মান্দা থানা পুলিশের হয়রানিতে অতিষ্ঠ মান্দার জনজীবন পর্ব ০৪

মান্দা থানা পুলিশের হয়রানিতে অতিষ্ঠ মান্দার জনজীবন পর্ব ০৪

৯৯৯ কলে সারা মিললেও থানা পুলিশের পুরো সেবা পায়নি

অভিযোগে নাম বাদ ও ঘটনার সাথে জড়িত নয় 
এমন ব্যক্তিকে হয়রানির অভিযোগ উঠেছে মান্দা থানা পুলিশের বিরুদ্ধে


মো: আব্দুল বারি খান: আইনী সেবা প্রত্যাশিদের ভরসাস্থল থানা। কিন্তু থানা মানেই ভুক্তভোগীদের হয়রানি ও টাকা আদায়ের কারখানা। টাকা ছাড়া থানায় কোনো কাজ-ই হয় না। এমন ধারণা জনসাধারণের। তবে জনসাধারণের সেই ধারণা পাল্টে দিয়েছেন পুলিশ সুপার প্রকৌশলী মো. আবদুল মান্নান মিয়া। তিনি এ জেলায় যোগদানের পর থেকে জেলার ১১টি থানায় সেবা নিতে আসা লোকজন টাকা ছাড়াই নির্বিঘ্নে এখন সাধারণ ডায়েরি (জিডি), অভিযোগ ও মামলা লেখা বা অন্তর্ভুক্ত করতে পারছেন। তবে শতভাগ এখনও মুক্ত হয়নি। 
বিটিবি নিউজের অনুসন্ধানের আয়নায় জানা গেছে, মান্দা থানার ও’সিসহ অসৎ পুলিশ সদস্যরা সততার মানদন্ডে কতটুকু উন্নিত তা নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন ঘোরপাক খাচ্ছে। মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহিনুর রহমানের বিরুদ্ধে অনিয়ম, কাজে অবহেলা ও ঘুষবানিজ্যের গুঞ্জন রয়েছে। 
জানা গেছে, মান্দা উপজেলার জাফরাবাদ গ্রামের সাবের আলীর পুত্র মোসলেম উদ্দিনের টিনের বাড়ি দিনের বেলায় ভাংচুর এবং লুটপাট করে দুর্বৃত্তরা। ভুক্তভোগী মোসলেম উদ্দিন বিটিবি নিউজকে বলেন, আমার বাড়ি ভাংচুর, মালামাল লুট হওয়ার বিষয়ে ২১ মার্চ সকাল অনুমান সাড়ে ৯টার দিকে ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে আমি সহযোগিতার আশ্বাস পাই। কিন্তু মান্দা থানা পুলিশ ১২টার দিকে ঘটনাস্থলে আসে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছার আগেই আসামীরা আমার বাড়িঘর ভাংচুর করে মালামাল লুট করে নিয়ে যায়। দুপুর ২টা কিংবা আড়াইটার দিকে ওসি শাহিনুর ঘটনাস্থলে আসেন। মান্দা থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে আসলেও আসামীদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষনিক কোন ব্যবস্থা নেয়নি বলেও বাদি এবং তার পক্ষের লোকজনের অভিযোগ।
পরবর্তীতে মান্দা থানায় এজাহার দায়ের করতে গেলে ওই এজাহারে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের মধ্য থেকে মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহিনুর রহমানের পছন্দের ব্যক্তিদের নাম বাদ দিতে বলেন। এজাহার থেকে তার পছন্দ মতো নামগুলো বাদ না দিলে তিনি এজাহারটি নিবেন না মর্মে ছাপ জানিয়ে দেন বলে মোসলেম উদ্দিন বিটিবি নিউজের নিকট অভিযোগ করেন। মসলেম উদ্দিন অবশেষে তার এজাহার থেকে ওসি শাহিনুর রহমানের পছন্দের ১৩জন ব্যক্তির নাম বাদ দিয়ে এজাহারের কপি সংশোধন করলে এজাহারটি  গ্রহণ করেন বলে বাদি মোসলেম উদ্দিন বিটিবি নিউজকে জানান। বাদি মোসলেম উদ্দিন আরো বলেন, মান্দা থানার ওসি শাহিনুর, তদন্ত ওসি সিদ্দিকুরসহ পুলিশের এস আই, এ এস আইগণ মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ওই ১৩জন আসামীর নাম মামলায় ঢুকাতে দেয়নি।
