যোগ্যরা কোণঠাসা-পর্ব ১

আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আ’লীগের ঘরে কারা জ্বালাবে বিজয়ের বাতি!

আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আ’লীগের ঘরে কারা জ্বালাবে বিজয়ের বাতি!

মো. আব্দুল বারি খান, সম্পাদক ও প্রকাশক: নওগাঁর মান্দায় ইউপি-নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আ’লীগসহ বিএনপি, জামায়াতের  প্রার্থীরা দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছে। তারা যেভাবে পারছে সেভাবে নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরছে কাঙ্গিত জনের নিকট। বিভিন্ন সংস্থার জরিপেও রয়েছে তাদের নানা ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিক নিয়ে চুলচেড়া বিশ্লেষন। ইতিমধ্যে মান্দা উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে আ’লীগের দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। আ’লীগ থেকে যারা দলীয়ভাবে নৌকা প্রতীক পেয়ে দৌঁড়ঝাপ করছে তারা হলেন, কাঁশোপাড়া ইউনিয়ন আ.লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল খালেক, উপজেলার ভারশোঁ ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান সুমন, ভালাইন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান ইব্রাহীম আলী বাবু, পরানপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজুর রহমান উজ্জল, গনেশপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বর্তমান চেয়ারম্যান হানিফ উদ্দিন মন্ডল, মান্দা সদর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান তোফাজ্জল হোসেন তোফা, মৈনম ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক সামন্ত কুমার সরকার, প্রসাদপুর ইউনিয়ন আ.লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু বক্কর সিদ্দিক, কুসুম্বা ইউনিয়ন আ.লীগের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন, তেঁতুলিয়া ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি গাজীবুর রহমান, নুরুল্লাবাদ ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি স্বাধীন কৃষ্ণ রায়, কালিকাপুর ইউনিয়নের বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল আলিম, কসব ইউনিয়ন আ.লীগের সভাপতি ফজলুর রহমান ও বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের বতর্মান চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর আলম।
জনপ্রিয়তার দিক থেকে অনেকেই যারা ৩য়, ৪র্থ কিংবা অন্য কোনো সারিতে রয়েছে তাদের মধ্যেও কেউ কেউ নৌকার মনোনয়ন পেয়েছে বলে অনেকের ধারনা। আর যারা ১ম কিংবা ২য় সারিতে রয়েছে তাদের মধ্যেও দু’একজন নৌকার মনোনয়ন পেলেও অনেকেই বঞ্চিত হয়েছে বলেও ক্ষোভে আছে নানা জরিপে এগিয়ে থাকা জনপ্রিয় স্থানীয় নেতারা। এর মধ্যে কেউ কেউ আবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। মাদকসেবীরা ও চোর নৌকার প্রতীক পেয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। চায়ের আড্ডা থেকে রাজপথ, সর্বত্র চলছে নৌকার মনোনীত প্রার্থী এবং বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী আলাপ-আলোচনা। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আ’লীগের ঘরে কারা জ্বালাবে বিজয়ের বাতি! এ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। নানা কারণে বিএনপি-জামায়াতও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। বিএনপির মধ্যেও কোনো কোনো ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী রয়েছে। নৌকা প্রতীকে কতজন? বিদ্রোহী কতজন? বিএনপি-জামায়াতের কতজন?-বিজয় উৎসব করবে। এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে রাজনৈতিকসহ সর্ব মহলে। আ’লীগসহ স্বতন্ত্র এবং বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা নিজেরা নিজের মাঠ গোছাতে এবং নেতাকর্মীসহ সাধারণের দৃষ্টি আকর্ষন করতে মাঠে-ময়দানে চষে বেড়াচ্ছে বলে বিটিবি নিউজের একটি অনুসন্ধানের আয়নায় উঠে এসেছে।
অর্থ খরচের বিনিময়ে কেউ কেউ নৌকার মাঝি হওয়ার স্বপ্নতে গা ভাসিয়ে দিয়েছেন বলে প্রতিপক্ষরা সন্দেহ/অভিযোগের তীর ছুঁড়ছে অসৎদের দিকে। নানা কারণে হিসেবে অংকটা এবার নাও মিলতে পারে।
অনেক ইউনিয়নে জনপ্রিয় এবং ত্যাগীরা নৌকা প্রতীক না পাওয়ায়, এক সময় বাম দল করা পরিবারের ব্যক্তি নৌকার প্রতীক পাওয়ায় এবং প্রার্থীর মূল্যায়ন না হওয়ায় এই মুহুর্তে স্বতন্ত্র প্রার্থীর পাল্লা ভারি হচ্ছে। দলীয় চাপে পরবর্তীতে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা আবার দলে ফিরেও আসতে পারে। নানা কারণে প্রার্থী নির্বাচনে মান্দার ১৪টি ইউনিয়নেই আওয়ামী লীগের নৌকা প্রার্থী এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর মধ্যে অন্তর্দ্বন্দ্ব বেড়ে গেছে। প্রত্যেক প্রার্থী তার দলের মধ্যে নিজস্ব লোকবল তৈরিতে নানাভাবে বিভক্ত তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। অর্থ, প্রেম, ভালোবাসাসহ বিভিন্ন কায়দায় কর্মী ছিনতাইয়ের প্রতিযোগীতা চলছে নিজ নিজ নির্বাচনী বলয়ের মধ্যে।
এবারের ইউনিয়ন নির্বাচন নিরপেক্ষ এবং আওয়ামীলীগের নীতি নির্ধারকদের কারণে প্রার্থী নির্বাচনে যদি ত্রুটি থাকে তাহলে ২-৩টি ইউনিয়ন এবং বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আরো ৩/৪ ইউনিয়ন ছাড়া বাকী সবকয়টি ইউনিয়ন বিএনপি-জামায়াত মনোনিতদের দখলে যেতে পারে বলে সমাজ সচেতন মনা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারনা। পরবর্তী কোনো পর্বে কোন দলের প্রার্থী কতজন চেয়ারম্যান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য-চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে ইনশাল্লাহ। সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যক্তি স্বার্থকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের রাজনীতির মোড়ে মোড়ে ব্যক্তি প্রতিযোগিতা বাড়ছে এবং জ্বলে-পুরে ছারখার হচ্ছে ও বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে আছে আওয়ামীলীগ মনা মানুষদের মন।
বিটিবি নিউজের অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, মান্দায় অধিকাংশ  ইউনিয়ন আ’লীগের কাউন্সিলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনে স্বজনপ্রীতি ও দায়িত্বশীলদের নানা একগুয়েমির কারণে অযোগ্যদের স্থান হয়েছে বলে সে সময় গুঞ্জন উঠেছিল। নানা কারণ অধিকাংশ ইউনিয়ন কমিটিতে ত্যাগীদের স্থান হয়নি বলেও সন্দেহের তীর রয়েছে ভূক্তভোগীদের মাঝে। তখন থেকেই ইউনিয়ন আ’লীগের রাজনীতির মোড়ে মোড়ে চলছে নানা গুঞ্জন। যোগ্য ও ত্যাগীদের মূল্যায়ন করা হয়নি বলেও গুঞ্জন আছে। যোগ্য, ত্যাগীরা মুখ ফিরিয়ে নিলে এবারের ইউপি নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। ভুক্তভোগীরা বলছে, অধিকাংশ ইউনিয়ন কাউন্সিলে যোগ্যদের স্থান না হওয়ায় তৃণমূল ইউনিয়ন আ’লীগ ভেঙ্গে চুরমার হয়ে গেছে বলেও একটি অনুসন্ধানে জানা গেছে। মান্দা উপজেলা আ’লীগের অভিভাবক, বর্ষীয়ান, প্রবীন, ত্যাগী, কর্মঠ এবং সকল শ্রেণি পেশার জনপ্রিয় নেতা মুহা: ইমাজ উদ্দিন প্রামানিকের উপজেলা আ’লীগের সাজানো-গোছানো সংসারের কিছুটা ক্ষতি হয়েছে বলেও একটি সূত্রে জানা গেছে। সরকারের ভাবমুর্তি এবং দলীয় চেইন অব কমান্ড নিরবে ভেঙ্গে পরার পথে। বিভিন্ন গ্রুপিং এর নেতাদের ইতিবাচক ও নেতিবাচক ভূমিকা নিয়ে জনমনে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে নেতাকর্মীসহ জনসাধারনের সাথে প্রতিনিয়ত সম্পর্কের দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে।
জানা গেছে, বিভিন্ন ইউনিয়নের অধিকাংশ মেম্বার প্রার্থী  আ’লীগ মনা হওয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভোট করা কঠিন হয়ে পড়বে। মেম্বার প্রার্থীরা নিজেদের আখের গোছাতে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যাপারে তারা তেমন সাড়া দেবে না। আবার বিদ্রোহী প্রার্থীরা তো আছেই। দাপট ও টাকাওয়ালারা ইউনিয়ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের টাকা পয়সা খরচ করতে প্রতিযোগিতায় নামার চেষ্টা করছে বলেও একটি সূত্রে জানা গেছে।
অন্যদিকে মান্দা উপজেলা আ’লীগের নতুন কমিটি জনপ্রিয়তার কাতারে থাকলেও নানা কারণে সফলতার সিঁড়িতে উঠতে হাড়ে হাড়ে টের পাচ্ছে। ক্ষমতাসীন আ’লীগ দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকার পরও মান্দা উপজেলা আ’লীগ দৃষ্টিনন্দন নিজস্ব ভবণ নির্মান করতে পরেনি। উপজেলা আ’লীগের পার্টি অফিসের চেহারা ভালো করতে না পারলেও ওই অফিসের চেয়ার টেবিল ব্যবহার করে অনেকেই অঢেল সম্পদের মালিকসহ দুনিয়ার বেহেস্তখানা বানিয়েছে। আবার নতুন কমিটির কেউ কেউ উপজেলা আ’লীগের পার্টি অফিস নির্মাণের স্বপ্ন নিয়ে সামনে এগুতে চাইলেও প্রতিহিংসার আগুনে পড়ে তাদের নানাভাবে খেসারত দিতে হচ্ছে। অনেকেই সরকারি জাগয়া জমি দখল করে বাসাবাড়িসহ অফিস, দোকান পার্ট নির্মাণ করলেও উপজেলা আ’লীগের একটি নিজস্ব ভবন নির্মাণে আজ পর্যন্ত কাউকে এগিয়ে আসতে দেখা যায়নি। তবে আ’লীগের নতুন কমিটির নির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক স্থানীয় এমপি মহোদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা ও পরামর্শ সাপেক্ষে ইতিমধ্যে ওই পার্টি অফিসের চেহারার অনেক নতুনত্ব এনেছে। সবাই নিজের আখের গোছাতে ব্যস্ত সময় পার করছে। এতে করে উপজেলা আ’লীগের রাজনীতির মোড়ে মোড়ে নানা গুঞ্জন এবং ত্যাগীদের হৃদয় জ্বলে পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে। 
যদি স্বজনপ্রীতি কিংবা অর্থের বিনিময়ে নৌকার প্রার্থী নির্বাচন এবং বিএনপি ও বাম দল মনারা ঠাঁই পেয়ে থাকলে নৌকার ভরাডুবি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং জনগণ যদি শান্তিপূর্ণ ও স্বতস্ফুর্তভাবে ভোট কেন্দ্র গিয়ে ভোট দিতে পারে সেই ক্ষেত্রে হিসেবের খাতায় আ’লীগের চেয়ারম্যানের লাইনের সংখ্যা কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।  
বিগত পৌর নির্বাচন থেকে সরকার দলীয় নেতাদের কিছুটা শিক্ষা নেয়া দরকার ছিল বলেও মনে হচ্ছিল পরাজয়ের পরবর্তী বিশ্লেষনে। নানা ভুলের কারণে নওগাঁ পৌরসভায় নৌকার প্রার্থীকে পরাজয় বরণ করতে হয়েছে। কোনো কোনো নেতাকর্মীরা দলীয় কার্যক্রমকে গতিশীল, সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ডের চিত্র ঘরে ঘরে পৌঁছানো ও বেগবানের হিসেবের অংকটা মেলাচ্ছেনা। সেই অংকটা না মিলিয়ে কেউ কেউ ব্যক্তি স্বার্থকে হাছিলের উদ্দেশ্যে ওই পথেই হয়তোবা ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের ডামাডোল বাজাচ্ছে বলেও মনে হচ্ছে। যার প্রভার আগামী জাতীয় নির্বাচনেও পড়তে পারে। মান্দাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও যদি প্রার্থী নির্বাচনে অনুরূপ মনে হয় তাহলে সেগুলোতেও একই অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও একটি সূত্রে জানা গেছে।
বিটিবি নিউজের অনুসন্ধানের আয়নায় আরো জানা গেছে, উপজেলায় আস্তে আস্তে রক্তের বন্ধনে একই আত্নীয়তার আঙ্গিনায় নেতা তৈরি হচ্ছে। পরীক্ষিতরা বঞ্চিত হওয়ার গুঞ্জনও রয়েছে। আবার অনেক পরীক্ষিতরাও দলকে শক্ত অবস্থানে ধরে রেখেছেন। নানা কারণে অযোগ্যরাই এখন যোগ্যদের কাতারে দাঁড়ানোর চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে। সৎ, সাহসী ও ত্যাগী কর্মীরা কোনো কোনো নেতাদের কাছে টিসু পেপারের মতো ব্যবহার হচ্ছে। নানা কারণে নেতাকর্মীদের দূরত্ব বাড়ছে। মানুষের সাথে মানুষের দূরত্ব বাড়ছে। নানা কারণে ভালো মানুষগুলো ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা নিরব হয়ে যাচ্ছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস হারাচ্ছে। রাজনীতি এখন ব্যক্তিগত প্রচারের আঙ্গিনায় সীমাবদ্ধ বলে মনে হচ্ছে। সত্য-মিথ্যার লড়াই বাড়ছে। হারিয়ে যাচ্ছে গভীর প্রেম ও বিশ্বাস। কথায় তেল ও রঙ লাগিয়ে চলছে ভালো মন্দের প্রতিযোগিতা।  ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দরজায় কড়া নাড়ছে প্রার্থীরা। প্রার্থীরা ভোটারদের হরেক রকমের আশার বাণী শোনাচ্ছে। প্রার্থীদের চোখে ঘুম নেই। ভোটারদের কদর বাড়ছে। বদলে যাচ্ছে মানুষ। অনেক রাজনীতিবিদ কর্মীদের মিথ্যা আশ্বাসের বাণীও শোনাচ্ছে। ত্যাগী ও মেধাবীদের এগিয়ে আসতে হবে। স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সোনার মানুষদের দরকার। 
উপজেলা আ’লীগকে বাঁচাতে এবং দলের মান রক্ষা করতে হলে সকলকে ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তবে বর্তমান কমিটির সভাপতি মো. নাজিমুদ্দিন মন্ডল এবং সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মো. নাহিদ মোরর্শেদ বাবুর নেতৃত্বে ত্যাগী ও পরিশ্রমী সঙ্গীয়দের নিয়ে নৌকা বিজয়ের জন্য নিবেদিত প্রাণ হয়ে দিন রাত কাজ করে যাচ্ছে বলেও একটি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে। দলের স্বার্থে প্রয়োজনে দলীয় প্রার্থী পূণমূল্যায়নে কর্তৃপক্ষের তীক্ষ্ণদৃষ্টি দেয়া অতীব জরুরী। আসন্ন ইউনিয়ন নির্বাচনে ভাল ফলাফলের জন্য সাধারন জনগণকে দলের দিকে আকৃষ্ট করতে হবে। দলের বঞ্চিত, ত্যাগী নেতাকর্মীদের সুধরিয়ে, মান-অভিমান ভুলিয়ে তাদের বুকে টেনে নিতে হবে। স্থানীয়দের সাথে নিয়ে এক যোগে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তাছাড়া সরকারের নানা উন্নয়নের চিত্র স্থানীয়দের ঘরে ঘরে পৌঁছানোসহ জনমন্মুখে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে তা তুলে ধরতে হবে। সেই সাথে নির্বাচনী প্রচার চালাতে হবে। তবেই না নৌকা প্রতীকের বিজয়ের মালা লম্বা হবে।
আবার সরকারের ভাবমুর্তি  উজ্জ্বল করতে এবং জনস্বার্থে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ব্যাপক ভূমিকা নিতে হবে। তিনি প্রায় সময়ই ঢাকায় অবস্থান করলেও মান্দার অধিকাংশ মানুষের হৃদয়ের আঙ্গিনায় থাকেন তিনি। তিনি উপজেলা আ’লীগের বাগান সাজিয়েছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ফল ভোগ করছেন। সেই কারণে আজ পর্যন্ত তাঁর দিক নির্দেশনা ও পরামর্শকে কেউ এড়িয়ে যায়নি। আর এড়িয়ে যাওয়ার সাহসও পায়নি। কেউ যদি এমনটি করেও থাকে তাহলে সে তার যাতনা হাড়ে হাড়ে টের পান। নানা কারণে তাঁর অভিভাবকত্বের চাদরের মধ্যে মোড়ানো থাকে দলমত নির্বিশেষে অনেকেই। সকলের নিকট তাঁর গ্রহণযোগতা রয়েছে। নাটাই তাঁর হাতেই রয়েছে। সামনে তাঁর স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক সিদ্ধান্তের আঙ্গিনায় সবাই ঐক্যবদ্ধ। তাঁর বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা,  গ্রহণযোগ্য দিক নিদের্শনা ও সু-পরামর্শেই আবারও মান্দার ২/৩টি ইউনিয়ন বাদে সকল ইউনিয়নে নৌকার বিজয়ের বাতি জ্বলতে পারে বলেও দলের অনেকের ধারণা। সেই সাথে বঞ্চিতদের দলীয়ভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। নেতাকর্মীদেরকে কথাবার্তা ও আচরণে আরো ত্যাগী এবং বিনয়ী হতে হবে। নেতাকর্মীসহ জনসাধারনের সাথে প্রতিনিয়ত সম্পর্কের দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। দলের স্বার্থে সকলের মাঝে সম্পর্কের উন্নতি করতে হবে। সরকারের ভাবমুর্তি এবং দলীয় চেইন অব কমান্ড ফিরে আনতে হবে। ইতি মধ্যে গ্রামে-গঞ্জে ডিজিটালের ছোঁয়া পৌঁছে গেছে। সরকারের নানা ভাল কাজের লম্বা লাইনের সেবা নিশ্চিত করনের পাশাপাশি দুখী মানুষের বর্ণমালায় সবাইকে সাথে নিয়ে একযোগে সেবার হাত বাড়িয়ে দিতে হবে।
সমাজ তথা রাষ্ট্র উন্নয়ন এবং দলের মান রক্ষা করতে অসৎ ও লোভী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে এখন-ই রুখে দাঁড়াতে হবে। অন্যথায় নিভে ও ধুলিষ্যাৎ হয়ে যাবে আগামী প্রজন্মের আশা আখাংকা। সকলের হৃদয়ের আঙ্গিনায় জমে রাখা ভালোবাসায় গড়ে উঠুক প্রিয় বাংলাদেশ। 
চলবে...............................................................