November 15, 2018 1:59 am
Breaking News
Home / অন্যান্য / পুলিশ প্রশাসন / নওগাঁর মাদক সম্রাট ও অসৎ পুলিশরা কোথায়? মাদক বিরোধী অভিযানে মাদক সম্রাটরা এখনও ধরা ছোয়ার বাইরে

নওগাঁর মাদক সম্রাট ও অসৎ পুলিশরা কোথায়? মাদক বিরোধী অভিযানে মাদক সম্রাটরা এখনও ধরা ছোয়ার বাইরে

স্টাফ রিপোর্টার: দেশ থেকে মাদক নির্মূলে গত ক’মাস ধরে মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নেমেছে আই-নশৃঙ্খলা বাহিনী। দেশব্যাপী চলা মাদক বিরোধী অভিযানকে স্বাগত জানিয়েছে সাধারণ মানুষ। মাদক অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে দেশেব্যাপী চিহ্নিত মাদক স্পটগুলোর চিত্রও পাল্টে গেছে। বিভিন্ন স্পটে মাদক ব্যবসা অনেকটাই বন্ধ হয়ে গেছে। মাদক বিক্রেতাদের বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে গ্রেফতার হয়েছে। বাকি মাদক ব্যবসায়ীদেরও আইনের আওতায় আনার জন্য অভিযান অব্যাহত রেখেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
দেশব্যাপী চলা মাদক বিরোধী অভিযানের সুফল যখন দেশবাসী পেতে শুরু করেছে তখন মাদক ব্যবাসার গড ফাদাররা তাদের অবৈধ মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাওয়ার জন্য নানা রকম অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে। দেশের শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীরা টাকার বিনিময়ে এই আন্দোলনকে অন্য খাতে প্রবাহিত করে সরকারকে চাপে ফেলে মাদক বিরোধী অভিযান বন্ধের জোর প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
৩১ জানুয়ারি জাতীয় সংসদে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা ও মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত কাউকে ক্ষমা না করার নির্দেশনার পর ১লা মার্চ থেকে তথ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক প্রচারণামূলক কার্যক্রম পরিচালনার সাথে সাথে ১৪ মে আনুষ্ঠানিকভাবে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হয় সারা দেশব্যাপী। ধরা পড়তে শুরু করে মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত ছোট-বড় ব্যক্তিরা। এমনকি বড় ধরনের অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সাথে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়লে কিছু মাদক ব্যবসায়ী নিহত হলেও সাধারণ মানুষ নিরবে লাখ লাখ যুবকদের হত্যাকারী ঘৃণ্য এই মাদক ব্যবসায়ীদের মৃতুতে অখুশি হয়নি বরং স্থায়ীভাবে মাদকের করাল গ্রাস থেকে যুব সমাজকে রক্ষার স্বার্থে তা মেনে নিয়েছে।
সারা দেশের ন্যায় নওগাঁ জেলা আইন শৃঙ্খলা বাহিনীও পিছিয়ে নেই। সময় বদলেছে। মাদকের বিরুদ্ধে এখন সবাই সোচ্চার। তবে পুলিশের ইতিবাচক ভূমিকার কারণে মাদক ব্যবসায়ীদের দৌরাত্ম্য অনেকটাই কমেছে। বিশেষ করে বর্তমান পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন আসার পরেই পরিস্থিতি আরো ব্যাপকভাবে পাল্টে যায়। গতবারের জিরো টলারেন্সের নীতিতেই এগুচ্ছে নওগাঁ জেলা পুলিশসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। পুলিশ চাইলেই এবং অসৎ পুলিশ সদস্যরা মাদক সেক্টর থেকে চাঁদা না নেওয়ার অঙ্গিকারসহ আন্তরিক হলেই মাদক নিয়ন্ত্রণে শতভাগ সফল হতে পারবে।
