জমে উঠেছে নির্বাচনী প্রচারণা

আসন্ন ইউপি নির্বাচনে কারা জ্বালাবে বিজয়ের বাতি!

আসন্ন ইউপি নির্বাচনে কারা জ্বালাবে বিজয়ের বাতি!

মো. আব্দুল বারি খান, সম্পাদক ও প্রকাশক: নওগাঁর মান্দায় আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগামী ২৮ নভেম্বর। ইউপি-নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে ক্ষমতাসীন আ’লীগসহ বিএনপি, জামায়াতের সমর্থিত  প্রার্থীরা তারা যে যেভাবে পারছে সেভাবে নিজেদের পরিচিতি তুলে ধরছে কাঙ্গিত জনের নিকট। ব্যানার ফেস্টুন এবং পোষ্টারে ছেয়ে দিয়েছে নিজ নিজ এলাকা। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নের বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থীরা সঙ্গীয়দের নিয়ে নির্বাচনী প্রচারণায় কোমর বেঁধে মাঠ চষে বেড়াচ্ছে।
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে ভোটারদের বাড়ি-বাড়ি, মসজিদ, মাদ্রাসা, মন্দির, হাটবাজার, চায়ের দোকান ও বিভিন্ন সামাজিক পারিবারিক ধর্মীয় অনুষ্ঠানে গিয়ে ‘আসসালামু আলাইকুম/আদাব/নমষ্কার, ভাই! কেমন আছেন ..................? বলেই কুশল জানতে কেউ কেউ বুকে জড়িয়ে ধরছে। কোলাকুলি বা করমর্দনের জন্য হাত বাড়িয়ে দেন আসন্ন ইউপি চেয়ারম্যান নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী ও সঙ্গীরা। অনেকেই বলছে, আগে যাদের দেখলে সালাম, আদাব দিয়েও দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারতাম না। এখন তারাই উল্টো আমদেরই সালাম-আদাব দেন। প্রার্থীদের এমন মধুর ব্যবহার নির্বাচনের পর আর পাওয়া যায় না বলেও অনেকেই মনে করেন। অনেকেই বলছে, যারা সবসময় এক রকম ব্যবহার করবে, তেমন প্রার্থী দেখেই আসন্ন ইউপি চেয়ারম্যানদের ভোট দেবো। নওগাঁর মান্দা উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে জানা গেছে, শুধু সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ও মেম্বার প্রার্থীরাই নন, তাঁদের আত্নীয়-স্বজন, কর্মী-সমর্থকদের আচরণও বদলে গেছে। চেয়ারম্যান প্রার্থী ও মেম্বার প্রার্থীদের এমন ভালো আচরণ সব সময় থাকবে- এটাই আশা স্থানীয় নাগরিক ও ভোটারদের।
আবার নির্বাচনী সময় এলেই কদর বাড়ে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষের। কিন্তু ভোট চলে গেলে অনেকেই আর তাদের খবর রাখে না। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী ও মেম্বার প্রার্থীরা গরিব রিকশা-ভ্যান চালক থেকে শুরু করে খেটে খাওয়া সাধারণ দিন মজুর ও উঁচু তলার মানুষদের খুঁজছে। তাদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে বিভিন্নভাবে সহায়োগীতা ও দোয়া প্রার্থনা করছে। কেউ কেউ স্থানীয় উন্নয়নের পাশাপাশি এসব নিম্ন আয়ের মানুষের জীবন-মান উন্নয়নেরও দিচ্ছেন নানা প্রতিশ্রুতি। এদিকে নির্বাচনকে ঘিরে প্রার্থীরা গরিব মেহনতি দিন মুজুর মানুষের সরলতায় সুযোগ নিয়ে তাদের মন ভোলাতে অসুখ-বিসুখ, আপদ-বিপদ, বিয়ে ও সামাজিক অনুষ্ঠানে সাহায্যের হাত প্রসারিত করে এগিয়ে আসছে অনেকেই। অনেকেই জানান, ভোটের মৌসুম আসলেই তাদের আদর কদর আর ভালোবাসা বেড়ে যায়। তাই জেনে শুনে যোগ্য প্রার্থী দেখেই এবার তারা ব্যালেটে সিল মারবে বলেও জানা গেছে। 
উপজেলা আ’লীগ বিদ্রোহীরাসহ অনেকই একত্রিত হয়ে কখনও স্বতন্ত্রকে এমপি বানায়। কখনো আবার বিএনপিকে এমপি বানায় বলেও একটি সুত্রে জানা গেছে। উপজেলা আ’লীগ এবং বিএনপির রাজনীতির নেতৃত্ব উপজেলা সদর এলাকার মধ্যেই ও আত্নীয়তার বন্ধনের আঙ্গিনায় ঘোরপাক খাচ্ছে বলেও জানা গেছে।
উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে বিটিবি নিউজের অনুসন্ধানের আয়নায় জানা গেছে, নির্বাচনী প্রচারে উপজেলা আ’লীগের নেতারা-কর্মী ও নৌকার প্রার্থীরা মতবিনিময় ও উঠান বৈঠক করে সরকারের উন্নয়নের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরছে। সেই সাথে ভোট প্রার্থনা করছে। আ’লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের বিরুদ্ধে দলীয়ভাবে সিদ্ধান্ত নেয়া হবে মর্মে নানা হুশিয়ারিও দিতে ভুলছে না স্থানীয় নেতারা। 
অপরদিকে বিদ্রোহী ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা মতবিনিময় ও উঠান বৈঠক থেকে বিরত থাকছে। বিরোধ এড়াতে তারা এগুলো না করে কৌশল পাল্টিয়ে কখনো একা কিংবা বিশ্বস্ত সঙ্গীয়দের নিয়ে ভোটারদের বাড়ি-বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করছে। সুষ্ঠ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের প্রত্যাশায় প্রতিটি এলাকায় উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। আবার নানা কারণে আতংকের ছাপও লক্ষ্য করা গেছে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সমর্থদের মাঝে। নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে নির্বাচনী প্রতিযোগীতার মাঠ। কেউ কেউ এলাকা ভিত্তিক পেশী শক্তির হুংকারও দিচ্ছে বলে জানা গেছে। এবারের ইউপি নির্বাচনে আ’লীগই আ’লীগের শত্রু। নানা কায়দায় যারা প্রতীক পেয়েছে তারা মনে করছে জয়ের লাইসেন্স পেয়ে গেছি। স্বতন্ত্রই স্বতন্ত্রের জন্মদাতা বলেও জানা গেছে। যেই রক্ষক সেই ভক্ষক। আ’লীগ এবং বিএনপি-জামায়াত সমর্থিত একক প্রার্থী হলে এবারের নির্বাচনে হাড্ডা-হাড্ডি লড়াই হতো বলেও জানা গেছে। উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে চেয়ারম্যান পদে ৯৩ জন, সংরক্ষিত নারী সদস্য ১’শ ৭৩ জন এবং সাধারণ সদস্য পদে ৫’শ ৪৩ জন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে বলে একটি সূত্রে জানা গেছে। 
অনুসন্ধানে আরো জানা গেছে, এবারে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ার্যা ন পদে যাদের সাথে তুমল প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে তারা হলেন, ১নং ভারশোঁ ইউনিয়নের আ’লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের আলতাজ উদ্দীনের সাথে আ’লীগের নৌকা প্রতীক প্রার্থী মোস্তাফিজুর রহমান এবং বিএনপি স্বতন্ত্র আনারস প্রতীক প্রার্থী মোজাম্মেল হকের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। এখানে জামায়াত-বিএনপি সমর্থিতরা একত্রি হলে আনারস প্রতীকের সাথে নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। ২নং ভালাইন ইউনিয়নে আ’লীগ স্বতন্ত্র গোলাম মোস্তফা ঘোড়া প্রতীকে সাথে নৌকা প্রতীক ইব্রাহিম আলী মন্ডল। তবে সময়ের হেরফেরে নৌকা প্রতীকের সাথে ঘোড়া প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। ৩নং পরানপুর ইউনিয়নে আনারস প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ফারুক হোসেন মোল্লার সাথে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী মাহফুজুর রহমান এবং জামায়াত স্বতন্ত্র প্রার্থী চশমা প্রতীকের ইলিয়াস খানের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। হিসেবের গরমিল হলে চশমা প্রতীকের সাথে নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। এই ইউনিয়নে ত্রিমুখী লড়াই হবে। ৪নং মান্দা ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত ঘোড়া প্রতীকে মাজেদুর রহমান মিঠু’র সাথে আ’লীগ সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ঢোল প্রতীকে শহিদুল ইসলাম বেলাল, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী তোফাজ্জ্বল হোসেন, টেবিল ফ্যান প্রতীকে আলমগীর হোসেন ও জামায়াত সমর্থিত চশমা প্রতীকে তোফাজ্জ¦ল হোসেনের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। আবার অন্যভাবে ঢোল প্রতীকে সাথে ঘোড়া কিংবা নৌকা, টেবিল ফ্যান-চশমার প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে বলেও শোনা যাচ্ছে। ৫নং গণেশপুর ইউনিয়নে বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকের শফিকুল ইসলাম চৌধুরী বাবুলের সাথে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী হানিফ উদ্দিনর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। ৬নং মৈনম ইউনিয়নে আ’লীগের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোটরসাইকেল প্রতীক আনিছুর রহমানের সাথে আরো একজন আ’লীগ স্বতন্ত্র ইয়াসিন আলী রাজার আনারস প্রতীক, নৌকা প্রতীক পাওয়া সামন্ত কুমার সরকারের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। অন্যদিকে আনারস, মোটরসাইকেল ও নৌকা প্রতীকের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। ৭নং প্রসাদপুর ইউনিয়নে জামায়াতের স্বতন্ত্র প্রার্থী চশমা প্রতীকের মোয়াজ্জেম হোসেন, বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীক আব্দুল মতিন মন্ডল, বিএনপি সমর্থিত স্বতন্ত্র আনারস প্রতীকের বেলাল হোসেন খান এবং নৌকা প্রতীক পাওয়া আবু বক্কর সিদ্দিকের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। একটু হেরফের হলে চশমা, নৌকা এবং আনারস কিংবা ঘোড়া প্রতীকের লড়াই হতে পারে। ৮নং কুশুম্বা ইউনিয়নে স্বতন্ত্র মোটরসাইকেল প্রতীকের নওফেল আলী মন্ডলের সাথে নৌকা প্রতীক প্রার্থী ফরহাদ হোসেনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। ৯নং তেঁতুলিয়া ইউনিয়নে স্বতন্ত্র প্রার্থী ঘোড়া প্রতীকের সাইদুর রহমানের সাথে আ’লীগের নৌকা প্রতীক পাওয়া গাজিবুর রহমান ও বিএনপি স্বতন্ত্র মোটর সাইকেল প্রতীকের নাজমুল হক নাজুর সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। ১০নং নুরুল্যাবাদ ইউনিয়নে জামায়াত স্বতন্ত্র প্রার্থী চশমা প্রতীকের ইয়াসিন আলী প্রামানিকের সাথে বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী আনারস প্রতীকের রফিকুল ইসলাম, আ’লীগ স্বতন্ত্র মোটরসাইকেল প্রতীকে গোলাম মোস্তফা এবং নৌকা প্রতীক প্রার্থী স্বাধীন কৃষ্ণ রায়, টেবিলফ্যান প্রতীক গোলাম মোস্তফা প্রামানিক, আ’লীগ স্বতন্ত্র অটোরিক্সা মোজাফ্ফর হোসেন প্রামানিকের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। এখানে কিছুটা ত্রিমুখী লাড়াই হতে পারে। ১১নং কালিকাপুর ইউনিয়নে আ’লীগ স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীক প্রার্থী আবু হায়দার প্রামানিকের সাথে বিএপি সমর্থিত স্বতন্ত্র মোটরসাইকেল প্রতীকের আশরাফুল ইসলাম, নৌকা প্রতীক প্রার্থী আব্দুল আলিম এবং  বিএনপির স্বতন্ত্র প্রার্থী চশমা প্রতীকের রফিকুল ইসলামের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। ১২ নং কাঁশোপাড়া ইউনিয়নে আ’লীগ স্বতন্ত্র আনারস প্রতীকের আব্দুস সালাম, বিএনপি স্বতন্ত্র চশমা প্রতীকে সাইদুর রহমান মোল্লা ও নৌকা প্রতীক পাওয়া আব্দুল খালেকের সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। কিংবা চশমা, আনারস ও নৌকা প্রতীকের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। ১৩নং কশব ইউনিয়নে স্বতন্ত্র আব্দুল্যা আল মাদুদ মোটরসাইকেল প্রতীক, আ’লীগ স্বতন্ত্র চশমা প্রতীকের আব্দুস সালাম সরকার, স্বতন্ত্র ঘোড়া প্রতীক জি. এম কিবরিয়া গোলাম, নৌকা প্রতীক প্রার্থী ফজলুর রহমান, স্বতন্ত্র টেলিফোন প্রতীকে আনিছুর রহমান সাথে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। ১৪নং বিষ্ণপুর ইউনিয়নে বিএনপি স্বতন্ত্র প্রার্থী চশমা প্রতীকের কাজেম উদ্দিন প্রামানিক, নৌকা প্রতীক প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম-আ’লীগ স্বতন্ত্র আনারস প্রতীকের এস, এম গোলাম আজম, ঘোড়া প্রতীকের মমতাজুল ইসলামের সাথে ত্রিমুখী প্রতিদ্বন্দ্বিতা হতে পারে। নেতাকর্মী ও ভোটারদের মানষিকতার পরিবর্তনের কারণে এবং সময়, অর্থ ও প্রভাবের মাধ্যমে শেষ পর্যন্ত হিসেবে অংকটা কিছুটা গরমিল হতে পারে বলেও ধারনা করা হচ্ছে।
জনপ্রিয়তার দিক থেকে অনেকেই যারা ৩য়, ৪র্থ কিংবা অন্য কোনো সারিতে রয়েছে তাদের মধ্যেও কেউ কেউ নৌকার মনোনয়ন পেয়েছে বলে অনেকের ধারনা। আর যারা ১ম কিংবা ২য় সারিতে রয়েছে তাদের মধ্যেও দু’একজন নৌকার মনোনয়ন পেলেও অনেকেই বঞ্চিত হয়েছে বলেও ক্ষোভে আছে নানা জরিপে এগিয়ে থাকা জনপ্রিয় স্থানীয় নেতারা। কেউ কেউ আবার স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ভোট করতে কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছে। বিপদগামীরা নৌকার প্রতীক পেয়েছে বলে গুঞ্জন রয়েছে। চায়ের আড্ডা থেকে রাজপথ, সর্বত্র চলছে নৌকার মনোনীত প্রার্থী এবং বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থীদের নিয়ে নির্বাচনী আলাপ-আলোচনা। আসন্ন ইউপি নির্বাচনে কারা জ্বালাবে বিজয়ের বাতি! আবার মান্দার তিন পুরুষের রাজনীতি এখন কোন পথে ..........। কলকাঠি নাড়াচ্ছে কে? এ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। নানা কারণে বিএনপি-জামায়াতও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতেও রয়েছে। বিএনপির মধ্যেও কোনো কোনো ইউনিয়নে একাধিক প্রার্থী রয়েছে। আ’লীগসহ স্বতন্ত্র এবং বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা নিজেরা নিজের মাঠ গোছাতে এবং নেতাকর্মীসহ সাধারণের দৃষ্টি আকর্ষন করতে মাঠে-ময়দানে চষে বেড়াচ্ছে বলে বিটিবি নিউজের একটি অনুসন্ধানের আয়নায় উঠে এসেছে।
অর্থ খরচের বিনিময়ে কেউ কেউ নৌকার মাঝি হওয়ার স্বপ্নতে গা ভাসিয়ে দিয়েছে বলে প্রতিপক্ষের কেউ কেউ সন্দেহ/অভিযোগের তীর ছুঁড়ছে অসৎদের দিকে। প্রত্যেক প্রার্থী তার দলের মধ্যে নিজস্ব লোকবল তৈরিতে নানাভাবে বিভক্ত তৃণমূলের নেতাকর্মীরা। অর্থ, প্রেম, ভালোবাসাসহ বিভিন্ন কায়দায় কর্মী ছিনতাইয়ের প্রতিযোগীতা চলছে নিজ নিজ নির্বাচনী বলয়ের মধ্যে। ইতিমধ্যে নির্বাচনী সহিংসতায় গনেশপুর ইউনিয়নে ১জন মারাও গেছে। নানা কোন্দলের কারণে কোনো কোনো স্থানে আহতও হয়েছে বেশ ক’জন। এবারের ইউনিয়ন নির্বাচন নিরপেক্ষ এবং আওয়ামীলীগের নীতি নির্ধারকদের কারণে প্রার্থী নির্বাচনে যদি ত্রুটি থাকে তাহলে ২-৩টি ইউনিয়ন এবং বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী আরো ৩/৪ ইউনিয়ন ছাড়া বাকী সবকয়টি ইউনিয়ন বিএনপি-জামায়াত মনোনিতদের দখলে যেতে পারে বলে সমাজ সচেতন মনা এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের ধারনা। সমাজ বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্যক্তি স্বার্থকে কেন্দ্র করে ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের রাজনীতির মোড়ে মোড়ে ব্যক্তি প্রতিযোগিতা বাড়ছে এবং জ্বলে-পুরে ছারখার হচ্ছে ও  বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়ে আছে আওয়ামীলীগ মনা মানুষদের মন। বিএনপি’র মধ্যেও চলছে এমন অসুস্থ্য প্রতিযোগীতা। বিভিন্ন গ্রুপিং এর নেতাদের ইতিবাচক ও নেতিবাচক ভূমিকা নিয়ে জনমনে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। অন্যদিকে নেতাকর্মীসহ জনসাধারনের সাথে প্রতিনিয়ত সম্পর্কের দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে।
জানা গেছে, বিভিন্ন ইউনিয়নের অধিকাংশ মেম্বার প্রার্থী  আ’লীগ মনা হওয়ায় চেয়ারম্যান প্রার্থীর ভোট করা কঠিন হয়ে পড়বে। মেম্বার প্রার্থীরা নিজেদের আখের গোছাতে চেয়ারম্যান প্রার্থীর ব্যাপারে তারা তেমন সাড়া দেবে না। আবার বিদ্রোহী প্রার্থীরা তো আছেই। দাপট ও টাকাওয়ালারা ইউনিয়ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাদের টাকা পয়সা খরচ করতে প্রতিযোগিতায় নামার চেষ্টা করছে বলেও একটি সূত্রে জানা গেছে।
যদি স্বজনপ্রীতি কিংবা অর্থের বিনিময়ে নৌকার প্রার্থী নির্বাচন এবং বাম দল মনারা ঠাঁই পেয়ে থাকলে নৌকার ভরাডুবি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে হচ্ছে। অন্যদিকে নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং জনগণ যদি শান্তিপূর্ণ ও স্বতস্ফুর্তভাবে ভোট কেন্দ্র গিয়ে ভোট দিতে পারে সেই ক্ষেত্রে হিসেবের খাতায় আ’লীগের নৌকা প্রতীকের চেয়ারম্যানের লাইনের সংখ্যা কম হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। 
কেউ কেউ ব্যক্তি স্বার্থকে হাছিলের উদ্দেশ্যে ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচনের ডামাডোল বাজাচ্ছে বলেও মনে হচ্ছে। যার প্রভার আগামী জাতীয় নির্বাচনেও পড়তে পারে। মান্দাসহ জেলার বিভিন্ন উপজেলাতেও যদি প্রার্থী নির্বাচনে অনুরূপ মনে হয় তাহলে সেগুলোতেও একই অবস্থা সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও একটি সূত্রে জানা গেছে।
বিটিবি নিউজের অনুসন্ধানের আয়নায় আরো জানা গেছে, উপজেলায় আস্তে আস্তে রক্তের বন্ধনে একই আত্নীয়তার আঙ্গিনায় নেতা তৈরি হচ্ছে। পরীক্ষিতরা বঞ্চিত হওয়ার গুঞ্জনও রয়েছে। আবার অনেক পরীক্ষিতরাও দলকে শক্ত অবস্থানে ধরে রেখেছে। নানা কারণে অযোগ্যরাই এখন যোগ্যদের কাতারে দাঁড়ানোর চেষ্টায় মরিয়া হয়ে উঠেছে। সৎ, সাহসী ও ত্যাগী কর্মীরা কোনো কোনো নেতাদের কাছে টিসু পেপারের মতো ব্যবহার হচ্ছে। নানা কারণে নেতাকর্মীদের দূরত্ব বাড়ছে। মানুষের সাথে মানুষের দূরত্ব বাড়ছে। নানা কারণে ভালো মানুষগুলো ও ত্যাগী নেতাকর্মীরা নিরব হয়ে যাচ্ছে। অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সাহস হারাচ্ছে। রাজনীতি এখন ব্যক্তিগত প্রচারের আঙ্গিনায় সীমাবদ্ধ বলে মনে হচ্ছে। সত্য-মিথ্যার লড়াই বাড়ছে। হারিয়ে যাচ্ছে গভীর প্রেম ও বিশ্বাস। কথায় তেল ও রঙ লাগিয়ে চলছে ভালো মন্দের প্রতিযোগিতা।  ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে দরজায় কড়া নাড়ছে প্রার্থীরা। প্রার্থীরা ভোটারদের হরেক রকমের আশার বাণী শোনাচ্ছে। প্রার্থীদের চোখে ঘুম নেই। ভোটারদের কদর বাড়ছে। বদলে যাচ্ছে মানুষ। অনেক রাজনীতিবিদ কর্মীদের মিথ্যা আশ্বাসের বাণীও শোনাচ্ছে। ত্যাগী ও মেধাবীদের এগিয়ে আসতে হবে। স্বপ্নের সোনার বাংলা গড়তে সোনার মানুষদের দরকার। সকলের হৃদয়ের আঙ্গিনায় জমে রাখা ভালোবাসায় গড়ে উঠুক প্রিয় বাংলাদেশ।