নওগাঁয় গলা কেটে হত্যা মামলায় স্বামীর যাবজ্জীবন, স্ত্রীর ৩ মাসের কারাদণ্ড

নওগাঁয় গলা কেটে হত্যা মামলায় স্বামীর যাবজ্জীবন, স্ত্রীর ৩ মাসের কারাদণ্ড
হত্যা মামলার আসামী মো. রেজাউল ইসলাম ওরফে লালু এবং স্ত্রী লাকি বেগম

স্টাফ রিপোর্টার: নওগাঁর আত্রাইয়ে মো. জাহাঙ্গীর প্রামাণিক (৩০) হত্যা মামলায় মো. রেজাউল ইসলাম ওরফে লালু (৩৫) নামের এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও তা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় রেজাউল ইসলাম লালুর স্ত্রী লাকি বেগমকে (৩০) তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও তা অনাদায়ে পাঁচ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক গাজী দেলোয়ার হোসেন।

নওগাঁর অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক গাজী দেলোয়ার হোসেন আজ সকাল সাড়ে ১১টার দিকে এ রায় দেন। দণ্ডপ্রাপ্ত দুজন আত্রাই উপজেলার কচুয়া উত্তরপাড়া গ্রামের বাসিন্দা। উভয়ে স্বামী-স্ত্রী বলে জানা গেছে।

আদালতে আসামীদ্বয়ের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধি ১৮৬০ এর ৩০২ ধারায় অপরাধ সন্দেহাতীতভাবে  প্রমাণিত হলে আসামি মো. রেজাউল ইসলাম ওরফে লালু (৩৫) নামের এক আসামিকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, ৫০ হাজার টাকা জরিমানা ও তা অনাদায়ে আরও ৩ মাসের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই মামলায় রেজাউল ইসলাম লালুর স্ত্রী লাকি বেগমকে (৩০) তিন মাসের সশ্রম কারাদণ্ড, ৫ হাজার টাকা জরিমানা ও তা অনাদায়ে পাঁচ দিনের সশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়েছে।

আসামী উপস্থিত থাকায় সাজা পরোয়ানা মূলে তাকে নওগাঁ জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়। রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনার সময় উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পিপি মো: মোজাহার হোসেন এবং এপিপি মো: সামসুর রহমান। এ রায়ে রাষ্ট্রপক্ষ সন্তোষ প্রকাশ করেন।

জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৫ মার্চ কচুয়া উত্তরপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর প্রামাণিক রাতের বেলা গভীর নলকূপ ঘর পাহারা দিচ্ছিলেন। এ সময় সেখানে হামলা চালিয়ে গলা কেটে তাঁকে হত্যা করা হয়। দীর্ঘদিন ধরে জাহাঙ্গীর প্রামাণিকের সঙ্গে রেজাউল প্রামাণিকের বিরোধ চলে আসছিল। জমি নিয়ে বিরোধের জেরে উভয় পক্ষের মধ্যে একাধিকবার কথা–কাটাকাটিও হয়। জাহাঙ্গীর হত্যা ঘটনার পরদিন ৬ মার্চ তাঁর স্ত্রী সাথী বাদী হয়ে রেজাউল প্রামাণিকসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আত্রাই থানায় মামলা করেন।

২০১৪ সালের ৫ মার্চ কচুয়া উত্তরপাড়া গ্রামের জাহাঙ্গীর প্রামাণিক রাতের বেলা গভীর নলকূপ ঘর পাহারা দিচ্ছিলেন। এ সময় সেখানে হামলা চালিয়ে গলা কেটে তাঁকে হত্যা করা হয়।