যৌন হয়রানিমুক্ত নিরাপদ কর্মক্ষেত্র নওগাঁ জজ শীপ: জেলা ও দায়রা জজ

যৌন হয়রানিমুক্ত নিরাপদ কর্মক্ষেত্র নওগাঁ জজ শীপ: জেলা ও দায়রা জজ

মো. আব্দুল বারি খান: নওগাঁর বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এ. কে. এম. শহীদুল ইসলাম বলেন, নওগাঁ জেলা ও দায়রা জজ আদালত যৌন হয়রানিমুক্ত নিরাপদ কর্মক্ষেত্র। আপনারা কখনও যৌন হয়রানির শিকার হলে কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বন্ধে অভিযোগ ও তদন্ত সংক্রান্ত কমিটির কাছে অভিযোগ দায়ের করবেন। অভিযোগকারীর নাম ও পরিচয় গোপন রাখা হবে। আপনারা নির্ভয়ে আপনার বিরুদ্ধে যে কোন যৌন হয়রানির কথা বলুন। তিনি আরো বলেন, যৌন হয়রানির ব্যাপারে নারী-পুরুষ সবাইকে সজাক ও তর্ক থাকতে হবে। হাত, চোখ, মুখসহ অঙ্গ প্রতঙ্গকে নিয়ন্ত্রন করতে হবে। চোখ দিয়ে সব কিছু দেখা হয় সেই কারণে চোখ থেকেই সব কিছুর শুরু হয়।
মঙ্গলবার (২৯ মার্চ)  বিকেলে নওগাঁ জেলা ও দায়রা জজ আদালত সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত 'যৌন হয়রানিমুক্ত নিরাপদ কর্মক্ষেত্র নারীর অধিকার শীর্ষক কর্মশালায়' সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। 
জেলা ও দায়রা জজ এ. কে. এম. শহীদুল ইসলাম আরো বলেন, এ যুগে ভালো থাকাটা একটা আশ্বর্যজনক ব্যাপার। পরিবার ছেড়ে আমাদের যেহেতু দিনের অধিকাংশ সময়ই অফিসে কাজ করতে হয় সে কারণে আমরা সকলেই নিজেদেরকে নিজেদের ভাই-বোন, কিংবা পিতা-কন্যার মতো ব্যবহার করে কাজ কর্ম করার ব্যাপারেও সু-পরামর্শ দেন জেলা ও দায়রা জজ এ. কে. এম শহীদুল ইসলাম। 
তিনি আরো বলেন, যৌন হয়রানি কিংবা অন্য কোনো হয়রানিই হোক না কেন অন্যায়ভাবে কোনো কিছুই করা যাবেনা । সকলের সাথে সকল সম্পর্কে অনুসরনীয় এবং অনুকরণীয় হিসেবে নিজেকে গড়ে তুলতে হবে। একে অপরের সহযোগিতায় সকলকে এগিয়ে আসার আহবানও জানান তিনি। এছাড়াও সংবাদকর্মীদের যৌন হয়রানিমুক্ত নিরাপদ কর্মক্ষেত্রে নারীর অধিকার নিয়ে বিভিন্নভাবে জনসচেতনতামূলক সংবাদ প্রকাশের আহবান জানান বিজ্ঞ সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ এ. কে. এম. শহীদুল ইসলাম।
তিনি বলেন, দেশের প্রত্যেকটি অফিসে এমন একটি করে কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে যাতে করে ওই অফিসে ঘটে যাওয়া বিভিন্ন যৌন হয়রানির শিকার নারীরা প্রতিকার পায়।
আলোচনা সভায় জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার ও সহকারী জজ আইভীন আক্তারকে সভাপতি এবং সহকারী জজ আশিকুর রহমানকে সদস্য সচিব করে কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি বন্ধে অভিযোগ ও তদন্ত সংক্রান্ত ৯সদস্য বিশিষ্ট একটি কমিটি গঠন করা হয়। অন্যান্য সদস্যরা হলেন, বিজ্ঞ সিনিয়র সহকারি জজ মো. শরিফুল ইসলাম, বিজ্ঞ সহকারি জজ আফসান ইলাহী মিলা ও মো. আশিকুর রহমান, জেলা জজ আদালতের নাজির মো. মাইনুল হক, জেলা জজ আদালতের নকল বিভাগের প্রধান তুলনা সহকারি সাইদুর রহমান, সহকারি জজ আদালত ধামইরহাট এর হিসাব রক্ষক মোছা. শাকিলা আকতার, ২য যুগ্ম জজ আদালতের রেকর্ড সহকারি মোছা. আরভি আকতার এবং মহাদেবপুর সহকারি জজ আদালতের হিসাব রক্ষক রেবেকা সুলতানা ।
ওই কর্মশালায় আরো বক্তব্য রাখেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-২ এর বিজ্ঞ বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) মো. হায়দার আলী খন্দকার, বিজ্ঞ চীফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. আশরাফুল ইসলাম, অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ-০১ এর বিজ্ঞ বিচারক এবিএম গোলাম রসুল, জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার (সহকারি জজ) আইভীন আক্তার, জেলা জজ আদালতের নকল বিভাগের প্রধান তুলনা সহকারি মো. সাইদুর রহমান, ২য় যুগ্ম জেলা জজ আদালতের রেকর্ড সহকারি আরভি আকতার, মাহদেবপুর সহকারি জজ আদালতের হিসাব রক্ষক রেবেকা সুলতানা প্রমুখ।
এছাড়াও ওই সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন, যুগ্ম ও জেলা দায়রা জজ-১ এর বিজ্ঞ বিচারক মো. তাজুল ইসলাম মিঞা,  যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-২ এর বিজ্ঞ বিচারক মো.  মাহবুবুর রহমান, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ-৩ এর বিজ্ঞ বিচারক মো. খোরশেদ আলম, সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. তাজউল ইসলাম, বিকাশ কুমার বশাক ও মো. সিরাজুল ইসলাম, সিনিয়র সহকারী জজ মো. শরিফুল ইসলাম, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট সাইফুল ইসলাম ও মো. টিপু সুলতান, সহকারী জজ নাজমুল হাসান ও মো. ইব্রাহীম আলীসহ জেলায় কর্মরত বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকগণ, জেলা জজ আদালতের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. ওবাইদুল হক বসুনিয়া, জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির ভারপ্রাপ্ত প্রাশাসনিক কর্মকর্তা এস.এম. হাফিজুল হাসান শুভসহ জেলায় কর্মরত সকল বিচার বিভাগীয় সাহায়ককর্মচারীগন উপস্থিত ছিলেন।
নওগাঁর সহকারি জজ আফসান ইলাহী মিলার সঞ্চালনায়  শুরুতেই কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ মো. হাবিবুল্যা এবং গীতা পাঠ করেন জগদীশ চন্দ্র।
এ সময় যৌন হয়রানিমুক্ত নিরাপদ কর্মক্ষেত্র নারীর অধিকার নিয়ে নওগাঁ বিচার বিভাগ কর্তৃক উপস্থিত সকলের মাঝে একটি লিপটেল বিতরণ করা হয়।  ‘যৌন হয়রানিমুক্ত নিরাপদ কর্মক্ষেত্র নারীর অধিকার’ শীর্ষক কর্মশালায় এবং ওই লিফলেটের মাধ্যমেও যৌন হয়রানি কি? প্রতিরোধ মূলক ব্যবস্থা, যৌন হয়রানির শিকার হলে করণীয়, গৃহীত পদক্ষেপসহ নানা বিষয় নিয়ে চুল চেরা আলোচনা করা হয়েছে।