ধামইরহাটের আ’লীগ নেতা দেলদার আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়ার গুঞ্জন উঠেছে

ধামইরহাটের আ’লীগ নেতা দেলদার আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়ার গুঞ্জন উঠেছে

মো: আব্দুল বারি খান: নওগাঁর ধামরহাটের দেলদার কয়েক বছরের ব্যবধানে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ হওয়ার গুঞ্জন উঠেছে। ধামরহাট উপজেলার গুপিরামপুর সহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে অঢেল সম্পদের মালিক হয়েছেন বলে গুঞ্জন উঠেছে থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দেলদার হোসেনের বিরুদ্ধে। এ যেন হঠাৎ করে আলাদিনের চেরাগ পেয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হওয়ার মতো অবস্থা।
বিটিবি নিউজের অনুসন্ধানের আয়নায় জানা গেছে, ধামইরহাট উপজেলার গোপীরামপুর গ্রামের মৃত জাফের উদ্দিনের পুত্র মো: দেলদার হোসেন। তার বাবা মৃত জাফের উদ্দিন ব্রিটিশ আমলে দেবিপুর ইউনিয়ন বোর্ডের পঞ্চায়েত ছিলেন। তার বড় ভাই মরহুম তোফাজ্জল হোসেন খেলনা ইউনিয়ন পরিষদের  পরপর ২ বার নির্বাচিত চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ ধামইরহাট উপজেলা শাখার সাবেক সভাপতি ছিলেন।
মো. দেলদার হোসেন উপজেলার খেলনা  হাইস্কুলের সহকারি শিক্ষক হিসেবে ১৯৭৬-১৯৮৮ খ্রি: পর্যন্ত কর্মজীবন অতিবাহিত করেছেন। ১৯৮৮ সাল থেকে ২০০৩ পর্যন্ত ১৫ বছর যাবৎ পরপর ৩ বার খেলনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন। এছাড়াও তিনি ১৫ বছর যাবৎ ধামইরহাট উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। বিগত সময়ে ২০০৯-২০১৩ পর্যন্ত তিনি সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানও ছিলেন। তার ছোট ভাই আব্দুস ছালাম ধামইরহাট থানাধীন ০৮নং খেলনা ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি এবং ওই ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান। প্রায় শুরু থেকে এখন পর্যন্ত একই পরিবারের আঙ্গিনায় ঘোরপাক খাচ্ছে সভাপতি, চেয়ারম্যান এবং থানা আওয়ামীলীগের নেতৃত্ব। আগামী ইউপি নির্বাচনেও মো: দেলদার হোসেনের পুত্র নাজমুল হোসেন খেলনা ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী বলে জানা গেছে। উপজেলা আওয়ামীলীগ এবং ইউনিয়ন চেয়ারম্যান একই পরিবারের ভালোবাসা ও ক্ষমতার সুতোই গাঁথা।
সাবেক ওই উপজেলা চেয়ারম্যান দেলদার হোসেন নজিপুর পৌরসভার নতুন হাট এলাকায় একটি বড় বাড়ি নির্মাণ করেছেন বলেও জানা গেছে। তাছাড়া ধামরহাট খেলনা ইউনিয়নের নন্দনপুর মৌজায় একই দিনে প্রায় ২৫ বিঘার অধিক জমি তার নিজের নামে, তার স্ত্রী, তার ছেলে-মেয়ের নামে ক্রয় করছেন বলেও একটি সূত্রে জানা গেছে। সেখানে তার পুকুর, বাগান ও আবাদি জমি রয়েছে।
‘ধামরহাটে ২বিঘা জমি থেকে আঙ্গুল ফুলে কলা গাছ দিলদার-সালাম’ শিরোনামের ওই সংবাদে ধামইরহাট থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. দেলদার হোসেনের সম্পদ, বাড়ি গাড়ী ও অর্থের বিষয় নিয়ে বিগত সময়ে ওই সংবাদ প্রকাশ হয়। সেই সংবাদের জের ধরে ধামইরহাট উপজেলার মৃত জাফের উদ্দিনের পুত্র মো. দেলদার হোসেন বাদি হয়ে মান্দা উপজেলার পরানপুর দক্ষিনপাড়ার রিয়াজ উদ্দিনের পুত্র এম এ রাজ্জাক ও ধামইরহাট উপজেলার রসপুর গ্রামের মৃত নমির উদ্দিনের পুত্র তহিদুল ইসলামসহ অজ্ঞাতনামা আসামীদের নামে ধামইরহাট থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ২০১৮ এর ২৫(২)/২৯(১)/৩১(২)/৩৫ ধারায় মামলা করেছেন বলে একটি সূত্রে জানা গেছে।
