নওগাঁয় কঠোর লকডাউনেও চলাচল ॥ বাজারগুলোতে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্য বিধি

নওগাঁয় কঠোর লকডাউনেও চলাচল ॥ বাজারগুলোতে মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্য বিধি

মো: আব্দুল বারি খান, সম্পাদক ও প্রকাশক: নওগাঁয় কঠোর লকডাউনেও মানুষের চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে। লকডাউন নিয়ন্ত্রনে নওগাঁ জেলা-উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসন অনেক কঠোরতা অবলম্বর করছেন। তবুও মানুষের চলাচলের গতি দেখে মনে হচ্ছে জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং জেলা-উপজেলা পুলিশকে আরো কঠোর হতে হবে। নওগাঁ জেলা স্বাস্থ্য বিভাগকেও আরো আন্তরিক হতে হবে। অন্যদিকে করোনা ভ্যাকসিন দেয়া এবং ভ্যাকসিনের ২য় ডোসের ম্যাসেজ দেয়া, টেস্ট করাসহ সাধারণ রোগিদের চিকিৎসার ক্ষেত্রে জেলা-উপজেলা স্বাস্থ্য বিভাগকে আরো আন্তরিক হতে হবে বলেও বিটিবি নিউজের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে । এক্ষেত্রে কাহারো যেন গাফিলতি না থাকে সেদিকেও সজাক দৃষ্টি দিতে হবে সংশ্লিষ্টদের।

সারা বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে মহামারি করোনা থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশ সরকারের নিদের্শনায় সংশ্লিষ্ট দপ্তরসহ সারা দেশের জেলা-উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, তথ্য অফিস, সেনাবাহিনী, র‌্যাব দেশের সর্বস্তরে জনসচেতনতামূলক নানা নিয়মকানুনসহ যেভাবে প্রচার-প্রচারনা করা হচ্ছে সেটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে। আবার এসকল কার্যক্রমসহ নানা ধরনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে জনস্বার্থে সরকারকে তাৎক্ষণিক অবগত করছে সরকারের গোয়েন্দা বাহিনী ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিএসবিসহ বিভিন্ন সংস্থা ও দপ্তরগুলো। তারা নিজের জীবনের, পরিবার পরিজনের মায়া ত্যাগ করে আতংকের মাঝে থেকে আপনাদের জন্য নিবেদতি প্রাণ হিসেবে সন্মুখ সারির যোদ্ধার আসনে বসে কাজ করে যাচ্ছেন। 

বিটিবি নিউজের ‍অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, জেলা-উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, সেনাবাহিনী, র‌্যাবের কঠোর ভূমিকার কারণে বেশ পরিবর্তন হয়েছে। জেলা শহরের মানুষগুলো আতংকিত থেকে সরকারের নিদের্শনা মানার চেষ্টা করলেও কোন কোনো গ্রামগুলোতে একটু ভিন্ন চিত্র। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গলাফাটিয়ে সচেতন করাসহ নানা নির্দেশনার কথা বললেও মনে হচ্ছে অনেকের কানেই ঠুকছে না করোনা থেকে বাঁচার জন্য সরকারের এ সকল নির্দেশনাগুলো। এতো বুঝানোর পরও  শহর ও গ্রামের রাস্তায় মানুষ চলাচল করছে ও ছোট খাটো যানবাহনগুলো দেদাছে চালাছে। বুঝানোই যাচ্ছে না কাগজে কলমে পড়া লেখা করা মানুষগুলোসহ গ্রামের সহজ সরল মানুষগুলোকে। মানুষ যদি করোনার ক্ষতিকারক দিকগুলো মন থেকে আমলে নিতে পারতো তাহলে সরকারের নিদের্শ মানা ও জনসচেতনতাকে মহাঔষধ হিসেবে গ্রহন করত। আর এর ভয়ে মানুষ ঘরের জানালা পর্যন্ত খোলা রাখতো না। এমন সহযোগিতার জন্য সরকারসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর, পুলিশ বিভাগ, জেলা উপজেলা প্রশাসন, র‌্যাব, সেনাবাহিনী, স্বাস্থ্য বিভাগকে স্যালুট করতো সবাই।

সারাদেশের ন্যায় নওগাঁয় সর্বাত্মক লকডাউনের তৃতীয় দিন শুক্রবারে বৃদ্ধি পেয়েছে চলাচল। জেলা সদরসহ বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন মোড়, কাঁচাবাজার, মাছ বাজার, পাইকারী বাজার, সাপ্তাহিক হাটগুলোতেও একেবারেই মানা হচ্ছে না স্বাস্থ্যবিধি। দেখে মনে হচ্ছে এযেন একদম স্বাভাবিক পরিবেশ। অথচ করোনা ভাইরাস সংক্রমনের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ জেলা হিসেবে সারাদেশের ২৯টি জেলার মধ্যে নওগাঁকে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সংক্রমনের হার বেশি নওগাঁ সদরে। তাই দিন দিন জেলায় করোনা সংক্রমনের পরিস্থিতি ক্রমেই অবনতি হচ্ছে।

 

জানা গেছে, গত বছর করোনা ভাইরাসের শুরু থেকে চলতি মাসের ১৬তারিখ পর্যন্ত জেলা সদরসহ ১০টি উপজেলা থেকে ১৪হাজার ৯টি নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করা হয়েছে। ১৮৩৩টি করোনা পজেটিভ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ৩১জন রোগী করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। বর্তমানে অন্যান্য উপজেলার চেয়ে সদর উপজেলায় করোনা সংক্রমনের হার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। ফলে পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হচ্ছে।

শুক্রবার সকালে জেলা সদরের কাঁচাবাজার, মাছ বাজার, পাইকারী বাজারসহ বিভিন্ন স্থানগুলো ঘুরে দেখা গেছে এই স্থানগুলোতে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধের নুন্যতম স্বাস্থ্যবিধিও মানা হচ্ছে না। সামাজিক দূরত্ব পালনের তো কোন কথাই নেই। অনেকেই আবার মাস্ক ছাড়াই বাজারগুলোতে হরহামেশাই চলাফেরা করছেন। অনেক সবজি, মাছ বিক্রেতাকে মাস্ক ছাড়াই পণ্য বিক্রি করতে দেখা গেছে। জেলার বিভিন্ন উপজেলার অনেক জায়গার চিত্রও একই রকম।

 

জেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ ও জেলা তথ্য অফিসের তফর থেকে জনসচেতনতায় মাইকিং করা, প্রশাসনের নানা সচেতনা মূলক প্রচারনা ব্যাপকভাবে চলমান রয়েছে। পুলিশ বিভাগ, জেলা উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগসহ সংশ্লিষ্টরা নিজের জীবন বাজি রেখে মানুষের জীবন বাঁচাতে সন্মুখযোদ্ধা হিসেবে মাঠে ময়দানে কাজ করলেও অনেকই মানছেননা লকডাউনসহ নানা নিয়মকানুন। কোন কোন গ্রামগুলোতে আবার সাইকেল, ভ্যান রিক্সা, মটরসাইকেলসহ কোন যানবাহন চলছে না। সেইসব এলাকার মানুষও অনেক সচেতন হয়েছে।

