January 21, 2019 12:57 am
Breaking News
Home / জাতীয় / ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব আদিবাসী দিবস’

ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব আদিবাসী দিবস’

নিউজ ডেক্স: ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক ‘বিশ্ব আদিবাসী দিবস’। ১৯৯৪ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালন করে আসছে বিশ্বের প্রায় ৩০ কোটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের উন্নয়ন ও সংরক্ষণ উপকমিশনের কর্মকর্তারা তাদের প্রথম সভায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী দিবস পালনের জন্য ৯ আগস্টকে বেছে নেন। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনগণের মানবাধিকার, পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সুদৃঢ় করা এবং গণসচেতনতা সৃষ্টি করাই বিশ্ব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী দশক, বর্ষ ও দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্যে।

সরকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সর্বশেষ বাজেটেও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ বরাদ্ধ রাখা হয়েছে। তাদের জীবনমান উন্নয়নে শেখ হাসিনা সরকার কাজ করছে।

শেখ হাসিনার উদ্যোগে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের – উন্নয়নের মাইলফলক। এ চুক্তির ফলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের শান্তি, সৌহার্দ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা তথা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, কৃষি ও আর্থ-সামাজিক খাতে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে।

দেশের প্রায় ৫৫টি জেলায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী বসবাস রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বড় অংশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের বাস। রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবনে বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায়ও অল্পসংখ্যক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের দেখা যায়। দেশের উত্তরাঞ্চলে প্রায় ২০ লাখ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জনগোষ্ঠীর বাস চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, জয়পুরহাট, রংপুর, দিনাজপুর জেলায়। এ অঞ্চলে প্রায় ৩০টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনগোষ্ঠী বাস করে।

এসব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জাতিগোষ্ঠী হিসেবে মুল্যায়ন করে তাদের জন্য প্রতন্ত এলাকায় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের জন্য ললিতকলা একাডেমী স্থাপন, দূর্গম পাহারে বিদুৎ, পানির ব্যবস্থা করা ও পাকা রাস্তা করে দেয়া হয়েছে। এই জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আমাদের দেশকে সমৃদ্ধ করেছে। বিশেষ করে তাদের বসবাসের এলাকাগুলোর পরিবেশ খুবই সুন্দর। যা পর্যটকদের আকৃষ্ট করেছে।

সরকারীভাবে এখন পর্যন্ত ২৭ টি নৃ-গোষ্ঠীকে সংরক্ষন করা হয়েছে। প্রত্যেকটি জাতী গোষ্ঠীর ঐতিহ্য রক্ষায় সরকার বদ্ধ পরিকর। একই সাথে এই জাতী গোষ্ঠীকে সমৃদ্ধ ও সম্মানজন জনগোষ্ঠী হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে সরকার কাজ করছে। তাদের উৎপাদিত পন্য যাতে তারা সহজে বহন ও বিপনন করতে পারে সরকার সে দিকেও বিশেষ নজর দিচ্ছে।

আদিবাসী জনগোষ্ঠী এখন আর অবহেলিত নয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের জীবন মানের উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। আদিবাসীদের জীবনমান আলোকিত করতে বিদ্যুৎ ও সৌর বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আর তাদের উপর যেন জুলুম অত্যাচার না হয় সে দিকে নজর রাখা হচ্ছে।

About BTB News

Check Also

কর্ণফুলী টানেলের পর এবার যমুনা পারাপারে টানেল নির্মাণের উদ্যোগ

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ‘সেতু তৈরি হলে অনেক ক্ষেত্রেই নদীর পানি প্রবাহ বিঘ্নিত হয়। যেখানে নদীর তলদেশে …

উন্নত দেশ তৈরিতে দুর্নীতি রোধের বিকল্প নেই, জিরো টলারেন্সে প্রধানমন্ত্রী

উন্নত রাষ্ট্র গড়ার লক্ষ্যে একেবারে তৃণমূল পর্যায় থেকে শুরু করে শীর্ষ পর্যায়ের প্রতিটি শাখা পর্যন্ত …

লিঙ্গবৈষম্য কমিয়েছে, নারীর উন্নয়নে আরও নিশ্চিত হতে বদ্ধপরিকর সরকার

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর গণতান্ত্রিক সরকার ব্যবস্থায় বিভিন্ন দিক দিয়েই …

সরকারের লক্ষ্য উন্নত রাষ্ট্র গড়া, সন্ত্রাসবাদ নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্র-ভারতের চেয়েও এগিয়ে

শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকারের অধীনে টানা গত দশটি বছরে তথ্যপ্রযুক্তি, খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, বিদ্যুৎ, …

খাদ্য চাহিদা পূরণে ‘সী-উইড’

বিশ্বব্যাপী সামুদ্রিক খাদ্যের ব্যবহার বাড়ছে দিনদিন। পুষ্টিমান ভালো ও অর্থকরী হওয়ায় এর দিকে ঝুঁকছে অনেকেই। …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *