যোগ্যরা কোণঠাসা-পর্ব ০২

আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আ’লীগের ঘরে কারা জ্বালাবে বিজয়ের বাতি!

আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আ’লীগের ঘরে কারা জ্বালাবে বিজয়ের বাতি!

মো. আব্দুল বারি খান, সম্পাদক ও প্রকাশক: নওগাঁর মান্দায় ইউপি-নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আ’লীগসহ বিএনপি, জামায়াতের  প্রার্থীরা দৌঁড়ঝাপ শুরু করেছে। তারা যেভাবে পারছে সেভাবে নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরছে কাঙ্গিত জনের নিকট। ইতিমধ্যে মান্দা উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে আ’লীগের দলীয় মনোনয়নপ্রাপ্তদের নাম ঘোষণা করা হয়েছে। 
জনপ্রিয়তার দিক থেকে অনেকেই যারা ৩য়, ৪র্থ কিংবা অন্য কোনো সারিতে রয়েছে তাদের মধ্যেও কেউ কেউ নৌকার মনোনয়ন পেয়েছে বলে অনেকের ধারনা। আর যারা ১ম কিংবা ২য় সারিতে রয়েছে তাদের মধ্যেও দু’একজন নৌকার মনোনয়ন পেলেও অনেকেই বঞ্চিত হয়েছে বলেও ক্ষোভে আছে নানা জরিপে এগিয়ে থাকা জনপ্রিয় স্থানীয় নেতারা। এর মধ্যে কেউ কেউ আবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করার প্রস্তুতিও নিচ্ছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেক বিপদগামীরা নৌকার প্রতীক পেয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। চায়ের আড্ডা থেকে রাজপথ, সর্বত্র চলছে নৌকার মনোনীত প্রার্থী এবং বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী আলাপ-আলোচনা। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে আ’লীগের ঘরে কারা জ্বালাবে বিজয়ের বাতি! 
স্বচ্ছ ও পরিচ্ছন্ন ইমেজের প্রার্থীদেরই আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী ও আওয়ামী লীগ সভাপতি শেখ হাসিনা। এমন পরিস্থিতিতে স্বজনপ্রীতি এবং কিছু মধ্যস্বত্বাভোগীদের কারণে অর্থের বিনিময়ে কেউ কেউ নৌকার মাঝি হয়েছে বলে প্রতিপক্ষরা সন্দেহ/অভিযোগের তীর ছুঁড়ছে অসৎদের দিকে। দলীয় নৌকা প্রতীক জনপ্রিয় ও ত্যাগীদের পক্ষে আনার জন্য প্রকাশ্যে ও নিরবে চলছে স্বতন্ত্র সঙ্গীয় ত্যাগীদের আন্দোলন। প্রত্যেক প্রার্থী তার দলের মধ্যে নিজস্ব লোকবল তৈরিতে নানাভাবে বিভক্ত তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। অর্থ, প্রেম, ভালোবাসাসহ বিভিন্ন কায়দায় কর্মী ছিনতাইয়ের প্রতিযোগীতা চলছে নিজ নিজ নির্বাচনী বলয়ের মধ্যে। নৌকা প্রতীকের বিজয়ের জন্য দলীয় নেতারা নানা কায়দায় মিটিং সিটিংসহ প্রত্যাশার ঝুড়ি নিয়ে দ্বারে দ্বারে যাচ্ছে তারা। দলের স্বার্থে থেমে যাওয়া কোনো কোনো জনপ্রিয়-ত্যাগীরা এবং তাদের সহকর্মীরা অভিমান করে বলছে দৃশ্যমান সমর্থন পেলেও মানষিক সমর্থন পাবে না।
বিএনপি-জামায়াত অধ্যষ্যিত এলাকা মান্দা এখন দীর্ঘদিন ধরে আ’লীগের হাতে। আ’লীগের দলীয় প্রার্থী নির্বাচনে হিসেবের হেরফের হলে এবং ত্যাগীরা মুখ ফিরিয়ে নিলে আবারও উপজেলা অধিকাংশ ইউনিয়ন চেয়ারম্যান বিএনপি-জামায়াতের ঘরেও যেতে পারে। ব্যক্তি স্বার্থকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের রাজনীতির মোড়ে মোড়ে ব্যক্তি প্রতিযোগিতা বাড়ছে এবং জ্বলে-পুরে ছারখার হচ্ছে ও বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে আছে আওয়ামীলীগ মনা মানুষদের মন।
আজ প্রতিবেদনে মান্দা উপজেলার কুশুম্বা ইউনিয়ন নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা থাকছে। ঐতিহাসিক কুশুম্বা মসজিদ এ ইউনিয়নে হওয়ার এ ইউনিয়নের নাম হয়েছে কুশুম্বা ইউনিয়ন। এ ইউনিয়নে প্রায় ৩৫ হাজার ভোটার রয়েছে। এখানে পুরুষের চেয়ে মহিলা ভোটার সংখ্যা বেশি। 
ঐতিহাসিক কুশুম্বা ইউনিয়নে বিগত সময়ে আ’লীগের নৌকার মাঝি হিসেবে ভোট করে একবার জয় ছিনিয়ে এনেছিল উপজেলা আ’লীগের তুখোর এবং ডাংপেটা উপজেলা আ’লীগের সাবেক সভাপতি ও বর্তমান উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব মো. এমদাদুল হক মোল্লা। দীর্ঘদিন ধরে তার হাতের মুঠোই ছিল উপজেলা আ’লীগের নেতৃত্ব। এবার ঐ নেতৃত্ব চলে গেছে তারই আত্নীয় মো. নাজিম উদ্দিন মন্তলের হাতে। নাজিম মন্ডলও এক সময় কুশুম্বা ইউনিয়নে ২বার আ’লীগের সমর্থনে এবং ১বার বিদ্রোহী হিসেবে ভোট করেছিলেন। কিন্তু কোন সময়ই বিজয়ী হতে পারেননি। তিনি এখন উপজেলা আ’লীগের সভাপতি। টানা দুই মেয়াদে বিএনপির দখলে কুশুম্বা ইউনিয়ন পরিষদের নেতৃত্ব।
কুশুম্বা ইউনিয়নে আ’লীগের ৩জন সম্ভাব্য প্রার্থী নৌকা প্রতীকের জন্য দলীয় কার্যালয় থেকে ফরম উত্তোলন করেছিল। যারা দলীয় ফরম উত্তোলন করেছিল তারা হলেন মো. ফরহাদ হোসেন, মো. শরিফুল ইসলাম এবং মো. আবুল কালাম আজাদ।
এদের মধ্যে বিশিষ্ট ঠিকাদার ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম ঐতিহাসিক কুশুম্বা মসজিদের সাধারণ সম্পাদক পদে নিয়োজিত থেকে ঐতিহাসিক মসজিদ উন্নয়নে কাজ করছে। তা ছাড়া শরিফুল ইসলাম উপজেলা সদরের বণিক সমবায় সমিতি লিমিটেডের দুই মেয়াদে প্রত্যক্ষ ভোটে সহ-সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন বলে জানা গেছে। তিনি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা এবং আওয়ামী পরিবারের সন্তান বলে জানা গেছে। ১৯৯৪ থেকে ২০০৪ সাল পর্যন্ত উপজেলা আ’লীগের কমিটিতে কার্যনির্বাহী সদস্য হিসেবে ছিলেন। পরবর্তীতে ২০০৪ সাল থেকে ২০২০সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত উপজেলা আ’লীগের সহপ্রচার সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন। কাউন্সিলের মাধ্যমে  ২০২০সালে ডিসেম্বরে নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পদকের নাম ঘোষনা হলেও আজ পর্যন্ত পূর্ণাঙ্গ কমিটির তালিকা ঘোষনা হয়নি বলেও জানা গেছে। তিনি একসময় কুশুম্বা ও মৈনম ইউনিয়ন আ’লীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলনে সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেন। তিনিও জন্মসূত্রে দীর্ঘদিন ধরে আ’লীগের নেতৃত্বের সাথে সম্পৃক্ত। দলীয় বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে তার ভূমিকাও অনেক। বিগত উপজেলা কাউন্সিলসহ দলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কাজে তার ভূমিকা রয়েছে। বিভিন্ন সামাজিক উন্নয়ন, সামাজিক প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানসহ দলীয় নানা কর্মকান্ডসহ দলের স্বার্থে নেতাকর্মীদের নানা কর্মকান্ডে তার আর্থিক অনুদানের লম্বা ফিরিস্তিতিও রয়েছে বলে জানা গেছে। বিশিষ্ট ব্যবসায়ী শরিফুল প্রায় দেড় যুগ ধরে ইউনিয়ন আ’লীগের ভোটারসহ স্থানীয় উন্নয়ন এবং গরীব, দু:খীসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ ও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান এবং সংগঠনের সাথে সেতু বন্ধন সৃষ্টি করে একটি নির্বাচনী মাঠ তৈরি করে রেখেছিল বলেও বিটিবি নিউজের অনুসন্ধানের আয়নায় উঠে এসেছে। তার নানা উন্নয়নমূলক কর্মকান্ড, বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে সহযোগিতা এবং জনপ্রিয়তার কারণে তাকেই এবার দলীয়ভাবে নৌকার প্রতীক দেয়ার জন্য ইউনিয়ন- ইউনিট আ’লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক মন্ডলীর নেতারা দলীয় নৌকা প্রতীকের জন্য শরিফুলের প্রতি সমর্থন, সুপারিশ ও দোয়া ছিল বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তারপরও তাকে দলীয়ভাবে নৌকার মাঝি করা হয়নি। তাকে ব্যক্তি রাজনীতির প্রতিহিংসার বলি হতে হয়েছে বলেও জানা গেছে। ওই শরিফুল ইসলাম গত নির্বাচনেও নৌকার প্রতীক নিয়ে নির্বাচন করলে ২য় স্থানে ছিল। সে সময় বর্তমান উপজেলা আ’লীগের সভাপতি মো. নাজিম মন্ডল বিদ্রোহী প্রার্থী থাকার কারণে পরা জয় বরণ করতে হয়েছে।
জানা গেছে, এবারে যাকে নৌকার প্রতীক দেয়া হয়েছে তিনি হলেন ইউনিয়ন আ’লীগের সাধারণ সম্পাদক  মো. ফরহাদ হোসেন। সে তরুন এবং নতুন মুখ। আর ইউনিয়ন আ’লীগের দুই বারের সভাপতি হচ্ছে শরিফুলের ভাই মো. আমিনুল ইসলাম। তার ভাইও কুশুম্বা ইউপি সদস্য হিসেবে দাপটের সাথে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং কুশুম্বা ইউপি’র প্যানেল চেয়ারম্যান হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। ফরহাদের নির্বাচনী একালাকায় কি পরিমাণ জনপ্রিয়তা আছে তা স্থানীয়রা এবং যারা দলীয় প্রতীক দিয়েছেন তারাই আরো ভালো জানেন। দলীয়ভাবে শরিফুলকে এবার নৌকার মনোনয়ন না দেয়ায় ইউনিয়ন এবং ওয়ার্ড পর্যায়ের নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের হৃদয় ভেঙ্গেছে। এবার এলাকায় শরিফুলের ব্যাপক সারা ছিল চেয়ারম্যান হওয়ার। আ’লীগই আ’লীগের