February 18, 2019 8:20 pm
Breaking News
Home / রাজনীতি / ফখরুলের অনিচ্ছায় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে স্থান হচ্ছে না মওদুদ-মোশাররফের!

ফখরুলের অনিচ্ছায় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে স্থান হচ্ছে না মওদুদ-মোশাররফের!

নিউজ ডেস্ক: জাতীয় নির্বাচনে পরাজয়ের পর থেকেই অবিশ্বাস ও অনাস্থার কারণে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের বিভেদ দৃশ্যমান হচ্ছে পুরো জাতির সামনে। বিভিন্ন সময়ে ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে বৈঠক ও সিদ্ধান্ত নেয়ার বিষয় নিয়েই মূলত এমন বিরোধ ধীরে ধীরে কঠিন রূপ নিচ্ছে বলে মনে করছেন বিএনপির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ।

বিএনপির বিভিন্ন দায়িত্বশীল সূত্রের খবরে জানা গেছে, নির্বাচন পরবর্তী সরকারবিরোধী আন্দোলনের রূপরেখা প্রণয়ন, খালেদা জিয়ার মুক্তি, মতবিরোধী দূরীকরণ এবং জোটের কার্যক্রম চূড়ান্ত করার লক্ষ্য নিয়ে ১ ফেব্রুয়ারি ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে বসেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তবে পরিতাপের বিষয় হলো- ওই বৈঠকে মির্জা ফখরুল ছাড়া বিএনপির অন্যকোন নেতা উপস্থিত ছিলেন না। এমন প্রেক্ষাপটে বিএনপি ও ঐক্যফ্রন্টের বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক জোটের স্থায়িত্বকে হুমকির মুখে ফেলছে বলে মনে করছেন বিএনপি কয়েকজন সিনিয়র নেতা। তারা বলছেন, অচিরেই জোট ভেঙ্গে যেতে পারে।

বৈঠকের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মওদুদ আহমেদ বলেন, মাঝে মাঝে নিজেকে খুব ছোট মনে হয়। মির্জা ফখরুল সাহেব আমাদের কাউকে না জানিয়েই ড. কামালদের সঙ্গে বৈঠক করে বেড়াচ্ছেন। এগুলো কিসের আলামত তা বুঝতে আর বাকি নেই। রাজনীতিতে শুধু পদমর্যাদায় বড় হলেই চলে না, বুদ্ধিও থাকতে হয়। বিএনপির রাজনীতিতে আমি ও খন্দকার মোশাররফ অনেক সিনিয়র। নৈতিকতা রক্ষা করার স্বার্থে ফখরুল সাহেব একবার অন্তত আমাদের জানাতে পারতেন। এখন আমার কাছে গুজব বলে প্রচার পাওয়া তথ্যগুলো সত্যি মনে হচ্ছে। ঐক্যফ্রন্টে যোগদান করায় বিএনপির যে চরম ক্ষতি হয়েছে, তা এখন স্পষ্ট হচ্ছে। বিএনপিকে টিকে থাকতে হলে কোনরকম প্রলোভনের ফাঁদে পা দেয়া যাবে না।

বিষয়টিকে বিএনপির জন্য ক্ষতিকর দাবি করে ঐক্যফ্রন্টের স্টিয়ারিং কমিটির বিএনপির অন্যতম সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন বলেন, ঐক্যফ্রন্টের সঙ্গে রাজনৈতিক সংযোগ বজায় রাখতে বিএনপির চার সদস্য বিশিষ্ট স্টিয়ারিং কমিটি রয়েছে। সেই কমিটির সদস্য হিসেবে ঐক্যফ্রন্টের প্রতিটি বৈঠকে অংশগ্রহণ করার অধিকার রয়েছে আমার। কিন্তু কিছুদিন যাবৎ খেয়াল করছি- ঐক্যফ্রন্টের বেশকিছু গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে মির্জা ফখরুল আমাদের ডাকেননি। বিষয়টি উদ্বেগজনক। আমরা ঐক্যফ্রন্টে যোগ দিয়েছিলাম রাজনৈতিক সুবিধার জন্য, ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়ে বিএনপির ক্ষতি করার জন্য নয়। আরো দুঃখজনক বিষয় হলো, ঐক্যফ্রন্টের বৈঠকে যে আলোচনা হচ্ছে সেটাও ফখরুল সাহেব দলের সিনিয়র নেতাদেরকে অবহিত করছেন না। ঐক্যফ্রন্টের বেশকিছু সিদ্ধান্তও আমাদের কাছে বিএনপির জন্য স্বার্থবিরোধী মনে হয়েছে। আমি শুনেছি যে, আমাকে ও মওদুদ সাহেবকে সরিয়ে ঐক্যফ্রন্টে বিএনপির স্টিয়ারিং কমিটিতে ড. মঈন খান ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়কে অন্তর্ভুক্ত করার চেষ্টা চলছে। বিষয়টি আমাদের জন্য অবমাননাকর ও অপমানজনক। আমাদের সত্যি যদি সরিয়ে দেয়া হয় তবে সাময়িকভাবে লাভবান হবেন মির্জা ফখরুলরা কিন্তু বৃহত্তর ক্ষতি হবে বিএনপির।

এদিকে, বিএনপির ভবিষ্যৎ নির্ধারণের দায়িত্ব ঐক্যফ্রন্টের হাতে ন্যস্ত করায় দলীয় কোন্দল চরম রূপ নিচ্ছে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন দলটির সিনিয়র নেতৃবৃন্দ। আওয়ামী লীগ থেকে পরিত্যক্ত নেতাদের খপ্পরে পড়ে বিএনপির সাংগঠনিক শক্তি নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে বলেও মনে করছেন তারা।

About BTB News

Check Also

তারেক রহমানকে চার ঘন্টাব্যাপী জিজ্ঞাসাবাদ

নিউজ ডেস্ক: লন্ডনে পলাতক বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তরের হোম …

বিতর্কিত অবস্থান পরিবর্তনে ব্যর্থ হওয়ায় পদত্যাগ করলেন জামায়াত নেতা ব্যারিস্টার রাজ্জাক, কৌশল বলছেন বিশ্লেষকরা

দেশের রাজনীতিতে কোণঠাসা হয়ে এবং বৈশ্বিক অগ্রহণযোগ্যতা বিবেচনায় জামায়াতে ইসলামীর নাম পরিবর্তন কিংবা দল ভেঙ্গে …

ফখরুলের বিদায় নিশ্চিত, কে হচ্ছেন বিএনপির নতুন মহাসচিব?

সদ্য সমাপ্ত একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ নিয়ে দ্বন্দ্বে জর্জরিত ছিলো বিএনপি। এই দ্বন্দ্বের প্রধান …

জামায়াত ছাড়লেন রাজ্জাক: নতুন কোনো দুরভিসন্ধি নয়তো?

মুক্তিযুদ্ধে প্রশ্নবিদ্ধ ভূমিকার জন্য নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামীর সহকারী‘সেক্রেটারী জেনারেল’ পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন ব্যারিস্টার …

জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে নতুন নামে রাজনীতিতে ফিরতে মরিয়া জামায়াত, নবীন-প্রবীণদের দ্বন্দ্ব চরমে

নিউজ ডেস্ক: বেশ কিছু দিন ধরেই রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন চলছিলো যে, রাজনৈতিক স্থবিরতা কাটিয়ে উঠে …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *