৮০০ কোটি টাকায় ১১ জেলায় ‘শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং সেন্টার’ হচ্ছে

৮০০ কোটি টাকায় ১১ জেলায় ‘শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং সেন্টার’ হচ্ছে

প্রায় ৮০০ কোটি টাকা ব্যয়ে দেশের ১১টি জেলায় ‘শেখ কামাল আইটি টেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার’ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। এই প্রকল্পটি বাস্তবায়নের কাজ পেতে যাচ্ছে বাংলাদেশ ডিজেল প্ল্যান্ট লিমিটেড। এটি পরিচালনার দায়িত্বে রয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে জনস্বার্থে কাজটি এই প্রতিষ্ঠানকে দেয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির অনুমোদনের জন্য আজ কমিটির সভায় এই প্রস্তাবটি উপস্থাপন করা হতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র জানায়, বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন ‘শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন (১১টি)’ শীর্ষক বিনিয়োগ প্রকল্প দলিলে ১১টি আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার নির্মাণের লক্ষ্যে পণ্যেয় আটটি ও পূর্ত কাজের ৫৪টি প্যাকেজের কাজ সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি (ডিপিএম) অনুসরণে ক্রয় প্রক্রিয়াকরণের প্রস্তাব রয়েছে।
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৫ সালের ১৫ মার্চ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ পরিদর্শনকালে দেশের প্রতিটি জেলায় হাইটেক পার্ক নির্মাণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। এরই ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষ ‘শেখ কামাল আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার স্থাপন (১১টি)’ শীর্ষক বিনিয়োগ প্রকল্প গ্রহণ করে।
প্রকল্পটি গত ২০২০ সালের ২৫ আগস্ট তারিখে একনেক সভায় অনুমোদিত হয় যার মোট প্রাক্কলিত ব্যয় ৭৯৮ কোটি ৯১ লাখ ৪৭ হাজার টাকা। সম্পূর্ণ সরকারি অর্থায়নে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পের অনুমোদিত মেয়াদ ২০২০ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত। প্রকল্প এলাকাগুলোর ১১টি জেলার মধ্যে রয়েছে, কিশোরগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, মানিকগঞ্জ, সিরাজগঞ্জ, মেহেরপুর, চাঁদপুর, জয়পুরহাট, বান্দরবান, ভোলা ও কুষ্টিয়া।
সূত্র জানায়, অনুমোদিত প্রকল্প দলিলে ১১টি আইটি ট্রেনিং ও ইনকিউবেশন সেন্টার নির্মাণের লক্ষ্যে পণ্যের আটটি ও পূর্ত কাজের ৫৪টি প্যাকেজের কাজ ক্রয়ের পরিকল্পনায় ওটিএম/ডিপিএম (ডিরেক্টর প্রকিউরমেন্ট মেথড) পদ্ধতিতে বাস্তায়নের উল্লেখ রয়েছে। যার মোট অনুমোদিত প্রক্কলিত ব্যয় ৭০১ কোটি টাকা।
এই বিষয়ে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ থেকে বলা হয়েছে, ডিপিএম পদ্ধতির মাধ্যমে তুলনামূলক কম সময়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বিবেচনায় বাংলাদেশ ডিজেল প্ল্যান্ট লিমিটেড সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে প্রকল্পটি বাস্তবায়নের আগ্রহ প্রকাশ করেছে। এ বিষয়ে সশস্ত্রবাহিনীর নীতিগত অনুমোদনও রয়েছে।
সূত্র জানায়, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন, ২০০-এর ধারা ৬৮(১) অনুযায়ী সরকার, রাষ্ট্রীয় জরুরি প্রয়োজনে বা জনস্বার্থে সরকার কর্তৃক গঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সুপারিশক্রমে, ধারা ৩২-এ বর্ণিত সরাসরি ক্রয় পদ্ধতি বা অন্য কোনো ক্রয় পদ্ধতি অনুসরণ করে ক্রয়কাজ সম্পন্ন করতে পারে। এ পরিপ্রেক্ষিতে, জনস্বার্থে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতির মাধ্যমে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পরিচালিত বাংলাদেশ ডিজেল প্ল্যান্ট লিমিটেড কর্তৃক বাস্তবায়ন বিবেচনা সমীচীন হবে বলে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগ মনে করে।