মংলায় ৫৫ মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুতকেন্দ্র হচ্ছে

মংলায় ৫৫ মেগাওয়াট বায়ু বিদ্যুতকেন্দ্র হচ্ছে

দুই হাজার ৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে বাগেরহাটের মংলায় ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বায়ু বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপনের ক্রয়প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়েছে। বেসরকারী খাতের এই বিদ্যুতকেন্দ্র থেকে ২০ বছরের চুক্তিতে ১০ টাকা ৫৬ পয়সা কিলোওয়াট পার আওয়ার মূল্যে বিদ্যুত সরবরাহ করা হবে। খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে ভারত থেকে আরও ৫০ হাজার টন সিদ্ধ চাল আমদানিতে সায় দিয়েছে সরকার। নারায়ণগঞ্জ লিংক সড়ক (সাইনবোর্ড-চাষাড়া) ছয় লেনে উন্নীতকরণ শীর্ষক একটি প্রকল্পের প্যাকেজের কাজের ক্রয়প্রস্তাব অনুমোদন দেয়া হয়। কাতার ও সৌদি থেকে ১৬৮ কোটি টাকায় ৭৫ হাজার টন সার কেনা হবে।

 

বুধবার আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের সভাপতিত্বে ভার্চুয়ালি অনুষ্ঠিত সরকারী ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির ৩৪তম বৈঠকে এই প্রস্তাবগুলো অনুমোদন দেয়া হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল চিকিৎসার জন্য দেশের বাইরে থাকায় সভায় সভাপতিত্ব করেন আইনমন্ত্রী। বৈঠক শেষে অনলাইনে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু সালেহ্মোস্তফা কামাল বলেন, ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা বৈঠকে মোট ১৪টি ক্রয় প্রস্তাব উপস্থাপিত হলে এরমধ্যে ১০টি প্রস্তাবের অনুমোদন দেয়া হয়। তিনি বলেন, বেসরকারী খাতে বাগেরহাটে মংলায় ৫৫ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন বায়ু বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপনের ক্রয়প্রস্তাবে অনুমোদন দেয়া হয়েছে। সুপারিশকৃত দরদাতারা হচ্ছে চায়নার কনসোর্টিয়াম অব ইনভেশন এনার্জি এবং বাংলাদেশের এসকিউ ট্রেডিং এ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এবং ইনভিশন অব রিনিউয়েবল এনার্জি লিমিটেড। এতে ২ হাজার ৩৫ কোটি ১২ লাখ টাকায় এ বায়ু বিদ্যুতকেন্দ্র স্থাপন করা হবে। অতিরিক্ত সচিব জানান, ২০ বছরের চুক্তিতে ১০ টাকা ৫৬ পয়সা কিলোওয়াট পার আওয়ার মূল্যে এ বিদ্যুত সরবরাহ করা হবে।

ভারত থেকে আরও ৫০ হাজার টন চাল আমদানি ॥ খাদ্য নিরাপত্তা জোরদারে ভারত থেকে ৫০ হাজার টন নন বাঁশমতি সিদ্ধ চাল আমদানি করা হবে। এ প্রসঙ্গে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব আবু সালেহ মোস্তফা কামাল বলেন, আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫০ হাজার টন নন-বাঁশমতি সিদ্ধ চাল ক্রয়প্রস্তাবে সায় দেয়া হয়েছে। এরজন্য সুপারিশকৃত দরদাতা হচ্ছে ভারতের মুম্বাইয়ের রিকা গ্লোবাল ইমপেক্স। মংলা ও চট্টগ্রাম পোর্ট দিয়ে এ চাল সরবরাহ করা হবে জানিয়ে তিনি বলেন, চালের মূল্য কেজিপ্রতি ৩৪ দশমিক ২৮ টাকা এবং প্রতি টন ৪০৪ দশমিক ৩৫ মার্কিন ডলার খরচ হবে। এর আগে গত ২ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক কোটেশনের মাধ্যমে ২০২০-২১ অর্থবছরে ৫০ হাজার টন নন-বাঁশমতি সিদ্ধ চাল ক্রয়প্রস্তাবে সায় দেয়া হয়। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের বীরভূমের এমএস পিকে এগ্রি লিংক প্রাইভেট লিমিটেড এ চাল সরবরাহ করবে বলে জানানো হয়েছিল।

অতিরিক্ত সচিব জানান, চলতি অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে কাতার কেমিক্যাল এ্যান্ড পেট্রোকেমিক্যাল মার্কেটিং এ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি (মুনটাজাত) থেকে অষ্টম লটে ২৫ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়। ৫৬ কোটি ছয় লাখ ৭০ হাজার টাকায় সার আনা হবে। এছাড়া চলতি অর্থবছরে রাষ্ট্রীয় পর্যায়ে চুক্তির মাধ্যমে সৌদি আরবের বেসিক ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশন (এসএবিআইসি) থেকে নবম লটে ২৫ হাজার টন বাল্ক গ্র্যানুলার ইউরিয়া সার আমদানির অনুমোদন প্রস্তাবে সায় দেয়া হয়। ৫৫ কোটি ৯০ লাখ ৭৭ হাজার টাকায় এ সার আনা হবে।