প্রযুক্তি জ্ঞানভিত্তিক জাতি গঠনই আমাদের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

প্রযুক্তি জ্ঞানভিত্তিক জাতি গঠনই আমাদের লক্ষ্য: প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, নির্বাচনি ইশতাহার অনুযায়ী আমরা উন্নয়ন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করছি। একটি আধুনিক ও প্রযুক্তি জ্ঞানভিত্তিক জাতি গড়ে তোলাই আমাদের লক্ষ্য। রোববার সকালে রংপুর বিভাগীয় সদর দপ্তর কমপ্লেক্স ভবন উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন। গণভবন থেকে ভার্চুয়ালি বিভাগীয় কমপ্লেক্স মাল্টিপারপাস হলে আয়োজিত মূল অনুষ্ঠানে যুক্ত হন তিনি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ৮ম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা আমরা বাস্তবায়ন শুরু করেছি। ২০১০ থেকে ২০২০ প্রেক্ষিত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে উন্নয়নশীল দেশ হিসাবে জাতিসংঘের স্বীকৃতি অর্জন করেছি। আমাদের লক্ষ্য ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত-সমৃদ্ধ দেশ গড়ে তোলা। বাংলাদেশের অগ্রযাত্রা কেউ থামাতে পারবে না। সরকার মহাকাশে স্যাটেলাইট বঙ্গবন্ধু-১ উৎক্ষেপণ করেছে এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাকে ইউনিয়ন পর্যায় পর্যন্ত পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আধুনিক প্রযুক্তি জ্ঞানসম্পন্ন জাতি গঠন করে বাংলাদেশকে উন্নত সমৃদ্ধ করতে চাই, সেটাই আমাদের লক্ষ্য।’


 
তিনি বলেন, সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে এবং মানুষের মাথাপিছু আয় বেড়েছে, ক্রয়ক্ষমতা বেড়েছে। মানুষ সচ্ছল হওয়ার সুযোগ পাচ্ছে। কিন্তু আমরা চাই আমাদের আরও অনেক দূর যেতে হবে। এদেশে আর কখনো যেন মঙ্গা বা দুর্ভিক্ষ দেখা না দেয় এবং এ দেশের মানুষ যেন আর কোনো কষ্ট না পায় সেই চেষ্টা আমরা করছি।

জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কেএম আলী আজম ও রংপুর বিভাগীয় কমিশনার আব্দুল ওয়াহাব ভূঞা অনুষ্ঠানে বক্তৃতা করেন। নবনির্মিত রংপুর বিভাগীয় কমপ্লেক্সের ওপর একটি ভিডিও ডকুমেন্টারি অনুষ্ঠানে পরিবেশিত হয়।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সারা দেশে কমিউনিটি ক্লিনিকের মাধ্যমে চিকিৎসাসেবা মানুষের দোরগোড়ায় নিয়ে আসার উদ্যোগ সরকার নিয়েছে। সেখান থেকে ৩০ পদের ওষুধ বিনামূল্যে প্রদান করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে বিনামূল্যে বই দেওয়া হচ্ছে।


 
তিনি বলেন, প্রত্যেকটি গ্রামকে আধুনিক সুবিধাসম্পন্ন করে গড়ে তুলব। যাতে গ্রামের মানুষ গ্রামে বসবাস করলেও সব ধরনের নাগরিক সুবিধা পেতে পারে। মানুষকে আর কোথাও ছোটাছুটি করতে হবে না। গ্রামেই কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা হবে। সেজন্য ‘আমার গ্রাম আমার শহর কর্মসূচি’ বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে সরকার।

শেখ হাসিনা বলেন, সরকার রংপুর এবং আশপাশের জেলার সঙ্গে সড়ক ও রেল যোগাযোগ উন্নত করছে এবং যমুনার ওপর পৃথক রেল সেতু নির্মাণ করছে।