মাদক সমাজের জন্য অভিশাপ। মাদক আমাদের তরুণ প্রজন্মকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিচ্ছে, আমাদের রাষ্ট্রের তারুণ্য নির্ভর উৎপাদনমুখীতা যে কয়েকটি ভয়ংকর কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে তার মধ্যে মাদক অন্যতম।
উত্তরাঞ্চলের বরেন্দ্র ভূমি নামে খ্যাত নওগাঁর মানুষ কিছুটা শান্তি প্রিয়। দিন আনে দিন খায় গোছের মানুষের জীবনে শান্তিও ছিল অফুরন্ত। অথচ গেল এক দশকে সে শান্তি যেন উবে গেছে। মাদকের সর্বনাশা থাবায় সমস্ত সুখ কেড়ে নিয়েছে এখানকার মানুষের। শিক্ষিত, অশিক্ষিত, ধনী, গরিব সবাই যেন এখন মাদক আতঙ্কে। হাত বাড়ালেই মিলত মাদক। ফেনসিডিল, ইয়াবা আর গাঁজা সেবন চলত স্কুল-কলেজের বারান্দাতেও। গোটা নওগাঁ জেলাসহ বিভিন্ন গ্রাম-গঞ্জ জুড়েই মাদকের এই ছোবল। সভা-সেমিনার করেও কোনো প্রতিকার মেলেনি। বরং দিনকে দিন এর ভয়াবহতা বাড়তেই থাকে। অপ্রাপ্ত বয়সীরাও মাদক সেবনে অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। দিশেহারা হয়ে পড়ে এখানকার অভিভাবকরা।
মাদক নিয়ে আপামোর সমাজের সবাই মহাআতঙ্কে। কূল-কিনারা খুঁজে পাচ্ছিল না শান্তি প্রিয় এখানকার মানুষ। মাদকের কারণে অন্য অপরাধের মাত্রাও বেড়ে যায় গত কয়েক বছরে। চুরি-ছিনতাই তো আছেই, স্কুলের কোমলমতি শিক্ষার্থীরাও ইয়াবা, গাঁজা-ফেনসিডিল সেবন করে আসছে।
বছর দেড়েক আগেও মাদকদ্রব্য পাচার রুট হিসেবে পরিচিত ছিল এ জেলার একাংশ। পুলিশের নিয়মিত অভিযানে সে পরিচয় বদলে গেছে। নওগাঁর চিত্র এখন অনেকটাই ভিন্ন। মাদক ব্যবসায়ীদের অনেকেই এলাকা ছেড়েছে। কেউ মন দিয়েছেন কৃষিসহ বা অন্য ব্যবসায়। র‌্যাব-পুলিশের অভিযানেই স্বস্তি ফিরেছে জনমনে।
নানা পরিস্থিতিতে মাদকব্যাসায়ীরা তাদের নিজ নিজ এলাকা ছাড়লেও ওই সকল এলাকা বা আস্তানা ছাড়েনি অসৎ পুলিশ সদস্যরা। তারা এখনও এলাকাগুলোতে মাঝে মধ্যেই ওঁত পেতে থাকছে মাসিক ও অনিয়মিত চাঁদা নেওয়ার আশায়। তাদের চাঁদা না পাওয়ায় বাজার সদাসহ নানা বিলাসিতা কমছে আর জ্বলে পুড়ে ছারখার হচ্ছে তাদের অসৎ চরিত্রের মনগুলো। থেমে নেই অসৎ সাংবাদিকরাও। তারাও পাল্লা দিয়ে অসৎ উদ্দেশ্যে তাদের নানা কায়দায় সহযোগীতা করে মোটা অংকের টাকা-পয়সা হাতিয়ে নিচ্ছে।
ব্যাপকহারে ধরা পড়ছে চেনা-অচেনা মাদকসেবীসহ মাদক ব্যবসীরা। আটকের নামে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে আবার তাদের নানা সুযোগ-সুবিধা পাইয়ে দিতেও সহযোগীতা করছে ওই সকল অসৎ পুলিশ সদস্যরা। মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে এক সময় পুলিশ সদস্যরাই মাদক ব্যবসায়ীদের সুকৌশলে পাহারা দিতো। তবে বর্তমানের সফল, সৎ, দক্ষ ও চৌকষ পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেনের যোগদানের পর থেকে অসৎ পুলিশের লম্বা লাইন অনেকাংশেই কমেছে বলে বিটিবি নিউজের অনুসন্ধানের আয়নায় উঠে এসেছে। জনবান্ধব গণমুখী টেকসই পুলিশী ব্যবস্থা গড়ে তোলার মহাকারিগর পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন
। অপর দিকে নওগাঁ সদর মডেল থানার ওসি সততার দিক থেকে বেশ এগিয়ে।
অসৎ সাংবাদিক এবং পুলিশ সদস্যদের দৃশ্যমান শাস্তি এখন চোখে পড়েনি। মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে সম্পৃক্ততা থাকা অনেক অসৎ পুলিশ সদস্যদের হয়তো বা দিনে এখনও লাখ লাখ টাকা ইনকাম হচ্ছে। তারা আজ কোটি কোটি টাকা মালিক, গাড়ি-বাড়িসহ অর্থের পাহাড় গড়ায় মত্ত্ব হয়ে পড়েছে। তাদের খুঁটির জোরও আবার অনেক শক্ত।
অপর দিকে সৎ ও চৌকষ আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা তাদের দায়িত্ব পালনকে আরো গভীরভাবে আঁকড়ে ধরতে আরো বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। তারা গোপনে কখনো মাদক সেবনকারী বা মাদক ব্যবসায়ীদের গোপন আস্তানায় নতুবা তাদের বাড়ির ভিতর কিংবা তাদের বাড়ির ছাদ-দোচালা টিনের ছাউনির উপরসহ সন্দেহভাজন বিভিন্ন জায়গায় সাড়াশি অভিযান চালাচ্ছে নওগাঁ জেলা মাদক নির্মুলের আশায়। অসৎ পুলিশ সদস্যদের দৃশ্যমান শাস্তি ও নাম জানা অজানা মাদক সম্রাটদের ধরে আইনের আওতায় আনতে পারলেই নওগাঁ জেলায় শতভাগ মাদক নিমূলের স্বপ্ন হয়তোবা বাস্তবায়িত হবে বলেও একটি অনুসন্ধানে জানা গেছে। আবার কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীদের চিহ্নিত করে তাদের আইনের আওতায় এনে তাদের মুখোস সাধারনের নিকট উন্মোষ করারও মানবিক আবেদন রয়েছে।
নওগাঁ জেলায় প্রায় ৩২ লাখ লোকের বিপরীতে প্রায় প্রতি ৩ হাজার ৭’শ জনসংখ্যার নিরাপত্তায় নিয়োজিত রয়েছেন মাত্র ১জন পুলিশ। স্বল্পসংখ্যক কর্তকর্তা দিয়ে জেলার আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশ প্রশাসনকে। তার উপর রয়েছে নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও বহুসংখ্যক মাদক স্পট, বালু মহাল, মারামারি-পাটাফাটিসহ নানা খুন যখমের লোম হর্ষক কাহিনী। জেলার ১১টি উপজেলা সমন্বয়ে ৯৯টি ইউনিয়নের প্রায় ৩০/৩২ লক্ষ জনগণের বিপরীতে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণের খবরদারিতে খুব অল্প সংখ্যক পুলিশ। অত্যন্ত নগণ্য এ লোকবল দিয়েই নিয়ন্ত্রিত হচ্ছে দেশের উত্তরাঞ্চলের বরেন্দ্র ভূমির শস্যভান্ডার নামে খ্যাত নওগাঁ জেলার আইনশৃঙ্খলাসহ যাবতীয় পুলিশী আইনী কার্যক্রম।
বিটিবি নিউজের আরো একটি অনুসন্ধানের আয়নায় জানা গেছে, মাদক সরবরাহের সবচেয়ে বড় আখড়া বলে খ্যাত নওগাঁ সদর উপজেলার সালেবাজ গ্রাম। এই গ্রামের সবাই প্রায় মাদক ব্যবসার সাথে জড়িত। হাত বাড়ালেই সব ধরনের মাদক পাওয়া যায়। দিন মজুর মিলন ও টফি দম্পতি মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে জিরো থেকে এই ব্যবসা করে কয়েক কোটি টাকার মালিক হয়ে গেছে। টাকার পাহাড়ে বসবাস করছে তারা। মাদক বিরোধী অভিযানে এখনও তারা ধরা ছোয়ার বাইওে থাকায় এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় শুরু হয়েছে।
নওগাঁ সদর উপজেলার কির্ত্তীপুর ইউনিয়নের মাদকের জন্য বহুল আলোচিত গ্রাম সালেবাজ। মাদকের জন্য এই গ্রাম সারাদেশে বেশ আলোচিত হয়ে ওঠে। এই গ্রামের বেশীর ভাগই পরিবার মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়ে। নওগাঁ শহরসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মাদকসেবীরা রাতদিন দলে দলে সেই গ্রামে গিয়ে মাদকদ্রব্য ক্রয় বিক্রয় ও মাদক সেবন করে থাকে।
এই গ্রামের এক দম্পতি মিলন ও তার স্ত্রী টফি। স্বামী স্ত্রী মিলে শুরু করে রমরমা মাদকের ব্যবসা। তার বিরুদ্ধে অনেক মামলা থাকলেও মাঝে মাঝে পুলিশের এবং মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রন অধিদপ্তরের হাতে গ্রেফতার হয়ে ছাড়া পেয়ে যথারীতি আবার ব্যবসা পুরোদমে ব্যবসা শুরু করে।
মাদকের ব্যবসায় তাদের দিন বদলে গেছে। অর্থের পাহাড় গড়েছে। শোনা গেছে তার স্ত্রী টফির নামে বিভিন্ন ব্যাংকে প্রচুর টাকা রয়েছে। এর উপর অতি সম্প্রতি পাহাড়পুর বাজারের উত্তর পার্শ্বে জনৈক হামিদুর রহমান মন্টুর মালিকানাধীন প্রায় দেড় বিঘা জমির উপর অবস্থিত বিশাল বয়লার চাতালটি কোটি টাকা দিয়ে ক্রয় করেছেন। এ ছাড়াও ইতি মধ্যেই প্রায় ২০ বিঘা জমি ক্রয় করেছেন। যার মূল্য প্রায় দেড় কোটি টাকা। তার ৫/৬ দামী ও আধুনিক মটর সাইকেল ক্রয় করেছেন। এই মটর সাইকেল দিয়ে কয়েক জন লোক জেলার বিভিন্ন জায়গাসহ পাশ্ববর্তী জেলা বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলায় মাদক সরবরাহ করে থাকে। এলাকাবাসীরা জানায় প্রশাসনের সবাইকে ম্যানেজ করে এই ব্যবসা করে থাকেন। মাঝে মধ্যেই লোক দেখানো অভিযান চালালেও কোন কিছুই পায় না তারা। এলাকাবাসীরা এবং জেলা মাদক বিরোধী সামাজিক আন্দোলনের নেতারা বার বার সভা সমাবেশ করেও কোন লাভ হয় না। তাদের ব্যবসা জোরে সোরেই চলে।
নওগাঁয় মাদক বিরোধী অভিযানে গত ১৯ মে থেকে ২৯ মে’১৮ পর্যন্ত গত ১০ দিনে নওগাঁ জেলার ১১টি উপজেলায় ২২৫টি মামলা দায়ের হয়েছে এবং ২৫৪ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এসব অভিযানে ২১ কেজি ৪৫৫ গ্রাম গাঁজা, ৫৫১ দশমিক ২৫ গ্রাম হেরোইন, ২০৯ পিছ এ্যাম্পল, ১৭৮৫ পিছ ইয়াবা, ৩০৪ লিটার চোলাই মদ এবং ৩৪৩ বোতল ফেনসিডিল উদ্ধার করা হয়েছে।
এ পর্যন্ত মাদকের গ্রাম থেকে শুধুমাত্র জসিমের স্ত্রী ও ওয়াসীমের স্ত্রীকে গ্রেফতার করলেও সালেবাজ গ্রামের মাদক সম্রাট বলে খ্যাত মিলন টফি, কুট্টির ছেলে মামুন ও রফিকের ছেলে রোস্তম, পাশ্ববর্তী মাধাইনগর গ্রামের আমজাদের ছেলে গাউসুল এবং কীত্তিপুর গ্রামের গফুরের ছেলে ও বাচ্চু মেম্বারের ভাতিজা শহীদ, সিদ্দিকের ছেলে লিটন মাদক বিরোধী অভিযানে এখনও ধরা ছোয়ার বাইরে তারা।
