বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একই সুতায় বাঁধা: জেলা ও দায়রা জজ

বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একই সুতায় বাঁধা: জেলা ও দায়রা জজ

স্টাফ রিপোর্টার: বঙ্গবন্ধু ও বাংলাদেশ একই সুতায় বাঁধা। তিনি এমন একজন রাজনৈতিক কবি যার উচ্চরিত প্রতিটি কথা সবার অন্তরের কথা। তাঁর অপ্রতিদ্বন্দ্বি নেতৃত্ব, প্রজ্ঞা, দুরদর্শিতা, দর্শন, দৃঢ়তা, প্রতিবাদী ও অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপোষ হীনতার অনবদ্য, উজ্জ্বল চিরভাষ্কর দৃষ্টান্ত। কথাগুলো বললেন নওগাঁর বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এ. কে. এম. শহীদুল ইসলাম। ২৬মার্চ মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস ২০২২ উদযাপন উপলক্ষে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন, কর্ম ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা শীর্ষক সেমিনারে তিনি এসব কথা বলেন। বিচার বিভাগ নওগাঁর আয়োজনে জেলা জজ আদালতের সম্মেলন কক্ষে শনিবার সকাল ১০টার দিকে ওই সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। 

জেলা ও দায়রা জজ এ. কে. এম শহীদুল ইসলাম আরো বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন না হলে আজ আমরা যারা এখানে উপস্থিত তাদের পদ-পদবী ধারণ করতে পারতাম না। আমি জজ হতে পারতাম না। স্বাধীনতা অর্জনে বঙ্গবন্ধুর নেতৃত্বের ও তাঁর ত্যাগের তুলনা নেই। আমরা তাঁর অবদান পরিশোধ করতে পারবো না। তিনি বলেন, আমরা চাকুরিজীবিরা চাকর। তাঁর অবদানের কারণেই আমরা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছি। তাঁর ত্যাগকে যেন আমরা ভুলে না যাই। আমরা যেন মুনাফেক না হই। 
জেলা ও দায়রা জজ এ. কে. এম শহীদুল ইসলাম তার ছোট বেলার স্মৃতি চারণ করতে গিয়ে বলেন, আমি তখন ৫ম শ্রেণির ছাত্র। সে সময় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ঝিনাইদহ উচ্চ বিদ্যালয়ে আসার খবর পেয়ে আমি সেখানে গিয়েছিলাম। ছোট হওয়ায় মানুষের ভীড়ের মধ্যে পড়ে আমার প্রায় জীবন নাশ হওয়ার মতো হয়েছিল। তবুও তাঁকে একঝলক দেখতে পেয়ে ভীষণ ভালো লাগছিল। সে সময় একদল আরর্মি কুষ্টিয়া হয়ে তার জন্মস্থানের দিকে যাচ্ছিলেন মাঝ পথে চোরের বিল নামক স্থানে ব্রিজে পাকিস্থানী আর্মিদের গাড়ি পড়ে যায়। সেখানে প্রায় আড়াইশো আরর্মি মারা যায়। পাকিস্থানী আর্মিরা আমাদের নিজ এলাকায় খুব অত্যাচার করেছে। আমাদের স্কুলের আসবাবপত্র তারা নানা কায়দায় পুড়িয়ে দিয়েছেন। এদেশের জনতা তাদের বুকের তাজা রক্ত দিয়ে আমাদের স্বাধীনতা এনে দিয়েছেন। এর জন্য আমরা গর্বিত।
বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ, এ. কে. এম শহীদুল ইসলামের সভাপতিত্বে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিজ্ঞ বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো.  হায়দার আলী খন্দকার , বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-০১ এর বিজ্ঞ বিচারক এবিএম গোলাম রসুল, জেলা আইনজীবি সমিতি নওগাঁ’র সভাপতি মো. খোদাদাদ খান পিটু, জিপি মো. মোস্তাফিজুর রহমান ফিরোজ, পিপি মো. আব্দুল খালেক প্রমুখ। 
জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবন, কর্ম ও বাংলাদেশের স্বাধীনতা শীর্ষক সেমিনারের মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন নওগাঁর যুগ্ম ও জেলা দায়রা জজ-১ এর বিজ্ঞ বিচারক মো. তাজুল ইসলাম মিঞা। অনুষ্ঠানটির সঞ্চালনায় ছিলেন, নওগাঁর সহকারি জজ আফসান ইলাহী এবং মো. আশিকুর রহমান।

এছাড়াও ওই সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ- ২ এর বিজ্ঞ বিচারক হাসান মাহমুদুল ইসলাম, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-২ এর বিজ্ঞ বিচারক মো.  মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-৩ এর বিজ্ঞ বিচারক মো. খোরশেদ আলম, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজউল ইসলাম, বিকাশ কুমার বশাক ও মো. সিরাজুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী জজ মো. শরিফুল ইসলাম, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ও মো. টিপু সুলতান, সহকারী জজ নাজমুল হাসান ও মো. ইব্রাহীম আলী।
তাছাড়া জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির ভারপ্রাপ্ত প্রাশাসনিক কর্মকর্তা এস.এম. হাফিজুল হাসান শুভসহ জেলায় কর্মরত সকল বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাগণ ও সকল বিচার বিভাগীয় কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
অন্যদিকে নওগাঁ জজ শীপ কর্মচারীদের পক্ষে জেলা জজ আদালত নওগাঁর নাজির মো. মাইনুল হক ওই আলোচনা সভায় বক্তব্য দেন। কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ মো. হাবিবুল্যা এবং গীতা পাঠ করেন জগদীশ চন্দ্র।
আলোচনা সভা শেষে বঙ্গবন্ধুসহ দেশের সকল শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনায় দোয়া অনুষ্ঠিত হয়।