এসএমই প্রণোদনা ঋণের ৫০ শতাংশের বেশি নারীরা

এসএমই প্রণোদনা ঋণের ৫০ শতাংশের বেশি নারীরা

নিউজ ডেস্ক: সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তারা টাকা পেতে আজ থেকে আবেদন করতে পারবেন। আর এসএমই মোট ঋণের ৫০ শতাংশের বেশি নারী-উদ্যোক্তাদের দেয়ার লক্ষ্য এসএমই ফাউন্ডেশনের। করোনাভাইরাসের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে সরকারের এই প্রণোদনা প্যাকেজ।
প্যাকেজের আওতায় ঋণের জন্য আজ থেকে ব্র্যাক ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক এবং আইডিএলসি ফাইন্যান্সে আবেদন গ্রহণ করা হবে। পরবর্তীতে এসএমই ফাউন্ডেশনের সাথে চুক্তি স্বাক্ষর হওয়া বাকি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানেও আবেদন করা যাবে বলে এসএমই ফাউন্ডেশন জানিয়েছে।
অনলাইনে নারী-উদ্যোক্তা সংশ্লিষ্ট অ্যাসোসিয়েশন ও চেম্বার নেতৃবৃন্দ এবং দেশের শীর্ষ নারী-উদ্যোক্তাদের সাথে মতবিনিময় সভায় গতকাল এসব তথ্য জানানো হয়। এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক ফারজানা খানের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথি ছিলেন ফাউন্ডেশনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মো: মফিজুর রহমান। বক্তব্য রাখেন, ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক নাজিম হাসান সাত্তার,
ড. মো: মফিজুর রহমান বলেন, প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় এসএমই ফাউন্ডেশনের জন্য বরাদ্দকৃত অর্থের ন্যূনতম ২৫ শতাংশের বেশি নারী-উদ্যোক্তাদের মধ্যে বিতরণ করার লক্ষ্যমাত্রা থাকলেও ফাউন্ডেশন আশা করে নারী উদ্যোক্তাগণকে ৫০ শতাংশের বেশি ঋণ বিতরণ করা সম্ভব হবে। তিনি জানান, করোনাভাইরাস (কোভিড-১৯) পরিস্থিতিতে দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রম ত্বরান্বিত করা এবং পল্লী এলাকার প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নে সরকারের দ্বিতীয় দফার প্রণোদনার আওতায় চলতি অর্থবছরে মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) উদ্যোক্তাদের ৩০০ কোটি টাকা ঋণ দেবে এসএমই ফাউন্ডেশন। এর মধ্যে চলতি অর্থবছরে ১০০ কোটি টাকা এবং আগামী অর্থবছরে ২০০ কোটি টাকা বিতরণ করা হবে। এই লক্ষ্যে ইতোমধ্যেই ১১টি ব্যাংক ও নন-ব্যাংক আর্থিক ও প্রতিষ্ঠানের সাথে চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে ঋণ বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে ফাউন্ডেশন। ফাউন্ডেশনের লক্ষ্য, যেকোনো মূল্যে বেশি সংখ্যক নারী-উদ্যোক্তার ঋণ পাওয়া নিশ্চিত করা।
এসএমই ফাউন্ডেশনের মহাব্যবস্থাপক নাজিম হাসান সাত্তার বলেন, দেশের বিভিন্ন এসএমই ক্লাস্টার, অ্যাসোসিয়েশন ও চেম্বারের সদস্যসহ সারা দেশের সব শ্রেণীর নারী-উদ্যোক্তাগণ এই প্যাকেজের আওতায় ঋণ পাবেন। ইতঃপূর্বে এসএমই ফাউন্ডেশনের ক্রেডিট হোলসেলিং কর্মসূচির আওতায় সর্বোচ্চ ২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দেয়া হলেও নতুন প্যাকেজের আওতায় একজন উদ্যোক্তা সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ পর্যন্ত ঋণ পাবেন। বিভিন্ন অ্যাসোসিয়েশন ও চেম্বার থেকে পাওয়া সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে উদ্যোক্তাদের ঋণ দেয়া হলেও উদ্যোক্তাগণ সরাসরি ব্যাংকেও ঋণের জন্য আবেদন করতে পারবেন।
মতবিনিময় সভায় জানানো হয়, প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় উদ্যোক্তাগণ ৪ শতাংশ সুদে ঋণ পাবেন। গ্রাহক পর্যায়ে ঋণের পরিমাণ হবে সর্বনিম্ন এক লাখ টাকা থেকে সর্বোচ্চ ৭৫ লাখ টাকা পর্যন্ত। ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্কের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ ২৪টি সমান মাসিক কিস্তিতে ঋণ পরিশোধ করা যাবে। ব্যাংকের চাহিদাকৃত ডকুমেন্টসহ ‘সম্পূর্ণ/পরিপূর্ণ ঋণ আবেদনপত্র’ ব্যাংকের কাছে দাখিলের পর ঋণ মঞ্জুর করে গ্রাহকের অনুকূলে বিতরণের উদ্যোগ গ্রহণ করবে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক। সাধারণভাবে একক ও যৌথ মালিকানাধীন উদ্যোগের অনুকূলে ঋণ বিতরণ করা হবে। তবে প্রান্তিক ক্ষুদ্র, বিশেষ করে নারী-উদ্যোক্তাদের ঋণের আওতায় আনার লক্ষ্যে ব্যাংকার-গ্রাহক সম্পর্ক ও ঐকমত্যের ভিত্তিতে সর্বোচ্চ পাঁচজন উদ্যোক্তার অনুকূলে গ্রুপভিত্তিক ঋণ বিতরণ করা যাবে।
প্রাথমিকভাবে ব্র্যাক ব্যাংক, প্রিমিয়ার ব্যাংক, মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক, ব্যাংক এশিয়া, সাউথইস্ট ব্যাংক, ঢাকা ব্যাংক, ডাচ-বাংলা ব্যাংক, প্রাইম ব্যাংক, বেসিক ব্যাংক, আইডিএলসি ফাইন্যান্স এবং লঙ্কাবাংলা ফাইন্যান্স থেকে উদ্যোক্তাগণ ঋণ গ্রহণ করতে পারবেন। এসএমই ফাউন্ডেশনের সাথে চুক্তির শর্ত অনুযায়ী এসব ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান দেশের বিভিন্ন ক্লাস্টারের সদস্য উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি সারা দেশের নারী-উদ্যোক্তা এবং এসএমই ফাউন্ডেশন, বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি সংগঠন ও অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে সুপারিশকৃত এসএমই উপখাত, ট্রেডবডি এবং গ্রুপের তালিকাভুক্ত উদ্যোক্তা এবং সিএমএসএমই খাতের জন্য সরকার ঘোষিত প্রথম দফার প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় ঋণ না পাওয়া পল্লী ও প্রান্তিক পর্যায়ের উদ্যোক্তাগণকে ঋণ প্রদান করবে।