আলোর মুখ দেখছে উপকূল সুরক্ষায় পাউবোর প্রকল্প

আলোর মুখ দেখছে উপকূল সুরক্ষায় পাউবোর প্রকল্প

চট্টগ্রাম,খাগড়াছড়ি বিস্তীর্ণ উপকূল সুরক্ষায় বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) ৩০৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে পৃথক পৃথক প্রকল্প আলোর মুখ দেখছে। ইতোমধ্যে চট্টগ্রামের সন্দ্বীপ ও খাগড়াছড়ি ১৭৫৪ কোটি টাকার প্রকল্প (ডিপিপি) প্লানিং কমিশনে গেছে অপর দিকে অপেক্ষায় রয়েছে বাঁশখালী ও আনোয়ারা উপকূল সুরক্ষায় যৌথভাবে গৃহীত ১২৬৯ কোটি টাকার প্রকল্প।
এসব প্রকল্প বাস্তবায়ন হলে সুপারডাইকের আদলে সুরক্ষিত হবে চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির বিস্তীর্ণ উপকূল।
এ দিকে বঙ্গোপসাগর বেষ্টিত দক্ষিণ চট্টগ্রামের পটিয়ায় ১১৫৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে পটিয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ নিষ্কাশন প্রকল্পসহ দুই হাজার ৩৬০ কোটি টাকা ব্যয়ে চলমান টেকসই ভাঙন প্রতিরোধ প্রকল্পের কাজ চলছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড চট্টগ্রাম ডিভিশন-১ ও ডিভিশন-২ এর অধীনে আরো তিন হাজার ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে উপকূল সুরক্ষা ভাঙন প্রতিরোধ, ড্রেজিং অবকাঠামো নির্মাণ ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের জন্য নতুনভাবে ডিপিপি প্রণয়ন করা হয়েছে, যা এখন পরিকল্পনা কমিশনে ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের সদর দফতরে রয়েছে যা এখন যাচাই-বাছাই চলছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন সূত্র।
জানা গেছে, আনোয়ারার সংসদ সদস্য ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ, পটিয়ার সংসদ সদস্য ও জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী, চন্দনাইশ সাতকানিয়া আংশিক এলাকার সংসদ সদস্য মো: নজরুল ইসলাম চৌধুরী, বাঁশখালীর সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী ও সাতকানিয়া লোহাগাড়ার সংসদ সদস্য প্রফেসর ড. আবু রেজা মোহাম্মদ নেজাম উদ্দিন নদভীর প্রচেষ্টা ও চাহিদার পরিপ্রেক্ষিতে সাগর নদী ও খালের ভাঙন প্রতিরোধে ২০১৫ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে প্রণয়নকৃত প্রায় ১২০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ১০৫টি প্যাকেজের চলমান কাজের সর্বশেষ সময় দেয়া হয়েছিল গত বছরের ৩০ জুন পর্যন্ত। কিন্তু করোনাভাইরাস বিশ্বে মাহামারির কারণে এসব প্রকল্প কাজের মেয়াদ সঙ্গতকারণে বৃদ্ধি করা হয়েছে। অপর দিকে ১১৫৮ কোটি ৩৬ লাখ টাকা ব্যয়ে পটিয়া বন্য নিয়ন্ত্রণ ও নিষ্কাশন প্রকল্পের ৪২টি প্যাকেজের কাজ চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে।
এসব চলমান কাজের সাথে সঙ্গতি রেখেই চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়ির সাগর ও নদীর ভাঙন ঠেকাতে নতুন নতুন প্রকল্প প্রণয়ন করে পানি উন্নয়ন বোর্ড। আর এই প্রকল্পগুলো বাস্তবায়ন হয়ে পটিয়ায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ নিষ্কাশন ও সেচব্যবস্থা উন্নীতকরণসহ আনোয়ারা পার্কি সমুদ্রসৈকতসহ ২১০০ মিটার টেকসই প্রতিরোধ ব্যবস্থা এ ছাড়া জেলার সন্দ্বীপ, সীতাকুণ্ড ও খাগড়া ছড়ির ভাঙন প্রতিরোধ নদীখনন, অবকাঠামো নির্মাণ সম্পন্ন হবে বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
চলমান কাজের মধ্যে আনোয়ারা উপকূল থেকে নগরীর পতেঙ্গা পর্যন্ত সুরক্ষায় ৩২০ কোটি ২৯ লাখ ৭৭ হাজার টাকার ৩৮ প্যাকেজের কাজের সাথে সামঞ্জস্য রেখে প্রকল্প ব্যয় বর্ধিত করে ৫৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে আনোয়ারা পার্কি সমুদ্রসৈকত পুরো ও রায়পুর ইউনিয়ন সুরক্ষার কাজ চলছে।
একইভাবে সাতকানিয়া, লোহাগাড়া ও চন্দনাইশ উপজেলা সুরক্ষায় ও শঙ্খ নদী খননসহ ৩৩৩ কোটি ৩৪ লাখ ২১ হাজার টাকায় ১৫ প্যাকেজের কাজের সাথে সামঞ্জস্য রেখে চন্দনাইশ ও সাতকানিয়ায় নদী ও খালের ভাঙন প্রতিরোধে ১৫৪ কোটি টাকায় সাড়ে ১৩ কিলোমিটার টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণকাজ। এর আগে এই দুই উপজেলায় ১৫০ কোটি ৫৬ লাখ ৪৯ হাজার টাকায় ১৬ প্যাকের কাজ সম্পন্ন হয়।
বাঁশখালীতে চলমান বঙ্গোপসাগর ও নদীর উপকূল বাঁশখালী উপজেলা সুরক্ষায় ২৯৩ কোটি ৬০ লাখ ৬৯ হাজার টাকায় ৩৬ প্যাকেজের কাজ চলমান রয়েছে।
ওই কাজের সাথে সামঞ্জস্য রেখে নদী ও সাগর তীর অভ্যন্তরীণ খাল ও নদীর ভাঙন ঠেকাতে ১২৬৯ কোটি টাকা ব্যয়ে (আনোয়ারার রায়পুর ও জুইদণ্ডির অংশসহ) নতুন প্রকল্প প্রণয়ন করা হয়েছে।
একইভাবে ১১২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সুপার ডাইকের আদলে সমগ্র সন্দ্বীপকে সুরক্ষিত করার প্রকল্প নেয়া হয়েছে, একই ডিভিশনের অধীনে ৬৩৯ কোটি টাকা ব্যয়ে খাগড়াছড়ি সুরক্ষায় প্রণয়ন করা হয়েছে প্রায় ৩৫টি প্যাকেজের মধ্যে চেঙ্গি ও মাইনী নদী খনন কাজও রয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড ডিভিশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদুজ্জামান খান জানিয়েছেন বাঁশখালী আনোয়ারার অংশ বিশেষসহ এবং খাগড়াছড়ি ও সন্দ্বীপ সুরক্ষায় তিন হাজার ৩৪ কোটি টাকা ব্যয়ে গৃহীত প্রকল্পের মধ্যে ১১২৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সন্দ্বীপ ও ৬৩৯ কোটি টাকায় খাগড়াছড়ি সুরক্ষায় গৃহীত নতুন ডিপিপি পানি উন্নয়ন বোর্ড হয়ে বর্তমানে প্লানিং কমিশনে রয়েছে।