আবারও মেগা প্রকল্পে অগ্রাধিকার

আবারও মেগা প্রকল্পে অগ্রাধিকার

নিউজ ডেস্ক: বৈশ্বিক মহামারীতেও উন্নয়ন কর্মকান্ড সচল রাখতে চায় সরকার। করোনাভাইরাস মহামারীতে দেশের সামগ্রিক অর্থনীতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়লেও থেমে যায়নি উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ। এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বিশেষ ব্যবস্থায় এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ। আসছে ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটেও অগ্রাধিকার পেতে যাচ্ছে পদ্মা সেতু, মেট্রোরেল, এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে, বিমানবন্দরের তৃতীয় টার্মিনালসহ মেগা প্রকল্পগুলো। একক প্রকল্প হিসেবে সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে রূপপুর পারমাণিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। এদিকে অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি সচল রাখতে অর্থের সরবরাহ বাড়াতে চায় সরকার। ফলে সরকারি খাতের ব্যয় বৃদ্ধির কৌশল নেওয়া হচ্ছে। আবার অযাচিত ব্যয় কমাতে কৃচ্ছ্র সাধনও করা হচ্ছে। ফলে অভ্যন্তরীণভাবে দেশের অর্থনীতিতে নতুন করে চাহিদার সৃষ্টি করছে বলে মনে করে অর্থ বিভাগ।

সূত্র জানায়, আগামী ২০২১-২২ অর্থবছরের বাজেটের জন্য ২ লাখ ২৫ থেকে ২৭ হাজার কোটি টাকার বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) প্রস্তাব করা হয়েছে। এ-সংক্রান্ত একটি বরাদ্দপত্র অর্থ বিভাগ থেকে পরিকল্পনা কমিশনে পাঠানো হয়েছে। গত ২৫ এপ্রিল ভার্চুয়ালি জুম প্ল্যাটফরমে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত জাতীয় সম্পদ ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা এবং আর্থিক ও আর্থিক মুদ্রা বিনিয়ম হার-সংক্রান্ত কোঅর্ডিনেশন কাউন্সিলের সভায় এসব বিষয়ে আলোচনার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আসছে বছর চলমান উন্নয়ন প্রকল্পগুলোকে অধিক গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে চলমান মেগা প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত শেষ করতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ জন্য আগামী অর্থবছরের বাজেটে এসব মেগা প্রকল্পে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। এ ছাড়া এসব প্রকল্প নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে শেষ করতেও নির্দেশনা দিয়েছে অর্থ বিভাগ। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, আগামী বাজেটের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে (এডিপি) ২ লাখ ২৫ হাজার ৩২৪ কোটি টাকা ধরা হতে পারে, যা চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির চেয়ে ১৪ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরের জন্য ২ লাখ ৫ হাজার ১৪৫ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন দিয়েছিল সরকার। যদিও তা সংশোধিত বাজেটে ৭ হাজার ৫০২ কোটি টাকা কমিয়ে ১ লাখ ৯৭ হাজার ৬৪৩ কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। সে হিসাবে আগামী অর্থবছরের এডিপির আকার দাঁড়াতে পারে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত এডিপির তুলনায় ২৭ হাজার ৬৮১ কোটি টাকা বেশি। নতুন এডিপিসহ সামগ্রিক বাজেটে স্বাস্থ্য, শিক্ষা, গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়ন ও কৃষি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। জানা গেছে, আগামী অর্থবছরও অন্যান্য অর্থবছরের মতো ফার্স্টট্র্যাকভুক্ত প্রকল্পগুলোই বরাদ্দের দিক থেকে সর্বাধিক গুরুত্ব পাচ্ছে। একক প্রকল্প হিসেবে সর্বোচ্চ ১৮ হাজার ৪২৬ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব করা হতে পারে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রে। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ প্রায় ৪ হাজার ৮০৭ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব করা হতে পারে রাজধানীতে চলমান মেট্রোরেল (এমআরটি-৬) প্রকল্পের জন্য এবং তৃতীয় সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৮০০ কোটি টাকার বরাদ্দ প্রস্তাব করা হতে পারে মাতারবাড়ী বিদ্যুৎ কেন্দ্রের জন্য। এ ছাড়া পদ্মা সেতুর রেল সংযোগ প্রকল্পের জন্য প্রায় ৩ হাজার ৫৮৭ কোটি টাকা, পদ্মা সেতু প্রকল্পের জন্য ৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। এ ছাড়া পায়রা বন্দরে প্রথম টার্মিনাল নির্মাণে ১ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা এবং পায়রা বন্দরের জন্য পৃথকভাবে ১ হাজার ১০৯ কোটি টাকার বরাদ্দ দেওয়া হতে পারে বলে জানা গেছে।