সুদিন ফিরছে খুলনার চিংড়ি শিল্পে

সুদিন ফিরছে খুলনার চিংড়ি শিল্পে

নিউজ ডেস্ক: এপ্রিল ও মে মাসের তুলনায় জুন মাসে খুলনা থেকে প্রায় দ্বিগুণ চিংড়ি রপ্তানি হয়েছে। মোংলা বন্দর দিয়ে গত এপ্রিল মাসে ১২৫ কনটেইনার ও মে মাসে ১৫০ কনটেইনার হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি হয়। জুন মাসে সেই পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩০ কনটেইনারে।  

করোনাভাইরাস মহামারির কারণে গত বছর থেকেই খুলনার হিমায়িত চিংড়ি শিল্পে ধস নামে। একের পর এক দেশ এলসি বন্ধ করে দেয়ায় সংকটে পড়ে এ শিল্পে জড়িতরা।

চলতি বছরের মাঝামাঝিতে এসে আবারও সুদিন ফিরতে শুরু করেছে চিংড়ি শিল্পে। জুন মাসে খুলনা থেকে প্রায় আড়াই শ কোটি টাকার চিংড়ি রপ্তানি হয়েছে।

এ ছাড়া সৌদি ও দুবাইতে সৃষ্টি হয়েছে নতুন বাজার। এতে স্থানীয় পর্যায়ে ২৪টি হিমায়িত চিংড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানে আবারও বেড়েছে কর্মব্যস্ততা।

খুলনা ফ্রজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন থেকে জানা যায়, করোনার কারণে গত বছরের মার্চের শুরুতেই খুলনার স্থানীয় হিমায়িত খাদ্য প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো সংকটে পড়েন। করোনা শুরুর পর জার্মানি, জাপান, বেলজিয়াম ও পর্তুগাল এলসি বাতিল করতে শুরু করে।

সিঙ্গাপুর সমুদ্র বন্দরে ওই সময় চিংড়িবোঝাই কনটেইনারের জট পড়ে। এলসি বাতিলের কারণে মার্চ থেকে আগস্ট পর্যন্ত বাগদা চিংড়ি প্রকারভেদে কেজিপ্রতি ৮০০ টাকার জায়গায় ৫০০ টাকায় বিক্রি হয়।

এরপরও হিমায়িত চিংড়ির এসব প্রতিষ্ঠানের কর্ণধাররা ডিপো মালিকদের টাকা বকেয়া রাখেন। এ কারণে অনেক ডিপো মালিক প্রান্তিক চিংড়ি চাষিদের টাকা দিতে পারেননি।

সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলো কয়েক দফা এলসি বাতিল করলেও ফের তারা চিংড়ি আমদানি শুরু করেছে।

এপ্রিল ও মে মাসের তুলনায় জুন মাসে খুলনা থেকে প্রায় দ্বিগুণ চিংড়ি রপ্তানি হয়েছে। মোংলা বন্দর দিয়ে গত এপ্রিল মাসে ১২৫ কনটেইনার ও মে মাসে ১৫০ কনটেইনার হিমায়িত চিংড়ি রপ্তানি হয়। জুন মাসে সেই পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ২৩০ কনটেইনারে।

খুলনা ফ্রজেন ফুডস এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের সহসভাপতি হুমায়ুন কবীর জানান, চিংড়ি রপ্তানি বাজারের মন্দাভাব কেটে যাচ্ছে। জাপান, ইংল্যান্ড, স্পেন, বেলজিয়াম, রাশিয়া, পর্তুগাল, সুইজারল্যান্ডে চিংড়ি রপ্তানি শুরু হয়েছে। স্থানীয় রপ্তানিকারকরাও ক্ষতি পুষিয়ে নিতে শুরু করেছে।