সত্রু। আ’লীগ যেন না হয় সেই প্লাটফ্রমেই হাঁটছে ব্যক্তিলীগরা বলেও জানা গেছে। আর অনেকেই ধারণা করছেন শরিফুলকে  মনোনিত না করায় এবারও বিএনপি’র একক প্রার্থী বর্তমান চেয়ারম্যান নওফেল বিপুল ভোটে জয়ী হবে। নওফেল, ফরহাদ-শরিফুলকে নিয়ে জনমনে নানা গুঞ্জন চলছে। এবারও কি কুশুম্বা ইউনিয়নের চেয়ারম্যান বিএনপির দখলে যাবে? এ নিয়ে সর্বত্রই চলছে চুলচেরা বিশ্লেষন। কুশুম্বা ইউনিয়ন চেয়ারম্যান আ’লীগের ঘরে আনতে হলে তৃণমূলের জরিপ ও ইউনিয়ন আ’লীগের বিভিন্ন কমিটির নেতৃবৃন্দের সুপারিশকৃত  জনপ্রিয় সমাজ সেবক শরিফুলের বিকল্প নেই। বিশেষ গুরুত্বে সাথে জরুরী ভিত্তিতে নানা দিক পূনবিবেচনা করে নাজিম-মোল্লা এবং শরিফুল-ফরহাদসহ উপজেলা ও ইউনিয়নের সকল ইউনিটের নেতাকর্মীদের নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে একযোগে কাজ করতে হবে বলেও একটি অনুসন্ধানে জানা গেছে।
পরবর্তী কোনো পর্বে কোন দলের প্রার্থী কতজন চেয়ারম্যান হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে সে বিষয়েও বিস্তারিত তথ্য-চিত্র তুলে ধরার চেষ্টা করা হবে ইনশাল্লাহ।
বিটিবি নিউজের অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, উপজেলায় ৭১ সদস্য বিশিষ্ট কমিটি গঠন করা হলেও আজ পর্যন্ত ওই কমিটির সকলে মিলে কোনো মিটিং সিটিং করতে পারেনি। এতে করে অনেকেই দায়িত্ব থেকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। কমিটির সকল সদস্য ঐক্যবদ্ধ হলে নির্বাচনী হাওয়ায় দলীয়ভাবে নৌকা বিজয়ের পথ আরো সহজতর হতো। নতুন কমিটির সভাপতি মো. নাজিম উদ্দিন মন্ডল এবং সাধারণ সম্পাদককে ব্যাপকভাবে শ্রম দিতে হচ্ছে মান-অভিমানে থাকা সঙ্গীয়দেরসহ সকলকে এককাতারে আনতে। যোগ্য, ত্যাগীরা মুখ ফিরিয়ে নিলে এবারের ইউপি নির্বাচনে ব্যাপক প্রভাব পড়তে পারে। বিভিন্ন গ্রুপিং এর নেতাদের ইতিবাচক ও নেতিবাচক ভূমিকা নিয়ে জনমনে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে নেতাকর্মীসহ জনসাধারনের সাথে প্রতিনিয়ত সম্পর্কের দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। দাপট ও টাকাওয়ালারা ইউনিয়ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের টাকা পয়সা খরচ করতে প্রতিযোগিতায় নামার চেষ্টা করছে বলেও একটি সূত্রে জানা গেছে।
উপজেলা আ’লীগের অভিভাবকই স্বতন্ত্র প্রার্থীর জন্মদাতা। তিনিও বিগত সময়ে সংসদ নির্বাচনে বিএনপি এবং নৌকা প্রতীকের সাথে লড়াই করে স্বতন্ত্র প্রার্থী কলস প্রতীক নিয়ে তার সাজানো বাগানের নেতাকর্মীদের নিয়ে বহু ভোটের ব্যবধানের বিনিময়ে বিজয়ী হয়েছিলেন। তাঁর সেই দেখানো পথেই আজও অনেক ত্যাগী নেতাকর্মীরা দলীয় প্রতীক না পেলে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে বিএনপিকে বিজয়ী না করার ক্ষেত্রে নির্বাচনী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় উঠে পড়ে লেগেছে। উপজেলা আ’লীগের সাজানো বাগানের কোনো কোনো গাছ মরে গেছে, দূর্বল হয়েছে গেছে এবং হাইব্রিড হয়েছে। অনেকেই মান অভিমানে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে। নানা কারণে কেউ কেউ জী স্যার, হ্যা স্যার, ইয়েস স্যারে পথেই হাঁটছেন বলেও একটি অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
বিটিবি নিউজের অনুসন্ধানে জানা গেছে, পরীক্ষিতরা বঞ্চিত হওয়ার গুঞ্জনও রয়েছে। আবার অনেক পরীক্ষিতরাও দলকে শক্ত অবস্থানে ধরে রেখেছেন। নানা কারণে অযোগ্যরাই এখন যোগ্যদের কাতারে দাঁড়ানোর চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে। বিভিন্ন কারণে ভালো মানুষগুলো ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা নিরব হয়ে যাচ্ছে। রাজনীতি এখন ব্যক্তিগত প্রচারের আঙ্গিনায় সীমাবদ্ধ বলে মনে হচ্ছে। ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দরজায় কড়া নাড়ছে প্রার্থীরা। দীর্ঘ কয়েক বছর অনেক নেতারা ও প্রার্থীরা ভোটার ও ত্যাগীদের খোঁজ-খবর নেননি। এখন ভোটের মৌসুমে এসে প্রার্থীরা ত্যাগীদের এবং ভোটারদের হরেক রকমের আশার বাণী শোনাচ্ছে। অনেক রাজনীতিবিদ কর্মীদের মিথ্যা আশ্বাসের বাণীও শোনাচ্ছে। ত্যাগী ও মেধাবীদের এগিয়ে আসতে হবে। স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সোনার মানুষদের দরকার। 
আ’লীগের ঘরে বিজয়ের বাতি জ্বালাতে এবং উপজেলা আ’লীগকে বাঁচাতে ও দলের মান রক্ষা করতে হলে সকলকে ভেদাভেদ ভুলে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। দলের স্বার্থে প্রয়োজনে দলীয় প্রার্থী পূণমূল্যায়নে কর্তৃপক্ষের তীক্ষ্ণদৃষ্টি দেয়া অতীব জরুরী। আসন্ন ইউনিয়ন নির্বাচনে ভাল ফলাফলের জন্য সাধারন জনগণকে দলের দিকে আকৃষ্ট করতে হবে। দলের বঞ্চিত, ত্যাগী নেতাকর্মীদের সুধরিয়ে, মান-অভিমান ভুলিয়ে তাদের বুকে টেনে নিতে হবে। স্থানীয়দের সাথে নিয়ে এক যোগে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে। তাছাড়া সরকারের নানা উন্নয়নের চিত্র স্থানীয়দের ঘরে ঘরে পৌঁছানোসহ জনমন্মুখে ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে তা তুলে ধরতে হবে। সেই সাথে নির্বাচনী প্রচার চালাতে হবে। তবেই না নৌকা প্রতীকের বিজয়ের মালা লম্বা হবে। বর্তমান কমিটির সভাপতি মো. নাজিমুদ্দিন মন্ডল এবং সাধারণ সম্পাদক এ্যাড. মো. নাহিদ মোরর্শেদ বাবুর নেতৃত্বে ত্যাগী ও পরিশ্রমী সঙ্গীয়দের নিয়ে নৌকা বিজয়ের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে বলেও জানা গেছে।

সরকারের ভাবমুর্তি  উজ্জ্বল করতে এবং জনস্বার্থে স্থানীয় সংসদ সদস্যের ব্যাপক ভূমিকা নিতে হবে। তিনি প্রায় সময়ই ঢাকায় অবস্থান করলেও মান্দার অধিকাংশ মানুষের হৃদয়ের আঙ্গিনায় থাকেন তিনি। তিনি উপজেলা আ’লীগের বাগান সাজিয়েছেন এবং দীর্ঘদিন ধরে ফল ভোগ করছেন। নাটাই তাঁর হাতেই রয়েছে। সামনে তাঁর স্বচ্ছ ও জবাবদিহিতামূলক সিদ্ধান্তের আঙ্গিনায় সবাই ঐক্যবদ্ধ। তাঁর বিচক্ষণতা, দূরদর্শিতা,  গ্রহণযোগ্য দিক নিদের্শনা ও সু-পরামর্শেই আবারও মান্দার ২/৩টি ইউনিয়ন বাদে সকল ইউনিয়নে নৌকার বিজয়ের বাতি জ্বলতে পারে বলেও দলের অনেকের ধারণা। সেই সাথে বঞ্চিতদের দলীয়ভাবে মূল্যায়ন করতে হবে। নেতাকর্মীদেরকে কথাবার্তা ও আচরণে আরো ত্যাগী এবং বিনয়ী হতে হবে। দলের স্বার্থে সকলের মাঝে সম্পর্কের উন্নতি করতে হবে। সরকারের ভাবমুর্তি এবং দলীয় চেইন অব কমান্ড ফিরে আনতে হবে। 
রাজনীতির মাঠেও একদল মধ্যস্বত্বাভোগী রয়েছে যাদের কারনে তৃণমূলের আহাজারি যেমন মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে পৌঁছায় না তেমনি দলীয় প্রধানের নির্দেশনাও তৃণমূলে বাস্তবায়ন হয়না বলেও বঙ্গবন্ধু এবং প্রাধানমন্ত্রী আদর্শে গড়ে উঠা ত্যাগীদের হৃদয় নিরবে ডুকরে ডুকরে কাঁদছে। তবুও দলের দিক-নির্দেশনা কঠোভাবে মেনে চলছে তারা। দলের সাথে তারা বেঈমানী করেনি বলেও বিটিবি নিউজকে জানান। মান্দাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও যদি প্রার্থী নির্বাচনে অনুরূপ মনে হয় তাহলে সেগুলোতেও একই অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও একটি সূত্রে জানা গেছে।
ব্যক্তিলীগের আঙ্গিনায় ঘোরপাক খাওয়ার পথে জেলা-উপজেলা উপজেলা আ’লীগ। অনেকেই নিজেদের ইজ্জত বাঁচানোর জন্য প্রার্থী পছন্দ করেন। কখনোও কখনোও ত্যাগী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করা হচ্ছে না। তাদের টিসু পেপারের মতো ব্যবহার করা হচ্ছে। অনেকেই দলের জন্য নয়, ব্যক্তিস্বার্থকে প্রাধান্য দিতেই এমনটি করছে। অনেকেই যারা পিছন থেকে নৌকার বিপক্ষে কাজ করেছে তারাই আজ অঢেল সম্পদের মালিক। চেইন অব কমান্ড ভেঙ্গে পড়েছে। অনেকই জী স্যার, জী ম্যাডাম, জী লিডার, জী ভাই বলা ব্যক্তিরা তাদের কথায় তেল ও রঙ লাগিয়ে চলছে ভালো-মন্দসহ অর্থ-সম্পদ উপর্জনের নানা প্রতিযোগিতা। অনেকেই হয়তোবা মনে করছেন নৌকার লাইসেন্স দীর্ঘদিনের জন্য পেয়েছি। তাদের কারণে অনেকেই হয়তোবা জনবিচ্ছিন্ন হচ্ছে। এখনই দলের শৃঙখলা ফিরিয়ে আনতে হবে। দলের বৃহত্তর স্বার্থে ব্যক্তিলীগ ও ব্যক্তিকর্মী থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে। নানা কারণে ব্যক্তিগত বা ব্যক্তি ইমেজের ভোট কমতির খাতায় উঠা-নামা করছে। ব্যক্তিস্বার্থে হাইব্রিডরা ভোট বিনষ্ট করে। আর ত্যাগীরা ভোট অর্জন করে। উন্নয়ন এবং ভোট অর্জনকারীদের খাতায় নাম লিখাতে হবে। দলের ভিতর থেকে যারা বেঈমানী করছে তারাই আজ প্রতিষ্ঠিত বলেও অনেকের ধারনা। সমাজ তথা রাষ্ট্র উন্নয়নে জনগণ এবং দলের জন্য রাজনীতি করার পথে হাঁটতে হবে। সকলের হৃদয়ের আঙ্গিনায় জমে রাখা ভালোবাসায় গড়ে উঠুক উন্নয়নের প্রিয় বাংলাদেশ।
চলবে.........