নওগাঁর রাজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সৎ হলে সরকার ১’শ ৩৭ কোটি টাকা রাজস্ব পেতে পারে

নওগাঁর রাজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সৎ হলে সরকার ১’শ ৩৭ কোটি টাকা রাজস্ব পেতে পারে

মো: আব্দুল বারি খান: একবার খারাপ কাজ করতে হাত কাঁপে। পরের বার খারাপ কাজ করতে ভয়ভয় লাগে। এর পর ইত্যাদি। কোনভাবে একবার অপরাধের অভ্যাস হয়ে গেলে ওই সকল অসৎ ব্যক্তিরা খুব মজা পায়। বেড়ে যায় তাদের বুকের পাটা এবং লম্বা হতে থাকে তাদের অপরাধের হাত। অপরাধ সংগঠনের মুহুর্তে তাদের অন্তর কাঁপলেও সম্ভাবনা খুবই কম থাকে। কোন অফিসেরই সকল অফিসার অসৎ বা খারাপ নয়। দু’একজন অসৎ কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারণে পুরো অফিসের ভাল ভাল অর্জনগুলো ম্লান হয়ে যায়। সেই সাথে সরকারেরও বদনাম হয়। সরকার যায়, সরকার আসে। আবার অফিসের অফিসার বদলি হয়; সেখানে অন্য অফিসার এসে যোগদান করে এটাই নিয়ম। সমাজে অসৎ নেতারা অসৎ উদ্দেশ্যে অফিসারদের ব্যবহার করে। কিন্তু অফিসাগণ যদি তাদের মূল্যবান স্বাক্ষরগুলো সরকারের ওই সকল কাগজ পত্রে না দেন তাহলে আর কেহ অসৎ হতে পারবেনা। মন্ত্রী, এমপি ক্ষমতায় আসে সীমিত সময়ের জন্য কিন্তু ওই সকল অফিসারদের স্বাক্ষর পরিবর্তন হয়না। যুগ যুগ থেকে যায়। তাদের স্বাক্ষরে অনেকের জীবন, মরণ, সম্পদ রক্ষাসহ কতকিছুইনা রয়ে যায়। 
নওগাঁয় অসৎ কর্মকর্তা কর্মচারীর কারণে রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। তাদের খুঁটির জোর কোথায়? নওগাঁর রাজস্ব কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সৎ, ন্যায় ও নিষ্ঠাবান হলে সরকার ১’শ ৩৭ কোটি টাকা রাজস্ব পেতে পারে। সরকারের উন্নয়ন ও অর্জনকে আরো গতিশীল করার লক্ষ্যে রাজস্ব অফিসের তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে নওগাঁ রাজস্ব অফিসের কর্মকর্তাদের সাথে বার বার যোগাযোগ করা হলে তারা কোন ভাবেই তথ্য দিয়ে সহযোগীতা করছেননা। তারা শুধু বিভাগীয় দায়িত্বশীদের দেখাচ্ছেন। সব তথ্য যদি বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব শাখা) বা দায়িত্বশীরাই দেন তাহলে নওগাঁ জেলা অফিসের কর্মকর্তারা কি করছেন?
নওগাঁ জেলা কর্মকর্তাদের সাথে ফোনে এবং অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করা হলে তারা পরিচয় পর্বসহ শুরু আলোচনায় এমন ব্যবহার করছেন মুখে মধু অন্তরে বিষ। 
শুরুতে রাজস্ব কর্মকর্তা লুৎফর রহমানের সাথে কথা বার্তা ও আলাপ চারিতায় মনে হবে কোন দরবেশের সাথে কথা হচ্ছে। কিন্তু যখনই তার অফিসের ব্যপারে কোন কিছু জানতে চাইবেন তখন তার আচরণে মনে হয় গরম তেলের উপর পানি পড়েছে। তিনিও কি অসৎ কর্মকর্তা কর্মচারীদের কাতারের লোক? কোন ভাবেই তিনি কোন কথা বা তথ্য দিতে রাজি নয়। 
অন্যদিকে ডেপুটি কমিশনার ও বিভাগীয় কর্মকর্তা আবুল কাশেম চৌধুরী নওগাঁর সঙ্গে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি তার অফিসে স্ব শরিরে গিয়ে যোগাযোগ করতে বলেন। তার কথা মতো তার অফিসে তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে গেলে তিনিও অফিসে উপস্থিত থাকার পরও বিটিবি নিউজের সম্পাদক ও প্রকাশকের সাথে কথা বলতে রাজি হননি। তার এক কর্মচারী বলেন, স্যার আজ আপনার সাথে কথা বলবেন না। আপনাকে আগামীকাল আসতে বলেছেন। পরের দিন মুঠোফোনে তার অফিসে যাওয়ার ব্যপারটি নিশ্চিত করতে চাইলে তিনি বলেন, আমি তো জানি না আপনি আমার অফিসের গতকাল এসেছিলেন। একজন কর্মকর্তা এধরনের মিথ্যার আশ্রয় কেন নেন? অপর প্রশ্নের জবাবে তিনি বিটিবি নিউজের সম্পাদককে বলেন, আমার অফিসে শুধু চা খেতে আসতে পারবেন অন্য কোন তথ্য নিতে নয়। কোন তথ্যের প্রয়োজন হলে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয় থেকে আপনাকে সংগ্রহ করতে হবে। সরকারের ডিজিটাল উন্নয়নের নওগাঁ রাজস্ব অফিসের ওয়েব পোটালের তথ্য জানতে চাইলে তিনি রাগান্বিত হয়ে বলেন, কেন আপনি আমাকে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলেন। তিনি নওগাঁর অফিসে গত ক’মাস ধরে দায়িত্ব পালন করলেও নওগাঁ রাজস্ব অফিসের http://customs.naogaon.gov.bd/ এই ঠিকানায় তার কোন নাম পদ পদবী নেই। যার নাম আছে তিনি হলে জাহিদুল ইসলাম, ডেপুটি কমিশনার ও বিভাগীয় কর্মকর্তা এর নাম ও ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর আছে। ওই তালিকায় অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারীর নাম ঠিকানাতেও একই ভুল আছে। যাদের নাম ও মোবাইল নম্বর আছে তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তারা কেউ রাজশাহী, পাবনাসহ দেশের বিভিন্ন জেলাতে দায়িত্ব পালন করছেন। একটি ওয়েব পেজের নামের তালিকা পরিবর্তন করতে কত মাস লাগে? প্রশ্ন আপনাদের কাছেই রইল। 
চলবে ......................................