এছাড়া মাদকের অভয়ারন্য নামে খ্যাত নওগাঁর নুনিয়া পট্টি। ওই এলাকারও অনেকেই এখনও ধরা পরেনি। আবার কিছু অসৎ নেতা এবং তাদের ছেলে-মেয়েরা মাদককারবারী করা, সেবন ও ব্যবসা থেকে থেমে নেই। তারাও নানান ক্ষমতার দাপটে পাল্লা দিয়ে এসব কাজ-কর্ম চালিয়ে যাচ্ছে। এছাড়া নওগাঁর বিভিন্ন এলাকাসহ জেলার ১১টি উপজেলার বহু জায়গায় চিহ্নিত মাদক স্পট রয়েছে। যা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর মনের আয়নায় গাঁথা রয়েছে। আবার মাদক ব্যবসায়ী পরিতোষের নাম শুনলেই গায়ের লোম খাড়া হয়ে উঠে অনেকের। চেনা-অচেনা, নাম জানা অজানা কিছু মাদক সেবনকারী ও ব্যবসায়ীরা ধরা পড়লেও প্রকৃত এবং কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ীরা আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পাতা জালের বাইরে থেকে যাচ্ছে। চুনো-পুঁটিরা যেন বারবার তাদের জালের মধ্যে আটকা পড়ছে। মাদক নির্মূলে কাজটি যেন আধরাই রয়ে যাচ্ছে বলে সমাজ সচেতনদের ধারনা।
মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স প্রত্যয় ঘোষনার পর সারাদেশে মাদক ব্যবসায়ী, মাদকসেবীদের বিরুদ্ধে যে অভিযান চলছে সেই অভিযান চললেও নওগাঁ সচেতন লোকজন অকেটাই স্বস্থিতে। সারা দেশে মাদক বিরোধী অভিযানে ক্রস ফায়ারে নিহত হলেও নওগাঁর মাদক সম্রাটরা এখনও ধরা ছোয়ার বাইরে। তারা দেশের শত্রু সমাজের শত্রু। তারা দেশের যুব সমাজকে ধ্বংস করে দিচ্ছে।
প্রকৃত ও প্রতিষ্ঠিত মুখ চেনা অনেক মাদক ব্যবসায়ীরা গা ঢাকা দিয়েছে এবং তাদের সহায়তাকারী অসৎ পুলিশ সদস্যরা সরকারের সফল এ মাদক বিরোধী অভিযানে নানা কৌশল অবলম্বন করে পথ চলছে। অনেক মাদক সেবনকারীসহ ব্যবসায়ীরা ধরা পড়লেও চিহ্নিত ও কুখ্যাত অনেক মাদক সম্রাটরা এখনো আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতকড়ায় বন্দি হতে পারেনি। ধরা না পড়া মাদক সম্রাটরাসহ সহাযোগীতাকারী অসৎ ব্যক্তিরা আজ কোথায়?
কুখ্যাত অনেক মাদক সম্রাটদের আইনের আওতায় আনা এবং আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দু’চার জন অসৎ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নানা অনিয়ম-হয়রানি নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষদের মাঝে হরেক রকমের প্রশ্ন উঁকি-ঝুঁকি মারছে। অসৎ পুলিশদের দ্বারা বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ হয়রানির সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছে বলেও সংশ্লিষ্টদের ধারনা। এখন-ই হলুদ সাংবাদিক এবং অসৎ পুলিশদের অনিয়ম, হয়রানির লাগাম টেনে ধরতে হবে। অন্যথায় ওই সকল দু’চার জনের জন্য স্ব-স্ব বিভাগের বদনাম অনেকের কানে ভেসে বেড়াচ্ছে। কর্তব্যে অবহেলা ওই সকল অন্যায় ও অনিয়মের সাথে জড়িত অসৎ পুলিশ কর্মকর্তা, সদস্য এবং হলুদ সাংবাদিকদের চিহ্নিত করে তাদের সংশোধনে উদ্বুদ্ধকরণ এবং দৃশ্যমান শাস্তি প্রদানের মাধ্যমে তাদেরকে ঢেলে সাজিয়ে উৎকৃষ্টমানের মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও টেকসই মানব সম্পদ গড়ে তুলে স্ব-স্ব বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আনতে হবে বলেও সমাজ বিশ্লেষকদের ধারনা। আবার অসৎ নেতাকর্মী ও সোর্সদের অন্যায় আবদার রক্ষা করতে গিয়েও অনেক সময় সাধারনের কাছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আস্থা অনেকাংশে হারানোর লম্বা লাইনে অবস্থান করে বলেও তাদের ধারনা।
