December 14, 2018 10:41 pm
Breaking News
Home / রাজনীতি / রাজসাক্ষী করে আমার জীবন তছনছ করা হয়েছে: জজ মিয়া

রাজসাক্ষী করে আমার জীবন তছনছ করা হয়েছে: জজ মিয়া

নিউজ ডেস্ক: এক সময় ঢাকার নাখালপাড়ায় ভাঙাড়ি ব্যবসা করতেন জজ মিয়া। পরে চলে যান গ্রামের বাড়ি। ২০০৫ সালের জুনে এলাকার একটি চায়ের দোকান থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন তিনি।

জানা যায়, ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট আওয়ামী লীগের জনসভায় এই যুবকই সেই ভয়াবহ গ্রেনেড হামলা চালিয়েছেন। তবে যত চমৎকার করেই তার জবানবন্দির ভাষ্য পুলিশ কর্মকর্তারা প্রকাশ করুন না কেন, তা মোটেও বিশ্বাসযোগ্যতা পায়নি।

জজ মিয়াকে রাজসাক্ষী করে তার মুখে শেখানো কাল্পনিক জবানবন্দি আদায়ের মাধ্যমে চাঞ্চল্যকর এই মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করার চেষ্টায় ছিলেন সিআইডির তৎকালীন কর্মকর্তারা। এ জন্য ২০০৫ সালের ১০-২৫ জুন রাজধানীর মালিবাগে সিআইডি কার্যালয়ে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে অকথ্য নির্যাতন করা হয় তাকে। শারীরিক নির্যাতন ছাড়াও নিজের ও পরিবারের সদস্যদের প্রাণহানির ভয়ে একপর্যায়ে শেখানো জবানবন্দি দিতে রাজি হন এই নিরীহ যুবক। এর পর সিআইডির কার্যালয়ে কয়েক দিন চলে আদালতে কীভাবে ১৬৪ ধারার জবানবন্দি দিতে হবে, তার রিহার্স্যাল।

এ সময় পুলিশ কর্মকর্তারা জজ মিয়াকে মুখস্থ করান শীর্ষ সন্ত্রাসী সুব্রত বাইন, মোল্লা মাসুদ, তানভীরুল ইসলাম জয়, মুকুল, রবিন, হাশেম, সফিক এবং মগবাজার আওয়ামী লীগ নেতা ও কমিশনার মোখলেসুর রহমানের নাম। শেখানো শেষে পুলিশ কর্মকর্তারা ম্যাজিস্ট্রেট সেজে জবানবন্দি গ্রহণের মহড়াও দেন। এই ‘ম্যাজিস্ট্রেট’ জজ মিয়ার কাছে জানতে চান কেন এই হত্যাকাণ্ড, আর তাতে কারা জড়িত। জবাবে শেখানো বুলি আউড়ে যান জজ মিয়া। গ্রেনেড হামলার ভিডিও ফুটেজ দেখানো হতো। যেন পুরো ঘটনার নিখুঁত বর্ণনা দিতে পারেন জজ মিয়া।

সে সময়ের নির্যাতন আর রাজসাক্ষী বানানোর পুলিশি চেষ্টা সম্পর্কে জজ মিয়া বলেন, সিআইডি কার্যালয়ে আমার দুচোখ সব সময় কালো কাপড়ে বাঁধা থাকত। শুধু খাবার ও ওয়াশরুমে গেলে কাপড় খুলে দেওয়া হতো। দেখতাম ৪-৫ জন সব সময় আমাকে ঘিরে আছে। আবার শুরু হতো নির্যাতন। ফ্যানে ঝুলিয়ে পেটানো হতো। তাদের (পুলিশ) একটাই কথা ছিল, আমি যেন তাদের শেখানো কথা আদালতে বলি। নয়তো আমাকে ও আমার মা-বোনকে মরতে হবে।

সেনবাগের বীরকোট গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে জজ মিয়াকে ২০০৫ সালের ৯ জুন গ্রেপ্তার করে গ্রেনেড হামলা মামলায় তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে সিআইডি। এর পর ২৬ জুন তাকে দিয়ে সাজানো স্বীকারোক্তি দেওয়ানো হয়। তখন তদন্ত কর্মকর্তা ছিলেন সিআইডির এএসপি আব্দুর রশিদ। পরবর্তীতে সিআইডির এএসপি ফজলুল কবির এই মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নিযুক্ত হলে তিনি দেখতে পান, জজ মিয়া এই ঘটনার সঙ্গে জড়িতই নন। তাকে দিয়ে মিথ্যা গল্প সাজিয়ে মামলা ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করা হয়েছে। তাই জজ মিয়াকে বাদ দিয়ে এই মামলায় প্রথম চার্জশিট দাখিল করেন তিনি।

পরে অধিকতর তদন্ত শেষে ২০১১ সালের ৩ জুলাই মামলাটিতে বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ৩০ জনের বিরুদ্ধে সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করা হয়। এতে জজ মিয়াকে সাক্ষী করা হয়।

জজ মিয়া বর্তমানে প্রাইভেট কারচালক হিসেবে চাকরি করেন। তিনি বলেন, একটি সাজানো মামলায় রাজসাক্ষী করে আমার জীবন তছনছ করা হয়েছে।

About BTB News

Check Also

Shamsuzzaman Dudu is disappeared under crore of taka; Sharif has been survived for the money

News Desk: Shamsuzzaman Dudu is the Vice-Chairman of BNP and General Secretary of Central Krishok …

নতুন পরিকল্পনায় ওরা

ঘনিয়ে এসেছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। সেইসাথে পূর্বপরিকল্পনা মোতাবেক মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে দেশ বিদেশের জঙ্গী …

মনোনয়ন না পেয়ে নিজেদের হামলায়ই জর্জরিত বিএনপি

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে তারেক রহমান মনোনয়নের যে রমরমা বাণিজ্য করেছে তার ক্ষোভ এরই …

নির্বাচনী প্রচারণায় বিএনপির মূল হাতিয়ার মিথ্যাচার, উড়োখবর

দরজায় কড়া নাড়ছে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। দেশের নির্বাচন কমিশন ধাপে ধাপে নির্বাচন পূর্ববর্তী সকল …

বিদ্রোহী প্রার্থীতে কোণঠাসা বিএনপি

আন্ত:কোন্দলের ফাঁদে পড়েছে বিএনপি। কোনো কিছুতেই  বিএনপির এই কোন্দল কমছে না। বরং নির্বাচন সন্নিকটে হওয়ার …

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *