নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে আনোয়ার হোসেন হেলাল

নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছে আনোয়ার হোসেন হেলাল

মো. আব্দুল বারি খান, সম্পাদক ও প্রকাশক: রানীনগর আত্রাই এই দুই উপজেলা নিয়ে নওগাঁ ০৬ আসন গঠিত। উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগের পক্ষ থেকে ৩৪ জন মনোনয়ন তুললেও অবশেষে নওগাঁর আত্রাই-রাণীনগরে উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগের পক্ষে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী আলহাজ্ব মো. আনোয়ার হোসেন হেলাল। তিনি দলীয় প্রতীক নৌকা হাতিয়ে নিয়ে বর্ধিত সভাসহ নির্বাচনী প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। তিনি রানীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও রানীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি তার সঙ্গীয়দের নিয়ে ভোটারদের বাড়ি বাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, হাটবাজার, চায়ের দোকানে দৌড়ঝাঁপ ও ব্যানার ফেস্টুন এবং পোষ্টারের মাধ্যমে শুভেচ্ছা বিনিময়ে ভোট প্রার্থনা করছেন।
বিটিবি নিউজের অনুসন্ধানের আয়নায় দেখা গেছে, নওগাঁর আত্রাই-রাণীনগর এবং মান্দায় যখন উপ-নির্বাচনের হাওয়া বইছে ঠিক সেই সময় তৃতীয় দফায় নওগাঁয় বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনিত হয়ে রানীনগর, আত্রাই ও মান্দা উপজেলার ১৬টি ইউনিয়নের প্রায় দেড়শত গ্রাম বন্যায় প্লাবিত হয়েছে। এতে প্রায় দুই লাখ মানুষ এখন পানিবন্দী। রানীনগর, আত্রাই ও মান্দা উপজেলার বন্যা নিয়ন্ত্রন বাঁধের ৭টি স্থানে ভাঙ্গা অংশ মেরামত না করায় ওই অংশ দিয়ে পানি প্রবেশ করে জেলার বন্যার পরিস্থিতির আরও অবনিত হয়েছে। কাঁচা ঘরবাড়ী ভেঙ্গে গেছে। ফসলের মাঠ তলিয়ে গেছে। উচু স্থানে বা বাধের উপর আশ্রয় নিয়েছে মানুষ।  জেলায় ৭ হাজার হেক্টর জমির ফসল তলিয়ে এবং শতশত পুকুরের মাছ ভেঁসে গেছে। বন্যার বিষ দাঁতের কামড়ে ওই এলাকার মানুষগুলোকে অসহায় করে তুলেছে। এমতাবস্থায় জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসনসহ স্থানীয় নেতাকর্মীরা দফায় দফায় বন্যাদূর্গতদের সহায়তায় পাশে দাঁড়ানোর চেষ্টা করছে। ওদিকে আত্রাই-রাণীনগর উপজেলার তরুন ও উদীয়মান নেতা এ্যাড. ওমর ফারুক সুমন স্থানীয় এলাকার বিভিন্ন হাট-বাজার, জনসমাগম স্থলে করোনা ভাইরাসের তান্ডবের শুরু থেকেই মাক্স, হ্যান্ডস্যানিটাইজার, সাবানসহ বিভিন্ন সামগ্রী বিতরণ এবং বন্যার্তদের জন্য নানা কায়দায় সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিয়েছে। সেই সাথে তার সঙ্গীয়দের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণাও চালিয়ে যাচ্ছেন। বন্যার বিষ দাঁতের কামড়ে ক্ষত-বিক্ষত স্থানীয় মানুষগুলোর মধ্যে আগের মতো করে নির্বাচনী আমেজ না থাকলেও নেতাকর্মীরা উপ-নির্বাচনে ভোট প্রার্থনায় তাদের ভারাক্লান্ত মনের দরজায় গিয়ে কড়া নাড়ছে। বন্যা ও করোনার ভয়াল থাবায় থমকে যাওয়া আত্রাই-রাণীনগরের শান্তি প্রিয় মানুষগুলো তাদের কাঙ্খিত ব্যক্তিকে ভোট দিতে একটি নিরপেক্ষ পরিবেশ কামনার মানবিক আবেদনও রয়েছে সংশ্লিষ্টদের কাছে। 
এবারের উপ-নির্বাচনে আওয়ামীলীগ থেকে যারা মনোনয়ন তুলেছেন তারা হলেন, প্রয়াত সাংসদ ইসরাফিল আলমের স্ত্রী পারভীন সুলতারা বিউটি, সাবেক সংরক্ষিত আসনের এমপি জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি শাহীন মনোয়ারা হক, রানীনগর উপজেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি ও রানীনগর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন হেলাল, জেলা আওয়ামীলীগের আইন বিষয়ক সম্পাদক এ্যাডঃ পিযুষ কুমার সরকার, রাজশাহী মহানগর আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি মুক্তিযোদ্ধা নওশের আলী, আত্রাই উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আলহাজ্ব