সুন্দর আগামীর জন্য মাদক নির্মূলে জিরো টলারেন্সসহ সমাজে আইনের সেবা প্রদানে গণমূখী টেকসই আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী গড়ে তুলতে ইতি মধ্যে নানা কর্মসূচী মনের আয়নায় আঁকিয়েছেন পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন। এছাড়া সংবাদ কর্মীসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে সন্ত্রাস ও মাদক মুক্ত সু-শৃংখল এবং গনমূখী সমাজ ব্যবস্থা নিশ্চিত কল্পে সকলের কার্যকরী সহযোগিতা কামনা করে যাচ্ছেন তিনি। তিনি এ জেলায় যোগদানের পর অল্প সময়ে তার সঙ্গীয়দের হৃদয়ে স্থান পেয়েছে এবং আইনী সেবায় মানুষের আস্থায় পরিণত হতে চলেছে। পুলিশ ও জনতার মধ্যবর্তী দূরত্ব নিরসনের লক্ষ্যে তিনি কাজ করে যাচ্ছেন। পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন নওগাঁ জেলায় যোগদানের পর থেকে জনবান্ধব, গণমূখী ও জবাবদিহিতামূলক পুলিশী ব্যবস্থা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যেই দিন-রাত বিরতিহীনভাবে কাজ করে যাচ্ছেন বলে একটি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। নওগাঁ পুলিশ সুপার ইকবাল হোসেন প্রকৃত অভিভাবক সুলভ নেতৃত্ব প্রদানের প্রকৃষ্ট উদাহরন সৃষ্টি করেছেন বলেও একটি সূত্রে জানা গেছে।
নওগাঁর পুলিশ সুপার পুলিশ বাহিনীর নানা অনিয়ম ও বিশৃঙ্খল আইন-শৃঙ্খলাকে সাজানোর জন্য দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন প্রজাতন্ত্রের চাকর, ন্যায়ের পক্ষে বন্ধু সুলভ আচরণের মানব প্রেমিক এসপি ইকবাল হোসেন ও তার সঙ্গীয় কর্মকর্তারা। তাঁর স্বপ্ন, সংগ্রাম, জ্ঞান আর সাধনার দ্বারা তিনি যখন যেখানে পেশাগত দায়িত্ব পালন করছেন তখন সেখানেই জনবান্ধব, গণমূখী ও জবাবদিহিতামূলক পুলিশী ব্যবস্থা গড়ে তোলার চেষ্টা ফিকির করে চলেছেন বলেও একটি সূত্রে জানা গেছে।
সেবা প্রদানের লক্ষ্যে জেলার থানাগুলোতে নারী ও শিশু ডেস্ক খোলা হয়েছে। পুলিশ ক্লিয়ারেন্স এর জন্য ওয়ানস্টপ সেন্টার চালু করা হয়েছে। বিশেষ করে চিকিৎসা ও জরুরী কাজে বিদেশগামী লোকজনকে অতিদ্রুত এমনকি এক দিনের মধ্যেই পুলিশ ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার ব্যবস্থাও রয়েছে। ইতিপূর্বে বিভিন্ন আলাপ চারিতায় তথ্যগুলো বেরিয়ে এসেছে।
বর্তমান প্রেক্ষাপটে এসপি ইকবাল হোসেনের সঙ্গে একাধিক বার ও সরেজমিনে তাঁর অফিসে গিয়ে স্বাক্ষাত করতে না পারাই কোন প্রকার মতামত নেয়া সম্ভব হয়নি। তবে আগামীতে তাঁর মতামত পেলে পুরো সংবাদটির প্রাণ ফিরে আনা যেতে পারে।
আর নয় অনিয়ম, দূর্নীতি ও পুলিশী হয়রানি। একটি সুখী সমৃদ্ধিশালী দেশ গঠনের লক্ষ্যে প্রকৃত দল ত্যাগী নেতাকর্মী, প্রশাসনিক কর্মকর্তা, পুলিশ বাহিনী, আইনজীবি, ইলেকট্রনিক্স ও প্রিন্ট মিডিয়ার সকল সাংবাদিক ও বিচারক যদি সৎ ও কর্মঠ হন তাহলে খুব সহজেই সামাজের দুর্নীতির মুলোদপাটন করা যাবে বলেও সমাজ বিশ্লেষকদের ধারণা। আসুন আমরা সবাই এক হয়ে কাঙ্গিতমানের একটি সোনার বাংলাদেশ দেশ গড়ি। অন্যথায় নিভে ও ধুলিষ্যাৎ হয়ে যাবে আমাদের আগামী প্রজন্মের সোনালী জীবনের আশা আকাংখা।

About BTB News

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *