January 21, 2019 12:57 am
Breaking News
Home / অন্যান্য / পুলিশ প্রশাসন / ব্যতিক্রমী পুলিশী সেবা প্রদানে অনন্য ও’সি আব্দুল হাই

ব্যতিক্রমী পুলিশী সেবা প্রদানে অনন্য ও’সি আব্দুল হাই

মো: আব্দুল বারি খান: আইনী সেবা প্রত্যাশিদের ভরসাস্থল থানা। কিন্তু থানা মানেই ভুক্তভোগীদের হয়রানি ও টাকা আদায়ের কারখানা। টাকা ছাড়া থানায় কোনো কাজ হয় না। এমন ধারণা জনসাধারণের। তবে জনসাধারণের সেই ধারণা পাল্টে দিয়েছেন নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হাই। তিনি এ থানায় যোগদানের পর থেকে থানায় সেবা নিতে আসা লোকজন টাকা ছাড়াই নির্বিঘেœ এখন সাধারণ ডায়েরি (জিডি), অভিযোগ ও মামলা লেখা বা অন্তর্ভুক্ত করতে পারছেন। ও’সি আব্দুল হাই এর সেবা প্রদানের সহযোগীতায় আইনী সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী মানুষ শান্তির নীড় খুঁজে পেয়েছে।
নওগাঁ সদর মডেল থানার আইনী সেবার আস্থার কেন্দ্র ও’সি আব্দুল হাই হাঁটি হাঁটি পা-পা করে এগিয়েই যাচ্ছেন দূর থেকে বহু দূ-রে। আইনী সেবা জনগনের মনের আঙ্গিনায় পৌঁছাতে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছেন ও’সি আব্দুল হাই। আইনী সেবার ক্ষেত্রে সততা ও আন্তরিকতায় অনন্য দৃষ্টান্ত হিসেবে তিনি কাজ করছেন। কাজের স্বচ্ছতা ও জবাব দিহিতার জন্য দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছেন প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, ন্যায়ের পক্ষে বন্ধু সুলভ আচরণের মানব ও’সি আব্দুল হাই। তাদের দপ্তরগুলো সিসিটিবি ক্যামেরার আওয়ায় আনা হয়েছে। ইতিমধ্যে পুলিশী সেবায় ও’সি আব্দুল হাই নানান কাজে অনেক প্রশংসাসহ সম্মান ও সুনামও কুড়িয়েছেন। তার কারণে পুলিশ বাহিনীর সুনাম বৃদ্ধি পাচেছ এবং সাধারনের নিকট তার কদর দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে।
সংবাদ কর্মীসহ সকল শ্রেণী পেশার মানুষের সঙ্গে মতবিনিময় সভা করে সন্ত্রাস ও মাদক মুক্ত সু-শৃংখল এবং গনমূখী সমাজ ব্যবস্থা নিশ্চিত কল্পে সকলের কার্যকরী সহযোগিতা কামনাও করেছেন ওসি আব্দুল হাই। তিনি নওগাঁ সদর মডেল থানায় যোগদানের পর থেকে তার সঙ্গীয়দের হৃদয়ে স্থান পেয়েছে এবং আইনী সেবায় মানুষের আস্থায় পরিণত হতে চলেছে। ওসি আব্দুল হাই আইনী সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের কাছে ভরসার স্থলে পরিণত হয়েছে। সদর উপজেলার জন নিরাপত্তা বিধানে ওসি তার সহযোগীদের নিয়ে দিবা নিশি কাজ করে যাচ্ছেন বলেও জানা গেছে।
বিটিবি নিউজের অনুসন্ধানের আয়নায় জানা গেছে, নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হিসেবে দুই বছর ৯ মাস কাজ করার পর নওগাঁ সদর মডেল থানায় ৩০ নম্বর ওসি হিসেবে গত ২৭ মে’১৮ যোগদান করেন মো. আব্দুল হাই। যোগদানের পর থেকে তার নেতৃত্বে থানায় প্রবেশের প্রধান ফটকের পাশে গোল ঘরে দুইজন অফিসারকে প্রতিদিন পালাক্রমে দায়িত্ব পালন করছেন। তাদের কাজ হচ্ছে সেবা নিতে আসা জনগণের অভিযোগ মনোযোগ ও আন্তরিকতার সাথে শোনা এবং প্রয়োজনে তা কাগজে নোট করে নেয়া। প্রয়োজনে সাধারণ ডায়েরি (জিডি), অভিযোগ ও মামলা লেখা বা অন্ত—র্ভুক্ত করা। এসবের বিনিময়ে সেবা প্রার্থীদের কাছ থেকে কোনো ধরনের টাকা নেয়া হয় না। তবে খুশি হয়ে কেহ টাকা দিলে সেগুলো গোপনে হাতে নিতে ভুল করেন না অনেকেই।
মো. আব্দুল হাই এই থানায় যোগদানের পর থেকেই এখানে দালালদের দৌরাত্ম অনেকাংশে কমে গেছে। ইতিমধ্যে দালালদের কাছ থেকে ভুক্তভোগীদের টাকা ফেরত দেয়ার ঘটনাও ঘটেছে। প্রাথমিক অবস্থায় দালালদের সতর্ক করে থানায় তদবিরের জন্য না আসতে বলা হচ্ছে। সেবা প্রার্থীরা দালাল ছাড়াই নির্দ্বিধায় থানায় আসা-যাওয়া করতে পারছেন। তবে ইতিপূর্বে থানায় একটি ডায়েরি লিখতে লেখককে ১’শ/২’শ টাকা দিতে হতো। আবার ওই জিডি করতে দায়িত্বরত কর্মকর্তাকে দিতে হতো কমপক্ষে ১শ’ টাকা। এছাড়া অভিযোগ বা এজাহার লিখতে ১’শ-২’শ টাকা এবং মামলা রেকর্ড করাতে কমপক্ষে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা কিংবা তার চেয়ে বেশি টাকা গুনতে হতো ভুক্তভোগীদের। তবে দালাল ধরে এখন আর কাউকে থানায় আসতে হয় না। টাকা দিতে হয় না সেবা নিতে আসা জনসাধরণকে। সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীরা বন্ধুর মতো সহযোগীতা পাচ্ছেন ও’সি আব্দুল হাই সহ তার সহযোদ্ধা তদন্ত ওসি মো. আনোয়ার হোসেনসহ কিছু এস আই, এ এস আই, কনস্টেবলদের নিকট।
