কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে সফলতার পথেই হাঁটছেন নওগাঁ জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ বিভাগ

কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে সফলতার পথেই হাঁটছেন নওগাঁ জেলা প্রশাসন ও জেলা পুলিশ বিভাগ

মো: আব্দুল বারি খান, সম্পাদক ও প্রকাশক: বিশ্বজুড়ে করোনাভাইরাস বিশ্বব্যাপী আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে। ক্রমশই বাড়ছে সংক্রমনের সংখ্যা এবং মৃত লাশের লাইন। গোটা বিশ্বজুড়ে আতঙ্ক গ্রাস করেছে সাধারণ মানুষকে। তবে বিজ্ঞানীরা সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন। তারা বলছেন, কিছু নিয়ম মেনে চললেই এই ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। সারা বিশ্বের সাথে পাল্লা দিয়ে মহামারি করোনা থেকে রক্ষা পেতে বাংলাদেশ সরকারের নিদের্শনায় সরকার ঘোষিত ৭ দিনের কঠোর বিধিনিষেধ বাস্তবায়নে এবং মানুষের জীবন বাঁচানো সহায়তায় করোনা নিয়ন্ত্রণে সফলতার পথেই হাঁটছেন নওগঁ জেলা প্রশাসন ও ‍পুলিশ প্রশাসন। 
বিটিবি নিউজের অনুসন্ধানের আয়নায় জানা গেছে, সারাদেশে সরকার ঘোষিত এক সপ্তাহের লকডাউন কঠোর ভাবে বাস্তবায়নে নওগাঁয় মাঠে নেমেছে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ, সেনাবাহিনী, র‌্যাব ও বিজিবি। এই লকডাউন বাস্তবায়নে নওগাঁয় ১১টি উপজেলায় সেনাবাহিনীর ৫টি, বিজিবির ৮টি টিম মোতায়েন আছে। এছাড়া জেলা প্রশাসনের ৩৪টি নির্বাহী ম্যাজিষ্টেটের ভ্রাম্যমাণ আদালত এবং গুরুত্বপূর্ন মোড়ে মোড়ে পুলিশের চেকপোস্ট বসানো হয়েছে।
নওগাঁয় জেলা-উপজেলা প্রশাসন এবং জেলা পুলিশ বিভাগের তত্ত্বাবধানে স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, প্রজাতন্ত্রের কর্মচারী, শিক্ষক, রোভার স্কাউটসসহ আগ্রহীদের সমন্বয়ে বিভিন্ন ওয়ার্ড-মহল্লায় গঠিত স্বেচ্ছাসেবক টিম মানুষের জীবন বাঁচানো সহায়তায় করোনা নিয়ন্ত্রণে একযোগে কাজ করছেন। অন্যদিকে সেনাবাহিনী, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর সদস্যরা জেলা ও উপজেলা প্রশাসনকে সহায়তা করতে মাঠে কাজ করছেন। আবার রোগীদের সেবায় নওগাঁর সকল হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স ও ল্যাবরেটরি টেকনোলজিস্টসহ সংশ্লিষ্ট সকলেই যারা জীবনের মায়া তুচ্ছ করে রাতদিন পরিশ্রম করছেন। নওগাঁ চেম্বার অফ কমার্স এ্যান্ড ইন্ডাষ্ট্রি’র নেতারাসহ ব্যবসায়ী সংগঠনগুলো ও সামাজিক সংগঠনগুলোও সহযোগীতার হাত বাড়িয়েছেন।
কঠোর লকডাউন বাস্তবায়নে শুরুর দিন থেকেই নওগাঁয় ১১টি উপজেলায় পুলিশ বিভাগ, সেনাবাহিনী, বিজিবি, জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করছেন। জেলা শহরের প্রধান প্রধান সড়কের গুরুত্বপূর্ণ মোড়সহ উপজেলাগুলোর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে কড়া পুলিশী পাহারা রয়েছে। এ ছাড়াও প্রকৃতির বৈরি আবহাওয়া উপেক্ষা করে জেলা প্রশাসন ও পুলিশ প্রশাসনের কঠোর নজদারিতে জেলা শহরসহ সকল উপজেলাসদর এবং উপজেলার বিভিন্ন মোড় ও জনগুরুত্বপূর্ণস্থানে জেলা-উপজেলা প্রশাসন, সেনাবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ সদস্যদের টহল জোরদার করা হয়েছে।
দুই একটি রিকশা-ভ্যান, জরুরি পরিসেবার যানবাহন ছাড়া বন্ধ রয়েছে সকল ধরনের ইঞ্জিনচালিত যানবাহন। এছাড়াও যারা অযথা রাস্তাঘাটে চলাচল করছেন তাদেরকে পুলিশী, সেনাবাহিনীর জেরার মুখে পড়তে হচ্ছে হরহামেশে। বন্ধ আছে সকল ধরনের দোকানপাট, শপিংমল ও বিপনী বিতানগুলো।
কঠোর লকডাউন উপেক্ষা করে যারা জেলা সদরসহ সকল উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে,  বিভিন্ন মোড়ের চায়ের দোকানের বেঞ্চে আড্ডা দিচ্ছেন কিংবা অকারণে ঘুরতে বের হচ্ছেন। এর জন্য অনেককেই এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটগণের পরিচালিত মোবাইল কোর্টে জরিমানাও গুণতে হচ্ছে।
বিটিবি নিউজের অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, এবারের লকডাউনে নওগাঁ জেলা-উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ প্রশাসন, তথ্য অফিস, সেনাবাহিনী, র‌্যাব সর্বস্তরে জনসচেতনতামূলক নানা নিয়মকানুনসহ যেভাবে সচেতন করা হচ্ছে সেটি একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করছে। আবার এসকল কার্যক্রমসহ নানা ধরনের কার্যক্রম পর্যবেক্ষণ করে জনস্বার্থে সরকারকে তাৎক্ষণিক অবগত করছেন সরকারের গোয়েন্দা বাহিনী ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিএসবিসহ বিভিন্ন সংস্থা ও দপ্তর। 
জেলা প্রশাসক মো. হারুন-অর-রশীদ এবং পুলিশ সুপার প্রকৌশলী মো. আবদুল মান্নান মিয়ার তত্ত্বাবধানে ও নেতৃত্বে সাজানো টিম যেভাবে কাজ করছেন তাতে করে জেলা-উপজেলা প্রশাসন  ও পুলিশ বিভাগ অনেক প্রশংসাও কুড়াচ্ছেন সাধারনের কাছে। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, বিজিবি ও আনসার বাহিনীর সদস্যরাসহ সংশ্লিষ্টরা বৃষ্টিতে ভিজে ও প্রকৃতির বৈরি আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে দায়িত্ব পালন করায় তারা প্রশংসিতও হচ্ছেন অনেকের কাছে।
জেলা শহরের মানুষগুলো শুরুর দিকে আতংকিত থেকে সরকারের নিদের্শনা মানার চেষ্টা করলেও  গ্রামগুলোতে এর প্রভাব পড়েনি। সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো গলাফাটিয়ে সচেতন করাসহ নানা নির্দেশনার কথা বললেও অনেকের কানেই ঢোকেনি করোনা থেকে বাঁচার জন্য সরকারের এ সকল নির্দেশনাগুলো। এতো বুঝানোর পরও  শহর ও গ্রামের রাস্তায় হাজারো মানুষ চলাচল করছে ও ছোট খাটো যানবাহনগুলো দেদারছে চালাছিল। বুঝানোই যাচ্ছিলনা কাগজে কলমে পড়া লেখা করা মানুষগুলোসহ গ্রামের সহজ সরল মানুষগুলোকে। সরকার তথা প্রশাসনের নির্দেশনাকে তোয়াক্কা না করে বেপরোয়াভাবে চলাফেলা করার কারণে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। 
সরকারের কঠোর লকডাউনে জেলা-উপজেলা প্রশাসন, পুলিশ বিভাগ, সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্টদের কঠোর ভূমিকা এবং গ্রামে-গঞ্জে দ্রুত করোনার তান্ডব বেড়ে যাওয়ার কারণে মানুষের হুশ ফিরতে শুরু করেছে।
