গোয়েন্দা নজরদারিতে দেশের করিডোর মহাসড়ক নেটওয়ার্ক

গোয়েন্দা নজরদারিতে দেশের করিডোর মহাসড়ক নেটওয়ার্ক

নিউজ ডেস্ক: গোয়েন্দা নজরদারি ব্যবস্থায় নিয়ে আসা হচ্ছে করিডোর মহাসড়ক নেটওয়ার্ককে। সড়কে চলাচলকারী প্রতিটি যানবাহনকে রিয়েল টাইম সার্ভিলেন্সের আওতায় আনার লক্ষ্যে বাংলাদেশ এই বিদ্যমান সড়ক মাস্টার প্ল্যান ও বিধিমালাগুলো বিশ্লেষণ করে সড়ক অবকাঠামো এবং সড়ক ব্যবস্থাপনাকে ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (আইটিএস) প্রযুক্তির সাথে সংযোগ স্থাপন করবে। এতে দুর্ঘটনা, যানজট, গতিসীমা অতিক্রমকারী গাড়ি শনাক্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ সম্ভব হবে। এ জন্য বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে ১১৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকা ব্যয়ের প্রকল্প প্রস্তাব করা হয়েছে। তবে অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক স্থাপনে খরচের আকার নিয়ে আপত্তি তুলেছে পরিকল্পনা কমিশনের ভৌত অবকাঠামো বিভাগ বলে কমিশন সূত্রে জানা গেছে। এ দিকে হাইওয়ে পুলিশ এই সিস্টেমে প্রবেশের সুযোগ চেয়েছে। তা না হলে তাদের পক্ষে তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিকার করার সুযোগ হবে বলে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে।

সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ইন্টেলিজেন্স ট্রান্সপোর্ট সিস্টেম (আইটিএস) প্রবর্তনের মাধ্যমে ‘জাতীয় মহাসড়ক করিডোরের নিরাপত্তা’ শীর্ষক একটি ১১৫ কোটি ৪৬ লাখ টাকার প্রকল্প প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে আইটিএসের মাস্টারপ্ল্যান প্রস্তুত করা, সওজের সদর দফতরে ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টার স্থাপন এবং পাইলটিং হিসেবে এন-৮ এর ৪০ কিলোমিটার সড়কাংশের আইটিএস প্রয়োগ করা হবে। সাড়ে তিন বছরে এই প্রকল্পটির কাজগুলো বাস্তবায়ন করা হবে।

সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদফতরের তথ্য বলছে, আইটিএ সিস্টেমে সড়ক নেটওয়ার্ককে একটি একক নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় আনয়নের মাধ্যমে সড়কে যানবাহনের পরিমাণ, গতি, দুর্ঘটনা ইত্যাদি তথ্য তাৎক্ষণিকভাবে সড়ক পর্যবেক্ষণের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইউনিট, ট্রাফিক ম্যানেজমেন্ট সেন্টারের (টিএমসি) কাছে প্রেরণ করা হয়। তারা প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রেরণ করবে। ফলে সময় ও জ্বালানি সাশ্রয়ী, যানজট ও দূষণমুক্ত এবং সর্বোপরি দুর্ঘটনামুক্ত একটি দক্ষ সড়ক নেটওয়ার্ক ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়। আইটিএস প্রযুক্তির বিষয়ে এবং আইটিএস পরিচালনার সাথে সম্পৃক্ত জনবলের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য প্রশিক্ষণ প্রদান করা হবে।

এ বিষয়ে পর্যালোচনায় হাইওয়ে পুলিশ বলছে, বাংলাদেশ পুলিশ ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে একই ধরনের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। যেখানে চারটি টিএমসি স্থাপন করা হচ্ছে। আর প্রস্তাবিত প্রকল্পটির আওতায় সওজের প্রধান কার্যালয়ে একটি মাত্র টিএমসি স্থাপন করা হয়েছে। ফলে যানবাহনের রিয়েল টাইম সার্ভিলেন্স তথ্য হাইওয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে পাবে না। তাৎক্ষণিক প্রতিকারের জন্য হাইওয়ে পুলিশ সদর দফতরে একটি টিএমসি স্থাপন করতে হবে। হাইওয়ে পুলিশকে সিস্টেমে প্রবেশের সুযোগ দিতে হবে।

প্রস্তাবনা থেকে জানা গেছে, প্রকল্পের আওতায় টিএমসি স্থাপনসহ ভেরিয়েবল মেসেজ সাইন, স্পিড ক্যামেরা, সিসি ক্যামেরা ইত্যাদি যন্ত্রপাতি বা সরঞ্জামাদি কেনা হবে। যা উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা কোইকা কর্র্তৃক সরাসরি ক্রয় করে সরবরাহ করা হবে। এ খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৭৬ কোটি ৬২ লাখ ৮৩ হাজার টাকা। জিওবি খাতে পরামর্শকের ব্যয় রাখা নিয়ে ভৌত অবকাঠামো বিভাগ থেকে আপত্তি তোলা হয়েছে। পরে এই খাতের খরচ ১০ কোটি টাকায় কমিয়ে আনার জন্য বলা হয়েছে।

প্রকল্পে জনবলের অর্গানোগ্রাম অনুমোদনের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমোদিত হলে প্রকল্পটি শেষে রাজস্ব খাতের মাধ্যমে টিএমসি পরিচালনা করা হবে।

পূর্ত কাজের জন্য খরচ ধরা হয়েছে ১০ কোটি ১৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা। এই ব্যয় অত্যধিক বলে পরিকল্পনা কমিশন মনে করছে। তারা বলছে পূর্ত কাজের অংশ হিসেবে ইনস্টলেশন, টেস্টিং এবং কমিশনিং ও অপটিক্যাল ফাইবার নেটওয়ার্ক স্থাপন অঙ্গে মোট ৩ কোটি ৭ লাখ ৫৯ হাজার টাকা প্রক্কলন করা হয়েছে। প্রস্তাবনায় দেয়া বাজার দর পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, এ অঙ্গের সম্ভাব্য ব্যয় ১ কোটি ৪৫ লাখ ৩৬ হাজার টাকা। যা প্রত্যাশিত ব্যয়ের তুলনায় অর্ধেক।

ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের রাস্তা পূণঃনির্মাণের ক্ষতিপূরণ বাবদ ১ কোটি ৬৯ লাখ ২৫ হাজার টাকা ধরা হয়েছে। এই ব্যয় দুই সিটির চাহিদা মোতাবেক ধরা হয়েছে বলে সওজ জানায়।

এ দিকে প্রকল্পটি নিয়ে পর্যালোচনা সভায় ডিএমটিসিএলের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলেন, প্রকল্পের আওতায় পরামর্শক নিয়োগের ক্ষেত্রে বাংলাদেশে বিদ্যমান আইনে পরামর্শকদের জন্য প্রফেশনাল লাইসেন্সের প্রয়োজনীয়তা আছে কিনা তা পরীক্ষা করে দেখতে হবে। এ ছাড়া কোনো ধরনের দুর্ঘটনা হলে কিভাবে দুর্ঘটনাকবলিত ব্যক্তি ও যানবাহনকে উদ্ধার করা হবে তা প্রস্তাবনায় উল্লেখ থাকা প্রয়োজন।

ভৌত অবকাঠামো বিভাগ বলছে, প্রস্তাবনাটি গভীরভাবে পর্যালোচনা করে কিছু সুপারিশ দেয়া হয়েছে।