নওগাঁ সদর মডেল থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আব্দুল হাই সেবা প্রত্যাশিদের ন্যায়ের পক্ষে সহযোগিতা করার জন্য থানার সকল অফিসার/স্টাফদের নির্দেশ দিয়েছেন। তাছাড়া ও’সি আব্দুল হাই নিজেই থানায় আসা ভুক্তভোগীদের পুলিশী আইনী সেবা এবং বিভিন্ন পরামর্শসহ দিকনির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছেন দিবা-নিশি। এর পাশাপাশি তাদেরকে কোন দালাল বা পুলিশ সদস্যদের টাকা না দিতে বারন করতে ভুল হচ্ছে না। থানায় সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগীদের বার বার সতর্ক করে দিচ্ছেন তারা যেন কাউকেই টাকা-পায়সা না দেন। এতে করে স্বার্থবাদী, দালাল ও অসৎ পুলিশ সদস্যদের মন জ্বলে পুড়ে ছারখার হচ্ছে। নানাভাবে কৌশল অবলম্বন করে অসৎ পুলিশ সদস্যরা বাদি-বিবাদিদের সুবিধা পাইয়ে দেয়ার আশায় মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার গুঞ্জনও আছে। আবার ওই সকল অসৎ পুলিশ সদস্যরা অনেককেই নানাভাবে মিথ্যা অভিযোগের কায়দার মারপ্যাচে ফেলে টাকা আদায়ের চেষ্টায় মত্ত থাকে বলেও বিটিবি নিউজের অনুসন্ধানের আয়নায় উঠে এসেছে।
বিটিবি নিউজের অপর একটি অনুসন্ধানে জানা গেছে, পুলিশ বিভাগেরও দু’এক জন অসৎ কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের নানা অনিয়ম-হয়রানি নিয়ে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষদের মাঝে হরেক রকমের প্রশ্ন উঁকি-ঝুঁকি মারছে। অসৎ পুলিশদের দ্বারা বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ হয়রানির সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছেছে বলেও সংশ্লিষ্টদের ধারনা। এখন-ই অসৎ পুলিশদের অনিয়ম, হয়রানির লাগাম টেনে ধরতে হবে। অন্যথায় ওই সকল দু’চার জন কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য স্ব-স্ব বিভাগের বদনাম অনেকের কানে ভেসে বেড়াচ্ছে। কর্তব্যে অবহেলা ওই সকল অন্যায় ও অনিয়মের সাথে জড়িত কর্মকর্তা-কর্মচারী ও অসৎ পুলিশ কর্মকর্তা এবং সদস্যদের চিহ্নিত করে তাদের সংশোধনে উদ্বুদ্ধকরণ এবং দৃশ্যমান শাস্তি প্রদানের মধ্যমে তাদেরকে ঢেলে সাজিয়ে উৎকৃষ্টমানের মানব সম্পদ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি তাদের বিরুদ্ধে দৃশ্যমান এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও টেকসই মানব সম্পদ গড়ে তুলে পুলিশ বিভাগের প্রতি মানুষের আস্থা ফিরে আনতে হবে বলেও সমাজ বিশ্লেষকদের ধারনা। প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী হয়ে প্রজাদের নানা ভাল কাজের লম্বা লাইনের সেবা নিশ্চিত করনের পাশাপাশি দু:খিনী মানুষের বর্ণমালায় সবাইকে একযোগে সেবার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।

About BTB News

Check Also

নওগাঁর নিয়ামতপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে মোটা অংকের উৎকোচ নেয়া মারপিটসহ অশোভন আচরনের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার: নওগাঁর নিয়ামতপুর থানার ওসি আকরাম হোসেনের বিরুদ্ধে মামলা করতে গেলে মোটা অংকের উৎকোচ …

নওগাঁয় ৮ কেজি গাঁজাসহ এক মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার

স্টাফ রিপোর্টার:  নওগাঁয় ৮ কেজি গাঁজাসহ সেকেন্দার হোসেন নামের একজন মাদক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে নওগাঁ …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *