February 18, 2019 9:29 pm
Breaking News
Home / জাতীয় / দ্রুততার সাথে এগুচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ

দ্রুততার সাথে এগুচ্ছে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের স্বপ্নটা প্রথমে দেখা দিয়েছিলো ১৯৬১ সালে। পাবনা জেলার ঈশ্বরদী উপজেলায় সেই স্বপ্নের বাস্তবায়নের উদ্যোগনেওয়া হয় তখন। আর সেই সময়ই প্রকল্পের জন্য অধিগ্রহণ করা হয়েছিলো ২৬০ একর জমি। তখনো দেশ স্বাধীন হয়নি। পাকিস্তানিদের কু চক্রান্তে হঠাৎইধূলিসাৎ হয়ে যায় স্বপ্নের এই প্রকল্পের কাজ। পরবর্তীতে ১৯৬৪ সালে প্রকল্পের জন্য যে যন্ত্রপাতি জাহাজে আনা হয়েছিল সেসব যন্ত্রপাতি চট্টগ্রাম বন্দরে নাএনে পাকিস্তানে নিয়ে যাওয়া হয়েছিলো। এরপর আর এই প্রকল্পের কাজ আর এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়নি।

তবে রূপপুরের স্বপ্নকে বাস্তবে ফিরিয়ে নিতে ২০১০ সালের ২১ মে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার বাংলাদেশ রাশিয়ার সাথে প্রকল্প নিয়ে একটি চুক্তিস্বাক্ষর করে। চুক্তি বাস্তবায়নের সময়কাল সাত বছর ধরা হয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটির প্রথম ইউনিট ২০২৩ সালে এবং দ্বিতীয় ইউনিট ২০২৪ সালেরঅক্টোবরে উৎপাদনে সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি ৬০ বছর ধরে বিদ্যুৎ উৎপাদন করবে।

রাশিয়ার সর্বাধুনিক প্রযুক্তি, আর্থিক সহায়তা ও সার্বিক তত্ত্বাবধানে পাবনার রূপপুরে এ পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ হচ্ছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংস্থাআণবিক শক্তি কর্পোরেশন-রোসাটম এর অঙ্গ প্রতিষ্ঠান এএসই গ্রুপ অব কোম্পানিজ প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করছে। এদিকে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছে, বর্তমানে এ প্রকল্পের মূল ভৌত অবকাঠামো নির্মাণের কাজ চলছে। সেই সঙ্গে রিঅ্যাক্টর, টারবাইন ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ ইকুইপমেন্ট ম্যানুফ্যাকচারিংয়ের কাজও শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে বিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রথম ইউনিটের ফাউন্ডেশনেরকংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ শেষ হয়েছে। এরপর সুপার স্ট্রাকচারের কংক্রিট ঢালাইয়ের কাজ চলছে। সব মিলিয়ে এখন পর্যন্ত প্রকল্পটির ২৭ ভাগ কাজ শেষ হয়েছে।

প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা আরও জানান, নিরাপত্তার দিককে সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এ বিদ্যুৎ কেন্দ্রে নিউক্লিয়ার রিঅ্যাক্টর দুটিরপ্রতিটিতে ১৫টি নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকবে। এর মধ্যে ৭টি অ্যাকটিভ অর্থাৎ বিদ্যুৎ দ্বারা চালিত এবং  ৮টি প্যাসিভ অর্থাৎ বিদ্যুৎ ছাড়া চালিত। নিউক্লিয়াররিঅ্যাক্টর প্রেশার ভেসেলের নিচে থাকছে প্রায় ৭৫০ মেট্রিক টন ওজনের একটি মোল্টেন কোর ক্যাচার। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এও জানিয়েছে যে,নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সম্পন্ন হবে এই প্রকল্প নির্মাণের কাজ। এই ব্যাপারে সরকার সার্বক্ষণিক নজরদারির মধ্যে রয়েছে। তারা চায় নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই যেন সম্পন্ন হয় রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণ কাজ।  

About BTB News

Check Also

সরকারি খরচে প্রবাসীদের লাশ আসবে দেশে

বিদেশের মাটিতে মাথার ঘাম পায়ে ফেলে দেশে রেমিট্যান্স পাঠিয়ে দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রেখেছেন প্রবাসীরা, …

নতুন জীবনে ফিরছে দেড়শ ইয়াবা কারবারি

বাংলাদেশে মাদক কারবারি নতুন কিছু নয়। বহুবছর আগে থেকেই এই দেশে মাদক কারবারি চলে আসছে। …

২০২০ সালের মধ্যেই দেশের আরো ৬ লাখ মানুষ বিদ্যুতের আওতায় আসছে

টানা তৃতীয়বারের মতো ক্ষমতায় থাকা আওয়ামী লীগ সরকার দেশের উন্নয়নের জন্য সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে কাজ …

চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে সেবা খাতের রফতানি আয় ২৮৭ কোটি ডলার

সমৃদ্ধির পথে রয়েছে দেশের সেবা খাতে রফতানি আয়। চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে দেশের সেবা …

দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ

দ্রুত গতিতে এগিয়ে চলছে ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের কাজ। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর জমে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *