সন্ধান মিলেছে ইলিশের নতুন প্রজনন ক্ষেত্রের

সন্ধান মিলেছে ইলিশের নতুন প্রজনন ক্ষেত্রের

নিউজ ডেস্ক: রুপালি রং, জিভে জল আসা সুঘ্রাণ, জাদুকরী স্বাদ মাছের রাজা ইলিশের। বাঙালি উৎসবগুলোতেও ইলিশের যেন বিকল্প নেই। আর ইলিশপিয়াসীদের কাছে শর্ষে ইলিশ, ইলিশ ভাজা, ইলিশের কোফতা কারি, ইলিশ পোলাও ও পাতুড়ি ইলিশের মতো হরেক আইটেমের খাবার প্রথম পছন্দের।

মাছের রাজা ইলিশ নিয়ে ময়মনসিংহে অবস্থিত বাংলাদেশ মৎস্য গবেষণা ইনস্টিটিউট (বিএফআরআই) ভোজনরসিকদের জন্য  এবং রপ্তানিতে নয়া সুখবর নিয়ে এসেছে। দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বলেশ্বর নদের ৫০ কিমি দীর্ঘ ও সাড়ে ৩০০ বর্গ কিলোমিটার বিস্তৃত অঞ্চল নিয়ে একটি নতুন প্রজনন ক্ষেত্র করার প্রস্তাব করেছে প্রতিষ্ঠানটি। পানির ভৌত রাসায়নিক গুণাগুণ, প্রাকৃতিক খাদ্যের প্রাচুর্য, ভৌগোলিক অবস্থানসহ ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্রে যেসব প্রয়োজন হয় এর সবকিছুই রয়েছে বলেশ্বর নদে।

জানা যায়, অনুমোন পেলে এটি হবে ইলিশের পঞ্চম প্রজনন ক্ষেত্র। এতে সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে বছরে ৫০ হাজার মেট্রিক টন বাড়তি ইলিশ উৎপাদনের। ফলে বছরে ছয় লাখ মেট্রিক টনের বেশি ইলিশ উৎপাদনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর আগে ৭ হাজার বর্গ কিলোমিটারবিশিষ্ট মায়ানী-মিরসরাই, পশ্চিম সৈয়দ আউলিয়া পয়েন্ট-তজুমদ্দিন, গন্ডামারা-বাঁশখালী ও লতাচাপালি কলাপাড়া এলাকার মোহনা অঞ্চলে আরও চারটি প্রজনন ক্ষেত্র শনাক্ত করা হয়।

প্রতিষ্ঠানটি বলছে, বাগেরহাট, পিরোজপুর ও বরগুনা জেলার ওপর দিয়ে প্রবাহিত বলেশ্বর নদের মোহনা অঞ্চল মিলিয়ে গড়ে ৫০ কিমি দৈর্ঘ্যবিশিষ্ট ৩৪৮ বর্গ কিমি বিস্তৃত এলাকাকে ইলিশের পঞ্চম প্রজনন ক্ষেত্র করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে বছরে গড়ে প্রায় ৮০০ কোটি নতুন লার্ভি ইলিশ এবং ৩৫০ কোটি অন্যান্য মাছের পোনা নদীর মৎস্য পরিবারের সঙ্গে নতুন করে যুক্ত হবে।

ইনস্টিটিউটের মহাপরিচালক ড. ইয়াহিয়া মাহমুদ জানান, বর্তমান সরকার ইলিশ উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে নানামুখী গবেষণা কার্যক্রম গ্রহণ করেছে। এরই ধারাবাহিকতায় বিএফআরআইর বিজ্ঞানীরা তিন বছরের গবেষণায় বলেশ্বর নদে ইলিশের ব্যাপক প্রজননের সম্ভাবনার প্রমাণ পেয়েছেন। এর আগে যে চারটি ইলিশের প্রজনন ক্ষেত্র চিহ্নিত করেছে বিএফআরআই, এর সঙ্গে এই এলাকার জলজ পরিবেশ ও মাছের ডিম ছাড়ার বৈশিষ্ট্যের মধ্যে সাদৃশ্য রয়েছে।

তিনি জানান, প্রজনন ক্ষেত্র যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা গেলে ইলিশের উৎপাদন বছরে আরও ৫০ হাজার মেট্রিক টন বাড়বে। এ ছাড়া ইলিশের সহনশীল আহরণমাত্রা ৭ লাখ ২ হাজার মেট্রিক টন নির্ধারণ করা হয়েছে। এতে বর্তমান উৎপাদন থেকে আরও প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মেট্রিক টনের বেশি ইলিশ আহরণ করা যাবে। বিএফআরআইর গবেষণার ফল বলছে, ২০১৯ থেকে ২০২১ সাল পর্যন্ত বলেশ্বর নদের মোহনা অঞ্চলে ইনস্টিটিউট গবেষণা চালায়। গবেষণায় তিনটি বিষয় মিলেছে। এর মধ্যে প্রজননক্ষম ইলিশের আধিক্য, ইলিশের বসবাসের অনুকূল পরিবেশ এবং লার্ভি অর্থাৎ ডিম ফুটে বেরোনো বাচ্চা ইলিশ ও জাটকার প্রচুর পরিমাণ সন্ধান মিলেছে।

জানা যায়, তিন বছরের গবেষণার ফল অনুযায়ী প্রস্তাবিত প্রজনন এলাকায় বছরওয়ারি ডিমওয়ালা মাছের সংখ্যা যথাক্রমে ৬৫, ৬৯ ও ৫১ শতাংশ। ডিম ছাড়ারত মাছের সংখ্যা যথাক্রমে ৪৯, ৫৫ ও ৪৩ শতাংশ এবং ডিম ছেড়ে দেওয়া মাছের সংখ্যা যথাক্রমে ৪৫, ৫০ ও ৪০ শতাংশ। এ ছাড়া প্রজননোত্তর ইলিশ মাছের হার যথাক্রমে ৪৫, ৫০ ও ৪০ শতাংশ শনাক্ত করা হয়েছে।