বেসরকারি খাত উন্নয়নে আরও ১ বিলিয়ন ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

বেসরকারি খাত উন্নয়নে আরও ১ বিলিয়ন ডলার দেবে যুক্তরাষ্ট্র

নিউজ ডেস্ক: স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশের বেসরকারি খাতে সহায়তা বাবদ গত ৫০ বছরে ৮ বিলিয়ন ডলার দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। যার মধ্যে ৭ দশমিক ৩ বিলিয়ন এসেছে মার্কিন প্রতিষ্ঠান ইউএস এইডের মাধ্যমে। মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে কৃষি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও গবেষণা খাতে আরও ১ বিলিয়ন সহায়তা দেবে উন্নয়ন সহযোগী এ সংস্থাটি। শনিবার রাজধানীর একটি হোটেলে ইউএস ট্রেড শো আয়োজিত ‘বেসরকারি খাতের প্রবৃদ্ধি অর্জনে ইউএস এইড সহায়তা’ শীর্ষক এক সেমিনারে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়। যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তা কর্মকর্তা ড. মোহাম্মদ খান এতে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন।
তিনি বলেন, আগামী ৫ বছরে বেসরকারি বিভিন্ন খাতে ৯৫৪ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করা হবে। এ সময় বাংলাদেশের বিভিন্ন খাতের উন্নয়নের বিষয়টি তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশ প্রায় ৯০০ আশ্রয় কেন্দ্র নির্মাণ করেছে সংস্থাটি। দুর্যোগের আগে সতর্কবার্তা প্রদানেও অর্থায়ন করেছে তারা। গত ২০ বছরে কৃষি উৎপাদন তিনগুণ বৃদ্ধিতে বৈজ্ঞানিক সহায়তা দিয়েছে মার্কিন এ সংস্থাটি। দেশের স্বাস্থ্য খাতে ৬৬ শতাংশ শিশু ও মাতৃমৃত্যু হ্রাসে অর্থায়ন করেছে। তাছাড়া ৫ কোটি গ্রামের মানুষের নিকট বিদ্যুৎ পৌঁছে দিতেও কাজ করেছে ইউএস এইড।
করোনা মহামারীর সময়েও ১৩০ মিলিয়ন ডলার মানবিক সহায়তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মোট সহায়তা ২৫ শতাংশ দেশের অর্থনীতির উন্নয়নে ব্যয় করা হচ্ছে। যেখানে বছরে প্রায় ৭১ মিলিয়ন ডলার ব্যয় করছে দেশটি। দেশে বর্তমানে ৩৫টি খাতে তাদের কাজ চলমান রয়েছে। সামনে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, পরিবেশ ও ব্যবসা সহজীকরণে কাজ করবে তারা। ইকো ট্যুরিজম এবং কৃষিতে আরও বিনিয়োগ করতে চায় তারা। এমনকি দেশের ক্রমবর্ধমান ফুলের শিল্পের উন্নয়নে কাজ করবে তারা।
মধ্যম আয়ের দেশে পরিণত হতে এনবিআরকে আধুনিকায়ন করতে কাজ করছে সংস্থাটি। নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে ল্যাব সহায়তা করা হচ্ছে। কৃষি রপ্তানি বাড়াতে দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করছে তারা। সেখানে এসিআইসহ বিভিন্ন কোম্পানিতে ৮ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করা হয়েছে। আর এসব বিনিয়োগ থেকে এসব কোম্পানি ৭০০ মিলিয়ন ডলার আয় করতে সক্ষম হয়েছে।
দেশের কৃষি খাতে নাসার তথ্য দিয়ে সহায়তা করছে যুক্তরাষ্ট্র। নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে ল্যাব সহায়তাসহ বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাণের সম্ভাব্যতা নিয়েও কাজ করছে তারা। কর্মক্ষেত্র উন্নয়নের জন্য তরুণদের জন্য দক্ষতা বৃদ্ধির বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
দেশের ৭০ লাখ মানুষের জীবন ধারণের অন্যতম উৎস ইলিশ মাছের উৎপাদন বাড়াতেও কাজ করবে সংস্থাটি। কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮০০ বিজ্ঞানীর পেছনে তারা গবেষণা সহায়তা দিতে এগিয়ে এসেছে। এশিয়ায় প্রথম বাংলাদেশে নিরাপদ খাদ্য নিয়ে আলাদা একটি কোর্স চালু করেছে সংস্থাটি। গবেষণা নিয়ে বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে করা হচ্ছে যা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। বায়ু বিদ্যুৎ নিয়ে সরকারি সংস্থা স্রেডা ও বিদ্যুৎ বিভাগের সঙ্গেও কাজ করছে ইউএস এইড।
এদিকে ইউএস ট্রেড শো-র শেষ দিনে বিভিন্ন স্টলে ব্যাপক উপস্থিতি দেখা গেছে। বিশেষ করে প্রসাধনী ও খাদ্যের স্টলগুলো বেশি দর্শক ছিল। শোতে মার্কিন গ্যাস কোম্পানি শেভরনের স্টল দেখা গেছে। সিলেটের তিনটি গ্যাস ক্ষেত্রে থেকে কোম্পানিটি এখন দেশের মোট সরবরাহ করা গ্যাসের ৬০ শতাংশ গ্যাস একাই উৎপাদন করছে। আর তেল জাতীয় অকটেনের ৮০ শতাংশ উৎপাদন করছে কোম্পানিটি। দেশের সবচেয়ে বড় গ্যাসক্ষেত্র বিবিয়ানার পরিচালনায় রয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
কৃষি যন্ত্রপাতি নিয়ে কাজ করা আইডিই গ্লোবাল নামের আরেকটি কোম্পানির স্টল ঘুরে হারভেস্টার দেখা গেছে। যেখানে ৪ জন কৃষক সারাদিন কাজ করে ১ বিঘা জমির ফসল তুলতে পারে সেখানে এসব হারভেস্টার দিয়ে মাত্র ১ জনের ৫০ মিনিটের শ্রমেই তা সম্ভব। এসব যন্ত্র দেশে সরবরাহ করছে কোম্পানিটি।
ফুলিয়া ওয়াটার নামের আরেকটা প্রতিষ্ঠান মাত্র ৪০ টাকার যন্ত্র দিয়ে সহজেই পানি পরিশোধনের প্রযুক্তি প্রদর্শন করছে। যেখানে ২০ টাকার একটি পেপার ব্যবহার করে ২০ লিটার পানি পরিশোধন করা যায়।