তিনি বলেন, আমরা দ্রুত রেলের ব্যবস্থা করছি, চার লেনের ঢাকা-রংপুর মহাসড়ক ৬ লেনের করা হয়েছে। প্রত্যেকটি বিভাগীয় সড়ককে আমরা চার লেনের করে দিচ্ছি আর হাইওয়ে ৬ লেনের করে দিচ্ছি। রংপুরসহ সব বিভাগে ফুড টেস্টিং ল্যাবরেটরি স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া সরকারি সব দপ্তর যেন এক জায়গা থেকে মানুষকে সেবা দিতে পারে, সেজন্য রংপুরে অত্যাধুনিক বিভাগীয় কমপ্লেক্স করে দেওয়া হলো। শেখ হাসিনা বলেন, ‘নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েই রংপুরবাসী এই সুবিধাগুলো পেয়েছেন, সেটা ভুললে চলবে না।’ তিনি বলেন, ‘এবার একটু বেশি শীত পড়েছে। সরকারের পাশাপাশি বিত্তশালীরাও যেন শীতবস্ত্র বিতরণ করে দরিদ্র মানুষের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন, সেই আহ্বান জানাচ্ছি।’ আওয়ামী লীগ সরকার রংপুর অঞ্চলের মঙ্গা দূর করেছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০১০ সালে আমরা রংপুর বিভাগ করে দিই। এখন উদ্বৃত্ত খাদ্যের অঞ্চল হয়ে গেছে এই রংপুর। একসময় খাবারের অভাবে মানুষ মারা গেছে, মানুষ দেখলে মনে হতো জীবন্ত কঙ্কাল হেঁটে বেড়াচ্ছে। এ অবস্থা আমার নিজের চোখে দেখা। আল্লাহর রহমতে এখন আর সেই অবস্থা নেই। আমরা রংপুর অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক উন্নয়ন করেছি। দুর্ভিক্ষ তো দূর হয়েছেই, বরং খাদ্য উদ্বৃত্ত থাকছে।

তিনি বলেন, রংপুরে গত ১৩ বছরে যে উন্নয়ন হয়েছে, এর আগে কখনো হয়নি। কেননা সব উন্নয়ন নির্ভর করে সরকারের চিন্তার ওপর। অথচ দীর্ঘ সময় রংপুরের লোক ক্ষমতায় থাকলেও এই অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যের তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি। তারা নিজেদের ভাগ্য গড়েছে, সাধারণ মানুষের ভাগ্য গড়েনি। আমরা ১০ টাকায় ব্যাংক অ্যাকাউন্ট কর্মসূচি এই রংপুর বিভাগ দিয়েই শুরু করেছি।

সরকারপ্রধান বলেন, রংপুরে ভূমিহীন বেশি ছিল। আমরা তাদের জমিসহ ঘর দিয়েছি। আমি সবাইকে অনুরোধ করব, সারা দেশের কোথাও যেন ভূমিহীন না থাকে। প্রয়োজনে আমরা জমি কিনে ঘর করে দেব। এতে আমাদের দারিদ্র্য বিমোচন হবে।

তিনি বলেন, আপনারা জানেন, ড. ওয়াজেদ সাহেব ছিলেন পরমাণু বিজ্ঞানী। পরমাণু বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে সবচেয়ে বেশি সোচ্চার ছিলেন তিনি। আজ আমরা সেই রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ করছি। ২০২৪ সালের মধ্যে আশা করি, সেখান থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ করব। এ থেকে উত্তরবঙ্গই সবচেয়ে লাভবান হবে। আমরা চাই, দেশটা আরও উন্নত হবে, এগিয়ে যাবে।

রংপুর অঞ্চলের মানুষের শিক্ষার উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অঞ্চলে শিক্ষার হার কম ছিল; কিন্তু এখানে মেধাবী ছাত্র ছিল, কাজেই আমরা সেদিকে হিসাব করে এখন পদক্ষেপ নিয়েছি। কুড়িগ্রামে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় করে দিচ্ছি, লালমনিরহাটে অ্যাভিয়েশন, অ্যারোস্পেস ইউনিভার্সিটি এবং রংপুরে বেগম রোকেয়ার জন্মস্থান পায়রাবন্ধে তার নামে একটা কমপ্লেক্স এবং ট্রেনিং সেন্টার করা হয়েছে। রংপুর বিশ্ববিদ্যালয় বেগম রোকেয়ার নামেই আমরা করে দিয়েছি। কেননা তিনিই প্রথম শিক্ষার উদ্যোগ নিয়েছিলেন বলেই আমরা কিছু লেখাপড়ার সুযোগ পেয়েছি।