November 15, 2018 2:52 am
Breaking News
Home / অন্যান্য / পুলিশ প্রশাসন / নওগাঁর নিয়ামতপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে মোটা অংকের উৎকোচ নেয়া মারপিটসহ অশোভন আচরনের অভিযোগ

নওগাঁর নিয়ামতপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে মোটা অংকের উৎকোচ নেয়া মারপিটসহ অশোভন আচরনের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: নওগাঁর নিয়ামতপুর থানার ওসি আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে মোটা অংকের উৎকোচ দিতে হয়, না পেলে মারপিটসহ অশোভন আচরন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। সম্প্রতি কয়েকটি মারপিট ও লাহ্নিত করার ঘটনা ছড়িয়ে পড়ায় স্থানীয় জন সাধারনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অতিষ্ট হয়ে পড়েছেন ওই থানার কর্মরত পুলিশ অফিসার ও পুলিশ সদস্যরা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সাধারন মানুষরা আইনী সহায়তা নিতে থানায় গেলে ওসি আকরামকে উৎকোচ দিতে হয়। ওসির আচরনে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে আইনী সেবা প্রত্যাশিরা। নিয়ামতপুর উপজেলা চেয়ারম্যান এনামুল হকসহ ওই উপজেলার ৮টি ইউনিয়নের চেয়ারম্যানরা ওসি আকরামের অপসারনসহ পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।
অভিযোগ কারীরা জানান, দুই মাস আগে বদলী সুত্রে ওসি আকরাম সিরাজগঞ্জ জেলা থেকে নওগাঁ জেলায় এসে নিয়ামতপুর থানায় যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকে আইনী সহায়তার মানুষের সাথে আইনী পরামর্শ না দিয়ে টাকার নেশায় বেপোরোয়া আচরন শুরু করেন। টাকা পাইলে সত্যকে মিথ্যা, মিথ্যাকে সত্য রুপে রুপান্তরিত করেন। গোটা উপজেলার আইন শৃংখলা ভেঙ্গে পড়েছে।
অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার নাকইল গ্রামের আইজুল গত ১৬ এপ্রিল স্ত্রী অপহরনের ঘটনায় থানায় যান একটি মামলা করতে। এসময় ওসি আকরাম মোটা অংকের টাকা দাবী করেন। টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ক্ষিপ্ত হয়ে উঠেন তিনি। পরে অন্যান্য পুলিশ অফিসারদের সামনে তাকে চর থাপ্পর, কিল ঘুষি মেরেও ক্ষান্ত না হয়ে মামলা না নিয়ে গলা ধাক্কা দিয়ে থানা থেকে নির্যাতন করে বের করে দেন ওসি আকরাম।
নির্যাতনের শিকার আইিজুল জানান, মামলা করতে ওসি আকরাম ১০ হাজার টাকা ঘুষ দাবী করে। তখন তিনি ৪ হাজার টাকা দিতে চাইলে তাকে মারপিটসহ থানা থেকে বের করে দেন। এ সময় থানার কয়েকজন কর্মকর্তা ও ভাবিচা ইউনিয়নের গ্রাম পুলিশের সদস্যও ছিলেন।
ভাবিচা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ওবাইদুল হক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ওসি আকরাম ঘুষের টাকা না পেয়ে আইজুলকে অন্যায় ভাবে মারপিট করেছে। এঘটনায় চরম ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যায়ের প্রতিকারে মানুষ থানায় যেতে অনিহা প্রকাশ করেছেন।
শ্রীমন্তপুর ইউনিয়নের রাজাপুর গ্রামের সোহেল রানা জানান, একটি জমির মালিকানা নিয়ে দুপক্ষের দ্বন্দ মিমাংশার কথা বলে থানায় ডেকে নিয়ে ৫০ হাজার টাকার ঘুষ দাবী করে ওসি আকরাম। টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে মারপিট করে তাকে। পরে তাকে থানা হাজতে কয়েক ঘন্টা আটকে রাখে। এতে করে মান সন্মানের হানি করেছে বলে জানান তিনি। একই আচরন করেন, পারইল ইউনিয়নের নাম না প্রকাশে অনিচ্ছুক দম্পতির সাখে। স্ত্রীর সামনে স্বামীকে শারিরিক ভাবে লাহ্নিত ও স্বামীর সামনে স্ত্রী সাথে অশোভন আচরন করেন তিনি। তারা অপমান ও লজ্জা সইতে না পেরে ওসির সাথে গন্ডগোলে জড়িয়ে পড়েন। এ নিয়ে থানা চত্বরে স্থানীয়দের সাথে পুলিশের গন্ডগোলের সৃষ্টি হয়।
শ্রীমন্তপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আজাহারুল ইসলাম জানান, ছোট খাট যে কোন বিষয়ে ওসি আকরাম দুপক্ষের নিকট থেকে ঘুষ নেয়, মারপিট করে নির্যাতন চালায়। পুলিশী হয়রানির ভয়ে কেহ ওসির বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায় না। বাধ্য হয়ে তারা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নিকট লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন তারা। মানুষ থানায় যাওয়া প্রায় ছেড়েই দিয়েছেন।
নিয়ামতপুর থানার এক পুলিশ কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি জানান, ওসির আচরনে অন্যান্য কর্মকর্তারাও অতিষ্ট হয়ে উঠেছেন। ওসি গোটা পুলিশ প্রশাসনকে কলংকিত করে তুলেছেন।
এ ব্যাপারে ওসি আকরাম হোসেনের সাথে কথা বললে তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ গুলো অস্বীকার করে বলেন, অন্যায় আবদারের সুযোগ না দেয়ায় কতিপয় ব্যক্তিরা মিথ্যা প্রচারনা চালিয়ে যাচ্ছেন।
এ ব্যাপারে মান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার হাফিজ জানান, ওসির বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ না পাওয়ায় কোন পদক্ষেপ নিতে পারছিনা। অভিযোগ পেলে বিষয়টি ক্ষতিয়ে দেখা হবে।#

About BTB News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *