দেশে প্রথমবার মানবদেহে বসলো ‘যান্ত্রিক হৃৎপিণ্ড’ এলভিএডি

দেশে প্রথমবার মানবদেহে বসলো ‘যান্ত্রিক হৃৎপিণ্ড’ এলভিএডি

দেশে প্রথমবার মানবদেহে বসলো ‘যান্ত্রিক হৃৎপিণ্ড’ এলভিএডি

দেশে প্রথমবারের মতো এক নারীর দেহে সফলভাবে ‘যান্ত্রিক হৃৎপিণ্ড’ স্থাপন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ইউনাইটেড হাসপাতালের চিকিৎসকরা।

বৃহস্পতিবার গুলশানে বেসরকারি ওই হাসপাতালে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ৪২ বছর বয়সী ওই নারীর হৃৎপিণ্ডে ‘লেফট ভেনট্রিকুলার অ্যাসিস্ট ডিভাইস- এলভিএডি’ বসানো হয়েছে।

ওই নারী দীর্ঘদিন ধরে হৃদযন্ত্রের নানা ধরনের জটিলতায় ভুগছিলেন এবং তার হৃৎপিণ্ড প্রায় অকার্যকর হয়ে পড়েছিল বলে জানান চিকিৎসকরা।

ইউনাইটেড হাসপাতালের কার্ডিয়াক সেন্টারের পরিচালক ডা. জাহাঙ্গীর কবিরের নেতৃত্বে চিকিৎসকদের একটি দল বুধবার প্রায় ৪ ঘণ্টার চেষ্টায় ওই নারীর হৃদপিণ্ডে যন্ত্রটি স্থাপন করেন।

সংবাদ সম্মেলনে ‘হার্টমেট-৩’ নামে ওই ‘মেকানিক্যাল হার্টের’ বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেন এই চিকিৎসক।

“উন্নত বিশ্বে অকার্যকর হৃৎপিণ্ডের চিকিৎসা হল অন্য আরেকটি সুস্থ হৃৎপিণ্ড প্রতিস্থাপন করা।  সুস্থ হৃৎপিণ্ড যদি না পাওয়া যায় কিংবা পেতে দেরি হচ্ছে এবং অবস্থা যদি দ্রুত অবনতি ঘটতে থাকে তবে মেকানিক্যাল হার্ট ইমপ্ল্যান্ট করা হয়।

“এতে রোগীর হার্ট কিছুটা বিশ্রাম পায় এবং সমস্ত শরীরের রক্ত চলাচল অনেকটা স্বাভাবিক হয়ে আসে। ফলে শরীরে অন্যান্য অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ যেমন কিডনি, লিভার ইত্যাদি সেরে ওঠার সুযোগ পায়।

“তীব্র হার্ট ফেইলিওরে আক্রান্ত কিছু রোগী হার্ট ট্রান্সপ্ল্যান্টের উপযুক্ত না হলে তাদের জন্য একমাত্র বিকল্প এই প্রতিস্থাপন, যার মাধ্যমে বাকি জীবন সুস্থভাবে অতিবাহিত করতে পারেন।”

যন্ত্রটি কতদিন কাজ করবে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “স্থাপনের পর ১৭ থেকে ২০ বছরপর্যন্ত কাজ করতে পারে। তবে এটা কতদিন কাজ করবে তা নির্ভর করে রোগীর শারীরিক অবস্থা, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাসহ কয়েকটি বিষয়ের ওপর।”