এবাদুর রহমান, গোনা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবি পরিষদের সাধারন সম্পাদক জিপি এ্যাডঃ মোস্তাফিজুর রহমান ফিরোজ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি নাসিম আহমেদ, সাধারন সম্পাদক ও সাবেক এমপি ওহিদুর রহমানের পুত্র উদিয়মান নেতা এ্যাডঃ ওমর ফারুক সুমন, আত্রাই উপজেলা পরিষদের সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান ও আওয়ামীলীগের সাবেক সাধারন সম্পাদক এ্যাডঃ সিদ্দিকুর রহমান রাজার ছোট ভাই নাহিদ ইসলাম বিপ্লব, জেলা এ্যাডভোকেট বার এ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও জেলা যুবলীগের সভাপতি খোদাদাদ খাঁন পিটু, জেলা যুবলীগের সাধারন সম্পাদক বিমান কুমার রায়, রেজাউল ইসলাম, সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান, এ্যাডঃ জাহিদুল ইসলাম, রফিকুল ইসলাম, আসাদুজ্জামান নুরুল, তোফাজ্জ হোসেন তোফা, দুলাল হোসেনসহ মোট ৩৪ জন।
বিটিবি নিউজের অনুসন্ধানের আরো একটি সূত্রে জানা গেছে, বিগত সময়ে সাবেক প্রতিমন্ত্রী আলমগীর কবীরকে পরাজিত করে বিজয়ী হন ইসরাফিল আলম।  জেএমবি, সর্বহারাসহ সকল প্রকারের সাম্প্রদায়িকতা ও অপশক্তির বিরুদেধ দুর্বার আন্দোলনের কান্ডরী হিসেবে যিনি খ্যাত ছিলেন তিনি হলেন আত্রাই-রাণীনগরের প্রয়াত নেতা ইসরাফিল আলম এমপি। নওগাঁ ০৬ আসনটি চার বার বিএনপির অধীনে থাকলেও ২০০৮ সালের পর থেকে আওয়ামীলীগের দখলে রয়েছে। প্রয়াত নেতা ইসরাফিল আলম এমপিসহ তার দলীয় ত্যাগী নেতাকর্মীদের নেতৃত্বেই এখ নপর্যন্ত আ’লীগের দখলে এ আসনটি। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসা এবং ইসরাফিল আলম এমপি ক্ষমতা গ্রহণের পর এক সময়ের রক্তাক্ত জনপদ নামে খ্যাত রাণীনগর-আত্রাই উপজেলায় এখন শান্তির বাতাস বইছে। আগের মতো করে এখন আর মানুষকে বাংলাভাই, সর্বহারার আতংকে থাকতে হচ্ছে না। ইসরাফিল আলমের কঠোর নেতৃত্বের সহযোগিতার কারণেই আত্রাই-রাণীনগর উপজেলার মানুষ শান্তির নীড় খুঁজে পেয়েছে। প্রয়াত নেতা ইসলাফিল আলম এমপি স্থানীয় স্কুল, কলেজ, মাদ্রাসা, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুতায়ন, যোগাযোগ, স্থানীয় উন্নয়ন এবং বাংলাভাই ও সর্বহারা দমনে মাইলফলক হিসেবে কাজ করেছেন বলেও জানা গেছে।
আত্রাই-রাণীনগর উপজেলার বাহরী ঢঙে সাজানো উন্নয়নের পশরা দেখে মনে হয় এ যেন গ্রাম-গঞ্জ নয়; ইট, বালি, পাথর ও সিমেন্টে গড়া নান্দনিক উন্নয়নের এলাকা। এক সময় এ এলাকাটি ছিল দূর্গম। প্রধানমন্ত্রীর সুযোগ্য নেতৃত্বে সর্বস্তরের উন্নয়ন কর্মকান্ড উদ্ভাসিত হয়েছে সারা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলসহ এই দুর্গম এলাকাগুলোর। প্রয়াত নেতা ইসরাফিল আলম এমপি’র দু’চারটি নেতিবাচক দিক থাকলেও স্থানীয় কিছু উন্নয়ন ও বাংলাভাই, সর্বহারাদের আতংক থেকে মুক্ত রাখতে পেরেছিল এখানকার শান্তিপ্রিয় মানুষগুলোকে।
স্থানীয় এলাকার শান্তিকামী মানুষগুলো কোন দান অনুদানের আশা ছাড়াই আগের মতো করে শান্তিতেই থাকতে চায় আগামী কাঙ্খিত সাংসদ নেতার কাছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে স্থানীয় এলাকার সার্বিক উন্নয়ন আর শান্তির বাতাস ঠিক রাখার প্রত্যাশায় জেলা ও স্থানীয় নেতাকর্মীদের সাথে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে উপ-নির্বাচনে বিজয়ের মাল্য ফিরিয়ে আনতে দিন-রাত কাজ করে যাচ্ছে আনোয়ার হোসেন হেলাল। 
আওয়ামীলীগের পক্ষে জয়ের লক্ষ্যেই আ’লীগের পক্ষ থেকে যারা মনোনয়ন তুলেছেন তারা এবং জেলা ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতাকর্মী, জেলার কয়েকটি উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আত্রাই-রাণীনগর উপজেলায় বর্ধিত সভাসহ উপ-নির্বাচনের ভোটের মাঠে ময়দানে কাজ করছে। গত ২৭ জুলাই এ আসনের এমপি ইসরাফিল আলম মারা যাওয়ায় আসনটি শুন্য হয়। আগামী ১৭ অক্টোবর এই আসনে ভোট গ্রহন অনুষ্ঠিত হবে।