তাছাড়া সাবেক এই চেয়ারম্যান দেলদার হোসেন ২টি হত্যা মামলার ১নং আসামী বলে বিটিবি নিউজের একটি অনুসন্ধানে জানা গেছে। মামলা দুটির ১টি অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালত, নওগাঁয় বিচারাধীন রয়েছে বলে জানা গেছে। আগামী অনুসন্ধানী রিপোর্টে তার অঢেল সম্পদের আরো বিস্তারিত তথ্যসহ হত্যা মামলার যাবতীয় তথ্য তুলে ধরা হবে ইনশাল্লাহ।
দেলদারের অঢেল সম্পদের মালিকানা, ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলার বিষয় এবং হত্যা মামলা সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অনুসন্ধানে এর প্রকৃত ঘটনা উঠে আসতে পারে বলেও ধারনা করা হচ্ছে। আর প্রকৃত ঘটনা উঠে আসলেই পরবর্তীতে আরো বিস্তারিত সংবাদ প্রকাশ করা সহজতর হবে।
খেলনা ইউনিয়নের মতিবুল ইসলাম বুলু বিটিবি নিউজকে বলেন, খেলনা হাই স্কুলের শিক্ষক থাকা অবস্থায় বাবার সম্পত্তি থেকে প্রায় ২বিঘার উপরে ওই সম্পত্তির অংশ পেয়েছে। ইউনিয়নের চেয়ারম্যান হওয়ার পর থেকে এবং উপজেলা চেয়ারম্যান, উপজেলা আ’লীগের সভাপতি হওয়া অবস্থায় এপর্যন্ত অঢেল সম্পত্তির মালিক। তিনি আরো বলেন, নজিপুরে নতুন হাট মোড় এলাকায় হরিরামপুর মৌজায় একটি বিশাল বাড়ি নির্মাণ করেছেন। সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান দেলদার হোসেন এবং তার ভাই খেলনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি আব্দুস ছালাম এর দাপটে এলাকার মানুষ অতিষ্ঠ। তারা দুই ভাইয়ের একভাই উপজেলা আ’লীগের সভাপতি এবং অপর ভাই ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি হওয়ায় তাদের ক্ষমতার দাপট অনেক বেশি। তাদের তান্ডবে হয়রানি ও নির্যাতনসহ নানা কারণে অনেকেই তাদের সম্পদ ও জবর দলের বিষয়ে মুখ খোলে না। মতিবুল আরো বলেন, দেলদার হোসেন ২টি হত্যা মামলার ১নং আসামী। মামলার বিচার প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মামলা পরিচালনা করতে গিয়ে সন্তান হারানোর শোকে মারা গেছে। নাম প্রকাশে অনিচছুক অনেকেই সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মো. দেলদার হোসেন এবং খেলনা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, ও ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি আব্দু সালামের বিরুদ্ধে নেতিবাচক মন্তব্য করেছেন।
ধামইরহাট থানা আওয়ামীলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মো. দেলদার হোসেনের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগযোগ করা হলে তিনি বিটিবি নিউজকে জানান, পূর্বে সাংবাদিক এম এ রাজ্জাক যে সংবাদ প্রকাশ করেছে তা সম্পূর্ন মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। ১০/১২ বিঘা জমি বাবার সম্পত্তি ভাগ পেয়েছি। এ পর্যন্ত আমার প্রায় ৩২/৩৩ বিঘা জমি রয়েছে। আমি অনেক আগে থেকে জমিগুলো তৎকালীন সময়ে বাজার মূল্যে কম দামে ক্রয় করেছি। হত্যা মামলার আসামীর ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি বলেন, বাস ডাকাতির মামলার গণপিটুনিতে নিহত হয়। সেই মামলায় রাজনৈতিক কারণে শত্রুতামূলকভাবে আমাকে মামলায় জড়িয়েছিল। সেই মামলা থানা থেকে ফাইনাল রিপোর্ট দেয়া হয়েছে বলেও তিনি বিটিবি নিউজকে জানান। তিনি আরো বলেন, আমার ব্যাপারে যে অভিযোগ করা হয়েছে তার অধিকাংশই মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। সমাজে আমার ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। আমার সুনাম ক্ষুন্ন করার জন্য এসব রটানো হচ্ছে।
ধামুইরহাট উপজেলার ০৮নং খেলনা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ও ইউনিয়ন আ’লীগের সভাপতি আব্দুস সালামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বিটিবি নিউজকে জানান, আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ করেছেন তা সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও বানোয়াট।
চলবে .........................................