ডিজিটাল বাণিজ্যে বিপ্লব,১ বছরের মধ্যে ২৬ হাজার কোটি টাকার টার্গেট

ডিজিটাল বাণিজ্যে বিপ্লব,১ বছরের মধ্যে ২৬ হাজার কোটি টাকার টার্গেট

দুই বছরের মধ্যে ৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান
শৃঙ্খলা ফেরাতে নানা উদ্যোগ
ইভ্যালি ইঅরেঞ্জের মতো প্রতিষ্ঠান ব্যবসা করতে পারবে না
মহামারী করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ঢাকার মুগদাপাড়ায় নিজের বাসায় কোয়ারেন্টাইনে আছেন ব্যাংক কর্মকর্তা মিজানুর রহমান। ভাইরাস সংক্রমণরোধে এই পরিবারের অন্য সদস্যরাও খুব বেশি জরুরী প্রয়োজন ছাড়া বাইরে বের হচ্ছেন না। এ অবস্থায় ঘরে বসেই চিকিৎসা গ্রহণের পাশাপাশি মিজান সাহেব সংসারের নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর কেনাকাটা করছেন অনলাইনে। ডিজিটাল বাণিজ্যের কল্যাণে চাল, ডাল, মাছ, মাংস, সবজি, ওষুধ, এমনকি পশুপাখি এবং এ্যাকুরিয়ামের মাছের খাবারও এখন অনলাইনে পাওয়া যাচ্ছে। শুধু মোবাইল ফোনটি হাতে নিয়ে ই-কমার্স সাইটে প্রবেশ করে চাহিদামতো অর্ডার করলেই চলে আসছে সেই কাক্সিক্ষতপণ্য। সময়ের প্রয়োজনে ডিজিটাল কমার্স খাত দ্রুত সম্প্রসারণ হচ্ছে। আগামী এক বছরের মধ্যে ডিজিটাল কমার্স খাতে বাণিজ্যের পরিমাণ ২৬ হাজার কোটি টাকার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এ খাতে নতুন করে কর্মসংস্থান হবে ৫ লাখ মানুষের। ডিজিটাল বাণিজ্যে দেশে বিপ্লব ঘটে যাওয়ার কারণেই এই সাফল্য আসবে বলে আশা করা হচ্ছে। তথ্যপ্রযুক্তির সর্বোত্তম ব্যবহারের মাধ্যমে গত ১২ বছরে বাংলাদেশ পৌঁছে গেছে এক অনন্য উচ্চতায়। দৈনন্দিন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে দেশের মানুষ ডিজিটাল বাংলাদেশের সুফল ভোগ করছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, কৃষি, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, অর্থনীতি, শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য, দক্ষতা, কর্মসংস্থান, উদ্ভাবনসহ সকল ক্ষেত্রেই ব্যবহার হচ্ছে তথ্যপ্রযুক্তি নির্ভর সমাধান। এক্ষেত্রে সবচেয়ে দ্রুত এগিয়ে গেছে ডিজিটাল বাণিজ্য বা অনলাইনে কেনাকাটা। গ্রাহক সেবা নিশ্চিত করতে দেশের প্রায় সব প্রতিষ্ঠানই এখন অনলাইনে সেবা দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। এতে ব্যবসা বাড়ছে প্রতিষ্ঠানগুলোর। তবে নতুন এই ব্যবসা নিয়ে দেশে বিতর্কও কম নয়। আছে ঝুঁকিও। হালের ইভ্যালি, ইঅরেঞ্জ, রিংআইডি ও কিউকম ডটকমের মতো বিতর্কিত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানেগুলোর জন্য চরম ভাবমূর্তি সঙ্কটে পড়েছে ডিজিটাল কমার্স খাত। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটেই ডিজিটাল বাণিজ্য সম্প্রসারণ হওয়ার সুযোগ আরও বাড়াতে হবে। ডিজিটাল বাণিজ্যের নামে গ্রাহক ঠকানো, প্রতারণা, ভোক্তাদের অর্থ হাতিয়ে নেয়ার মতো কারসাজি বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।