জেলা-উপজেলা প্রশাসন এবং পুলিশের একাধিক দল নিজের জীবন বাজি রেখে মানুষকে ভাল রাখতে জেলার বিভিন্ন উপজেলার গুরুত্বপূর্ণস্থান, জেলা শহরের বিভিন্ন মোড়সহ বিভিন্ন স্থানে চেকপোস্ট বসিয়ে চলাচলকারী মানুষদের চলাচলের উপর নজরদারী করছে। তবুও উপজেলাগুলোর বিভিন্ন জায়গায় এবং জেলা শহরের বিভিন্ন রাস্তায় ব্যক্তিগত গাড়ী, মোটরসাইকেল, রিক্সাসহ অন্যান্য ছোট ছোট যানবাহনের চলাচল বৃদ্ধি পেয়েছে। অন্যান্য সবকিছু বন্ধ করে যদি বাজারগুলোতে নজরদারী বৃদ্ধি করা না হয় তাহলে এই সংক্রমনের হার কখনোই কমানো সম্ভব নয় বলে মনে করছেন অনেকেই। ব্যক্তি সচেতনতাই পারে এই মহামারি করোনা ভাইরাসের সংক্রমনের হাত থেকে রক্ষা করতে। তাই এই সব জনগুরুত্বপূর্ন স্থানগুলোতে বিভিন্ন প্রয়োজনে আসা মানুষদের সচেতন করাসহ আইনের আওতায় আনতে হবে। জনসমাগম স্থানগুলোতে প্রশাসনের নজরদারী আরো কঠোর করতে হবে এবং আইনের প্রয়োগ আরো বেশি করতে হবে যেন মানুষের মাঝে ভয়ের সৃষ্টি হয়। তা না হলে সরকারের লকডাউনের উদ্দ্যেশ্য পুরোপুরি সফল হওয়া সম্ভব নয়।

ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা: মনজুর মোর্শেদ বলেন, পুরো জেলার মধ্যে বিশেষ করে জেলা সদরে যে ভাবে প্রতিদিন করোনা সংক্রমন বৃদ্ধি পাচ্ছে সেই অনুপাতে কিন্তু আমরা স্বাস্থ্যবিধিগুলো তেমন ভাবে মানতে পারছি না। বিশেষ করে আমরা যদি নিজে থেকেই সচেতন না নই তাহলে যতই আইন পাশ করা হোক না কেন তাতে কোন লাভই হবে না। তবুও আমাদের চেষ্টা করতে হবে মানুষদের সচেতন করার। কারণ এই রোগে কেউ আক্রান্ত হলে সে নিজেই ভুক্তভোগী হবে না তার আশেপাশের সবাই আক্রান্ত হবে।

জেলা প্রশাসক মো: হারুন-অর-রশীদ বিটিবি নিউজকে বলেন, সর্বাত্মক কঠোর লকডাউন বাস্তবায়ন করার জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রশাসনের একাধিক দল অভিযান পরিচালনা করছে। গ্রাম, ওয়ার্ড, ইউনিয়ন পর্যায়েও ইউনিয়ন চেয়ারম্যানসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দদের কাজ করাসহ নানা সচেতনায় জেলা-উপজেলা প্রশাসন কাজ করে যাচ্ছেন। জনাকীর্ণ স্থানগুলোতে নজরদারী কঠোর করা হচ্ছে। তবে আমাদের যার যার জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে। নিত্য প্রয়োজনীয় দোকান ও বাজারগুলোতে গিয়ে আমরা ভিড় বা জটলা না করে সামাজিক দূরত্ব বজায় রেখেই কেনাকাটা করতে পারি। এতে করে আমরা আমাদের নিজেদেরই ক্ষতি টেনে নিয়ে আসছি। তাই আতঙ্কিত না হয়ে ব্যক্তি পর্যায়ে সচেতন হয়ে নুন্যূতম স্বাস্থ্যবিধি মানার প্রতি তিনি আহ্বান জানান।

জেলা পুলিশ সুপার প্রকৌশলী আব্দুল মান্নান মিয়া বিপিএম এর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি রিসিভ না হওয়ায় তার মতামত নেয়া সম্ভব হয়নি। তার মতামত ও তার সহযোগিতা পেলে পরবর্তীতে পুলিশ বিভাগের বিরতিহীন কাজ করার নানা চিত্রও তুলে ধরা সহজতর হবে।