অন্যদিকে এজাহারে অন্তভূক্ত নামগুলোর মধ্যে কয়েকজন ব্যবসায়ী রয়েছে। তারা ঘটনা সম্পর্কে কিছু জানে না এবং এর সাথে জড়িত নয় বলে দাবি করে বিটিবি নিউজকে বলেন, পুলিশ মিথ্যা হয়রানিসহ মোটা অংকের টাকা নেয়ার পাঁয়তারায় এবং নানাভাবে ক্ষতিকরার মানষে তাদের নাম মামলায় অন্তভূক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগের একাংশ থেকে জানা গেছে, মান্দার জাফরাবাদ এলাকার সাবের আলী মন্ডলের পুত্র মোসলেম উদ্দিনের দখলীয় সম্পত্তিতে চারচালী টিনের ঘর বাড়ি নির্মাণ করে ভোগ দখল করে আসছিল। গত ২১ মার্চ সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ১নং বিবাদী জাফরাবাদ এলাকার রিয়াজ উদ্দিন প্রামানিকের পুত্র মোজাম্মেল হকের হুকুমে এজাহারে উল্লেখিত ২৪জনসহ আরো অজ্ঞাতনামা ১৫/২০জন দলবদ্ধ হয়ে তার বাড়িঘর ভাংচুর করে বাড়ির আসবাসপত্র, বাড়িতে থাকা চাল, আলু, গরু, ছাগলসহ বিভিন্ন মালামাল লুটপাট করে নিয়ে যায়। ওই এজাহারে তার বসত ভিটার বেশ কিছু প্রজাতির গাছ কেটে নষ্ট করারও কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
বাদি মোসলেম উদ্দিন বিটিবি নিউজকে আরো জানান, তারা জামিনে বের হয়েই কয়েকজন কোর্ট চত্ত্বরে আমাকে শাসন গর্জন করলে আমি আবারও ৯৯৯ নম্বরে কল দিলে দ্রুতগতিতে পুলিশের সহায়তা পাই। পুলিশের সহযোগিতা নিয়ে আমি বাড়ি ফিরে আসি। সে আরো জানায়, তার পরিবার পরিজন নিয়ে নিরাত্তাহীনতায় মানবেতরে জীবন যাপন করছি।
মান্দা থানা হয়রানির কারখানা; না সেবা প্রত্যাশীদের ভরসাস্থল! তা কেবলমাত্র সেবা নিতে আসা ভুক্তভোগী এবং অসৎ পুলিশদের দ্বারা নানা কায়দার মারপাঁচে ফেলা নির্যাতিত ব্যক্তিরাই বলতে পারবে। এখনও পাল্টাইনি মান্দা থানার অসৎ পুলিশের চরিত্র।
বিভিন্ন সময় ও’সি শাহিনুর রহমান কৌশলের আশ্রয় নেন। তিনি মান্দা থানায় যোগদানের পর থেকে চেইন অফ কমান্ড অনেকটা ভেঙ্গে পড়েছে বলে একটি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। ওসিসহ অসৎ পুলিশ সদস্যদের হয়রানিতে অতিষ্ঠ মান্দার জনজীবন। 
মান্দা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. শাহিনুর রহমানের সঙ্গে আমার ব্যক্তিগত ০১৭১৬১৩০৫৭১ নম্বর থেকে সরকারি কাজে ব্যবহৃত তার মুঠোফোনে কল দিলে অপরপ্রান্ত বারবার ব্যস্ত দেখায়। ব্যস্ততার লক্ষণ দেখে মনে হয় আমার নম্বরটি ব্ল্যাক লিষ্টে রেখেছেন। পরেক্ষনেই আমার অন্য নম্বর যা ওসি সাহেবের জানা নেই সেই নম্বর থেকে ওসি শাহিনুরের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফোনটি রিসিভ করেন। তার চেনা আমার নম্বরটি ব্ল্যাক লিষ্টে রেখেছেন কি-না জানতে চাইলে তিনি অস্বীকার করেন। তার মতামত নিতে চাইলে তিনি বলেন, আমি একটি অপারেশনে আছি পরে আপনাকে ফোন দিব। সেই থেকে পরই তার আর হয়নি। এভাবেই বিভিন্ন সময় তার কাছে বিভিন্ন সংবাদের বিষয়ে মতামত জানতে চাইলে কৌশলের আশ্রয় নেন। 
নওগাঁ জেলার চৌকশ পুলিশ সুপার প্রকৌশলী মো. আবদুল মান্নান মিয়ার সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে ফোনটি রিসিভ না হওয়ার কারণে তার মতামত নেয়া সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারলে তার মতামতসহ পুলিশের আইনী সেবা প্রদানের নানা বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ এবং সমাজ ও রাষ্ট্র উন্নয়নের অনেক তথ্যই তুলে ধরা সহজতর হবে।
প্রকাশিত সংবাদের সাথে জড়িতরা যদি কোন তথ্য ভুল প্রমাণিত করতে পারে। তাহলে সে তথ্যগুলো দিয়ে সহযোগিতা করলে তাদের সেই প্রমানাদিসহ পুনরায় প্রকাশিত সংবাদের তথ্যও তুলে ধরা হবে-ইনশাল্লাহ।
চলবে ............................