বদলে যাচ্ছে সমুদ্রসৈকত

বদলে যাচ্ছে সমুদ্রসৈকত

নিউজ ডেস্ক: বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকত শহর কক্সবাজার। যেখানে প্রতি বছর ৫০ লাখের অধিক দেশী-বিদেশী ভ্রমণপিপাসুর আগমন ঘটে। দীর্ঘদিন পরে হলেও শহরের সমুদ্রসৈকতে দেশী-বিদেশী পর্যটকদের কাছে আকৃষ্ট করতে সাজানো হচ্ছে নবরূপে। ছায়া সুনিবিড় প্রাকৃতিক পরিবেশে অত্যাধুনিক সুবিধা ব্যবস্থায় প্রায় দুই হাজার ৫১ কোটি ২০ লাখ ৫৪ হাজার টাকা ব্যয়ে সমুদ্রসৈকতকে সাজানো হচ্ছে নান্দনিক রূপে। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়ন হলে দিনের বেলা যেমন পর্যটকে ভরপুর থাকবে রাতের অপূর্ব সৌন্দর্য দেখতে আগ্রহ আরো বাড়বে। পৃথিবীর উন্নত দেশের পর্যটকরা কক্সবাজারে আসার আগ্রহ দেখাবে। কক্সবাজার পর্যটন খাত হবে দেশের সবচেয়ে অর্থলগ্নিকারী প্রতিষ্ঠান। এমনকি বদলে যাবে কক্সবাজার, বদলে যাবে দেশের অর্থনীতির চাকাও। এতে পর্যটনের সম্ভাবনা যেমন খুলে যাবে, তেমনি বিশ্বের দীর্ঘতম এই সৈকতের প্রতি মানুষের আকর্ষণও বেড়ে যাবে। আর এরই সাথে পাল্টে যাবে শত বছরের চেনাজানা সৈকতের পুরনো রূপও।
কক্সবাজারের পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রকল্পটির ডিজাইন প্ল্যানিং করে প্ল্যানিং একনেকে অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

চলতি মার্চ মাসে একনেকে প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে আগামী এপ্রিল মাস থেকে নান্দনিক এ সড়ক নির্মাণের কাজ শুরু করতে আর কোনো বাধা থাকবে না এমনটাই জানিয়েছেন কক্সবাজারের পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী প্রবীর কুমার। তিনি আরো জানান, গত বছরের মার্চে জেলা প্রশাসন, পরিবেশ অধিদফতর, কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, পৌরসভা, বিদ্যুৎ বিভাগ ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের যৌথসভায় ‘কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত রক্ষা ও টেকসই আধুনিক পরিবেশবান্ধব পর্যটন প্রকল্প’ গ্রহণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। এটি বাস্তবায়নে সময় লাগবে চার বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের জুন মাসে প্রকল্পের কাজ শেষ করার কথা রয়েছে।
সমুদ্রসৈকত কূল ঘেঁষে ১২ কিলোমিটার দৃষ্টিনন্দন সড়কটি হবে ১২ ফুট উচ্চতায় একটি পাতালপথ। এই পাতালপথে বসবে শপিংমল, উন্নতমানের রেস্তোরাঁ, কফিশপ, মালামাল রাখার লকার, ওয়াশরুম, চেয়ারে বসে কাচের জানালা নিয়ে সমুদ্র দেখাসহ বিনোদনের আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধা। সড়কের পশ্চিম পাশে বা সমুদ্রের দিকে থাকবে বাইসাইকেল ও পায়ে হাঁটার পৃথক রাস্তা। থাকবে সমুদ্রতলের প্রাণিজগতের রহস্য দেখার অ্যাকুয়ারিয়াম, সড়কের মোড়ে মোড়ে থাকবে দৃষ্টিনন্দন ভাস্কর্য। থাকবে বিনোদন পার্ক, সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য লালনের মুক্তমঞ্চ, বিদেশী পর্যটকদের অবকাশযাপনে পৃথক ব্যবস্থা। দিনের চেয়ে রাতের আলোঝলমল সড়কটি পর্যটকদের আরো বেশি বিমোহিত করবে। দৃষ্টিনন্দন পাতালপথ কলাতলী থেকে নাজিরারটেক পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার সমুদ্রসৈকতে হলে আর দেখা যাবে না ঝুপড়ি দোকানপাট, ময়লা-আবর্জনা আর অব্যবস্থাপনা।
কলাতলী মেরিন ড্রাইভ থেকে (বেইলি হ্যাচারির পাশ) শুরু হয়ে হোটেল সায়মনের সামনে দিয়ে উত্তর দিকে (সমুদ্রসৈকতের তীর ঘেঁষে) সুগন্ধা, সিগাল, লাবণী, ডায়াবেটিক হাসপাতাল পয়েন্ট হয়ে আঁকাবাঁকা পথে নাজিরারটেক পর্যন্ত যাবে ১২ কিলোমিটারের এই পাতালপথ সড়কটি। নাজিরারটেক অংশে যুক্ত হবে কক্সবাজার আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সংযোগ সড়ক। সৈকতের বালুচরে সৃজিত ঝাউবাগান ঠিক রেখেই সড়কটি তৈরি করা হবে।
কক্সবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, সড়কের মধ্যে ৪ দশমিক ৮ কিলোমিটার হবে মাল্টিফাংশনাল। এর মধ্যে কলাতলী থেকে লাবণী পয়েন্ট পর্যন্ত থাকবে ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার এবং ডায়াবেটিক হাসপাতাল পয়েন্ট থেকে নাজিরারটেক পর্যন্ত হবে ২ কিলোমিটার; যেখানে থাকবে শপিংমল, দোকানপাট, ওয়াশরুম, লকার, কফিশপ, রেস্তোরাঁ প্রভৃতি। সড়কটি রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকবে কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, কক্সবাজার পৌরসভা, জেলা প্রশাসন, বন, পর্যটন, পরিবেশ ও বিদ্যুৎ বিভাগের । 

সমতল থেকে সড়কটির উচ্চতা হবে ১২ ফুট, প্রস্থ ৫০ ফুট। পাতালপথ আদলে তৈরি সড়কের দুই পাশে গাড়ি পার্কিং এবং ওয়াকওয়ে বাদ দিয়ে দুই লেনের সড়ক হবে ৩০ ফুট। দিনের বেলায় সৈকতের এমন রূপ মানুষকে যতটুকু মুগ্ধ করবে, রাতের আলোকোজ্জ্বল ঝলমলে সড়কটি আনন্দের মাত্রা বাড়াবে আরো কয়েকগুণ। সড়কের পশ্চিম পাশে থাকবে ১০ ফুট প্রস্থের সাইকেলওয়ে। ৯০-১০০ ফুট প্রস্থের থাকবে ওয়াকওয়ে, যেখানে লোকজনের হাঁটাচলার পাশাপাশি বিশ্রামের ব্যবস্থাও থাকবে। সেখানে বসানো হবে ৭০০টি চেয়ার। ওয়াকওয়ের সামনে (পশ্চিমে) বসানো হবে ছাতাচেয়ার।
কক্সবাজার উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফোরকান আহমদ জানান, আধুনিক নির্মাণশৈলী দিয়ে কক্সবাজার সমুদ্রসৈকতকে সুরক্ষিত করা হলে দেশী-বিদেশী পর্যটক বছরের ১২ মাসেই সমান তালে আসতে থাকবে। সাড়ে পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল, গেস্ট হাউজ, রেস্ট হাউজকে তখন আর পর্যটন মৌসুমের জন্য অপেক্ষা করতে হবে না।