও প্রশিক্ষকদের মাসিক বেতন দেওয়া হয়। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর তরুণ মুক্তি যোদ্ধা আব্দুল জলিল অবশিষ্ট ৩১ লাখ ৭৪ হাজার নওগাঁর ওই ব্যাংকে জমা দেন। সেই আব্দুল জলিল তরুণ বয়সে আজকের হিসাবে ৩০ কোটি টাকার লোভ সামলিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস মাত্র ৬৫ লাখ টাকা দূর্নীতির অভিযোগে আব্দুল জলিল বিনা বিচারে কারাগারে সেই সময় আটক ছিলেন। ২০০৮ সালের ২মার্চ পাঁচটি শর্তে তাকে এক মাসের জন্য প্যারালে মুক্তি দেয়া হয়। পরদিন তিনি স্বস্ত্রীক সিংগাপুর যাত্রা করেন নিজের সু-চিকিৎসার জন্য। ২০০৮ সালে জাতীয় নির্বাচনে নওগাঁর আসন থেকে চতুর্থ বারের মত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এসময় আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার পর অনেক সংস্কার পন্থী দলীয় রাজনীতিতে প্রত্যাবর্তন হলেও আব্দুল জলিল নানা কারণে দলের আস্থাভাজন হতে পারেননি। ওই সময় প্রায় ৪ বছর রাজনীতি থেকে প্রায় নির্বাসিত ছিলেন আওয়ামীলীগের এই দীর্ঘ পরীক্ষিত নির্যাতিত ত্যাগী নেতা।
২০১৩ সালের জানুয়ারিতে আব্দুল জলিলের ৭৪তম জন্ম বার্ষিকীতে নওগাঁয় যে অনুষ্ঠানের আয়োজন হয়েছিল সেখানে তিনি তাঁর বেদনার কথা বলেছিলেন। কিভাবে ওয়ান ইলেভেনে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতাল শর্যায় গভীর রাত পর্যন্ত তার কাঁধে পড়েছে গরম নিশ্বাস। কেমন করে রাখা হয়েছিল ঘুমহীন ভয় আর আতঙ্কের মধ্যে। এসময় আব্দুল জলিলের কথায় বেরিয়ে আসে তাঁর অন্তহীন বেদনা, বুকের ভেতর জমা দহন, কষ্ট, অভিমানের হালকা ইঙ্গিত। দোয়া চান সবার কাছে। তিনি আরো বলেন, আমার ছেলেটি জুলাই মাসে বারিষ্টার হয়ে দেশে ফিরবে। আল্লাহ যেন আরো দু’তিন বছর আমাকে বাঁচিয়ে রাখেন। তার স্বপ্নটি পূরন হলো না। প্রকৃত রাজনীতিবিদদের জীবন বুজি এমনিই হা-হা-কার হয়। আব্দুল জলিলের রাজনীতি ছিল গণ মানুষের প্রতি প্রবল আস্থা নিয়ে দেশ ও মানুষের সেবায় নিরন্তন নিরলসভাবে ছুটে চলা। বুক ভরা কান্না, বেদনা, অভিমান নিয়ে তাঁর জীবনটা যেন দহনে-দহনে ক্ষয়ে যাচ্ছিল।  তবুও তার দলের প্রতি গভীর ভালবাসা আর শ্রদ্ধার এতোটুকুও কমতি ছিল না। তবুও দেশ ও মানুষের প্রতি তাঁর কী অগাধ প্রেম ও আতœবিশ্বাস। তাঁর দলীয় সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি গভীর আনুগত্যও বটে।
২০১৩ সালের ৬ মার্চ বুধবার সন্ধ্যায় সিংগাপুরের মাউন্ট এলিজাবেথ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রবীন এই বর্ষিয়ান, ত্যাগী, নির্যাতিত ও নিপীড়িত রাজনীতিবিদ শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৭ টায় বাংলাদেশ বিমান যোগে তাঁর মরদেহ সিংগাপুর থেকে ঢাকায় আনা হয়। পরদিন শুক্রবার ৮ ই মার্চ ঢাকা ও নওগাঁয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে এই জনদরদী রাজনীতিবিদকে চিরবিদায় জানানো হয়। প্রয়াত নেতা আব্দুল জলিলের মতো জনগণের নেতাদের কোন মৃত্যু নেই। নওগাঁসহ সারা দেশে তাঁর বিভিন্ন কাজ কর্মই সকলের কাছে সৎ, ন্যায়-পরায়ণ ও গ্রহণযোগ্য ও জননন্দিত নেতা হিসেবে বার বার স্মরণ করিয়ে দেয়। এ সকল কাজের মধ্যেই তাঁর স্মৃতি লুকিয়ে আছেন বলেও অনেকেরই জানা। আমরা ও নওগাঁবাসীসহ দেশ-বিদেশের ভক্তকূল তাঁর ৭ম মৃত্যু বার্ষিকীতে তাঁর আতœার মাগফিরাত কামনা করে পরিবার পরিজনের প্রতি সমবেদনা জ্ঞাপন করছি।