৮ বিভাগেই মিলবে একই মানের চিকিৎসাসেবা : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

৮ বিভাগেই মিলবে একই মানের চিকিৎসাসেবা : স্বাস্থ্যমন্ত্রী

চিকিৎসাক্ষেত্রে ঢাকার ওপর অতিরিক্ত চাপ কমাতে স্বাস্থ্যসেবাকে ডিসেন্ট্রালাইজড (বিকেন্দ্রীকরণ) করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী জাহিদ মালেক। তিনি বলেন, ‘ডিসেন্ট্রালাইজড-এর অর্থ হলো, ঢাকার হাসপাতালগুলিতে যে মানের চিকিৎসাসেবা পাওয়া যায় সেই একই মানের চিকিৎসাসেবা যাতে দেশের ৮টি বিভাগেই পাওয়া যায় সেই লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে এবং সে অনুযায়ী কাজ শুরু হয়েছে।

জাহিদ মালেক আজ বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে ‘বিশ্ব ক্যান্সার দিবস-২০২২’ উদযাপন উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘ইতিমধ্যেই দেশের ৮টি বিভাগে উন্নত ও আধুনিক মানের ১৫ তলা বিশিষ্ট ক্যান্সার, কিডনি, লিভারের মতো অতি ক্ষতিকর রোগগুলির চিকিৎসা কেন্দ্র হিসেবে ৮টি হাসপাতাল নির্মাণের ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হয়েছে।

এখানে প্রায় ১৪০০ বেড বৃদ্ধি হবে কেবল ক্যান্সার চিকিৎসার জন্যই। ’

 

তিনি বলেন, দেশের আনাচে-কানাচে প্রায় ১৮ হাজারের মতো কমিউনিটি ক্লিনিক নির্মাণ করে সেখানে প্রায় ৩২ রকমের ওষুধ বিনামূল্যে দেওয়া হচ্ছে। এতে শহরের পাশাপাশি গ্রামের মানুষজন উপকৃত হচ্ছে। এভাবে দেশের প্রতিটি সরকারি হাসপাতালের জন্য উন্নত মানের যন্ত্রপাতি কিনে, প্রয়োজনীয় লোকবল নিয়োগ দিয়ে, দেশের মফস্বল হাসপাতালে ভালো চিকিৎসক পদায়ন করে সর্বোত্র ঢাকার মতো সমপর্যায়ের চিকিৎসা সেবা পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ হাতে নেওয়া হয়েছে।

ক্যান্সার রোগের ভয়াবহতার কথা তুলে ধরে সভায় জাহিদ মালেক জানান, দেশে বর্তমানে বছরে ৬৭ ভাগ মানুষ অসংক্রামক রোগে মারা যায়। দেশে এখন প্রায় ২০ লাখ ক্যান্সার রোগী আছে। প্রতিবছর দেশে ১ থেকে দেড় লাখ মানুষ ক্যান্সারে মারা যাচ্ছে। সে তুলনায় দৈনিক ক্যান্সারে ২০০ থেকে ৪০০ মানুষ মারা যাচ্ছে যা খুবই উদ্বেগজনক। সময় মতো ক্যান্সার রোগটি ধরা গেলে রোগটি নিরাময় করা যায়। কিন্তু দেরি করে ধরা পড়লে রোগটি থেকে রোগীকে বাঁচানো অনেক কঠিন হয়ে যায়।

তিনি বলেন, ক্যান্সার হবার আগেই ক্যান্সার যাতে না হয় সে ব্যাপারে সচেতন থাকতে হবে। বায়ু দূষণ, শব্দ দূষণ, খাদ্যে নানা রং মেশানো বা ক্ষতিকারক ওষুধ মেশানোর মাধ্যমে দিন দিন ক্যান্সার অনেক বেড়ে যাচ্ছে। খাদ্য চাষে কীটনাশকের ব্যবহার, তামাকের কারণেও ক্যান্সার বেড়ে যাচ্ছে। বিষয়গুলি নিয়ে কাজ করা প্রয়োজন। মানুষকেও জীবন মানের গুরুত্ব বুঝতে হবে এবং সচেতনতা অবলম্বন করতে হবে।

জাতীয় ক্যান্সার গবেষণা ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. স্বপন কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি ছিলেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. আহমেদুল কবীর, শেখ রাসেল গ্যাস্ট্রোলিভার ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. ফারুক আহমেদ, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. মো. ফরিদ হোসেন মিয়া, জাতীয় বক্ষব্যাধি ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মু. সাইদুল ইসলাম প্রমুখ।