করোনা পরিস্থিতিতে বিপদে পড়েছেন নিম্ন আয়ের দিনমজুর শ্রমজীবী মানুষরা। করোনা ভাইরাসের কারণে কর্মহীন হয়ে পড়া অসহায়, দরিদ্র, খেটে খাওয়া মানুষের পাশে রয়েছে সরকারসহ বৃত্তবান ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। সরকার আপনার ও আপনার পরিবারের জীবন নিরাপদ রাখতে সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক  সংশ্লিষ্টদের মাধ্যমে আপনার বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছে দিচ্ছে। এব্যাপারে সরকার অনেক দায়িত্বশীল। প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রসহ রাষ্ট্রের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলো আপনার জীবন বাঁচানোর জন্য অছিলা হিসেবে কতই না আকুতি মিনতি করছেন। এখনও সময় আছে জীবন বাঁচাতে আপনিও জেগে উঠুন। আপনার জীবনের স্বার্থে, দেশের স্বার্থে সরকারি নির্দেশনা মেনে আপনিও জেগে উঠুন। সকলকে সহায়তা করুন, সতর্ক করুন এবং নিজে সতর্ক থাকুন।
এই সংকটময় অবস্থায় এখন নিজে নিজেকে সাহায্য করাটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আপনি, আমি বা আমাদের পাশের ব্যক্তিটি কেউই আসলে আমরা নিরাপদ নই, তাই সকলের সাথে নিরাপদ দূরত্ব বজায় রাখার পাশাপাশি সমস্যা মোকাবিলাকে ভয় না পেয়ে সাহস ও ধৈর্য্যের সাথে পরিস্থিতির মোকাবিলা করা এবং গুজব, অবৈজ্ঞানিক বা যথোপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া, মিডিয়া-সোশ্যাল মিডিয়ার বানোয়াট নানা খবর বা ভিডিও দেখে আতঙ্কিত না হয়ে আসুন অন্যকে সহযোগিতা করার পাশাপাশি নিজে নিজেকে সহযোগিতা করি। কোভিড-১৯ এর প্রভাবে বিশ্ব পরিস্থিতি সম্পর্কে আমরা সবাই এখন অবগত এবং বাংলাদেশের পরিস্থিতিও বেশ ঝুঁকির মুখে। 
মনোবল শক্ত রাখুন। এটা একটা যুদ্ধ। ভয়ানক একটা ছোঁয়াচে ভাইরাসের বিরুদ্ধে আমাদের অঘোষিত যুদ্ধ। আমাদের যুদ্ধ কৌশল হলো আমরা এ ভাইরাসকে আমাদের শরীর স্পর্শ করতে দিবনা। তার জন্য যত ধরণের নিয়ম আছে তা পালন করে যাব। সাময়িক কষ্ট হলেও তা করব। মনে রাখবেন, অগ্নিকান্ডে শেষ সম্বলটুকু ভস্মীভূত হওয়ার পরও একজন মানুষ আবার ঘুরে দাঁড়ায়। সুতরাং মনোবল হারানো যাবেনা। করোনা পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ, জেলা-উপজেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশ বিভাগ, সেনাবাহিনী, র‌্যাব এবং জনপ্রতিনিধিগণ-সামাজিক সংগঠনগুলো নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। সেই সাথে সরকারের গোয়েন্দা বিভাগ ডিজিএফআই, এনএসআই, ডিএসবিসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থা নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে। তাদেরকে সহযোগিতা করুন। পরিচ্ছন্নতার নিয়মকানুন মেনে চলুন। অপ্রয়োজনে বাইরে ঘোরাঘুরি করবেন না। মনোবল শক্ত ও মনে সাহস রাখুন আলো আসবেই। অন্ধকার দূরীভূত হয়ে আলো আসবেই।